Saturday, 27 December 2014

জাগরণ






স্বপ্নেরও ছাত আছে ,
                 সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে হাঁসিমুখ নারী ,
দুপুরের রোদ এসে
                 যখন তা ওঠে হেঁসে -মেলে দেয় শাড়ি।

সেগুন যখন রোদে দগ্ধ হোয়ে
                জড়িয়ে ধরতে চায় বাতাসের দেহ  -
আমি তা দেখেছি ,শুধু এ ঘটনা
                           চোখ খুলে দেখে না তো কেহ।

সেগুন ,আমি ও নারী  -
           থাকে না তো কেউই এই নিদ্রা ভেঙে গেলে ,
যেমন থাকে না কিছু
          যখন সময় এসে সব কিছু দেয় ঠেলে ফেলে

গভীর সাগর জলে ,
           যখন অনন্ত শুধু জন্ম দেয় গভীর জীবন ,
চারিদিকে অন্তহীন ,অতল এ অন্ধকারে
                                  গড়ে নিয়ে সব জাগরণ।



Friday, 26 December 2014

চেনা পৃথিবীটা





চেনা পৃথিবীটা পালটে যাচ্ছে দ্রুত ,
যে সুরে বাজতো সে তো আজ অশ্রুত।
ভেঙে যায় গৃহ ,পুরানো সে বৃক্ষটি ,
হাঁটতে লাগছে ,ছেঁড়া ব্যবহৃত চটি।

বন্ধুর মন ভেঙে আরও বন্ধুর ,
কচি -হাতে আজ গলায় -চালানো ক্ষুর।
সূর্যটি ঢাকা ,কার্বন -ভরা মেঘে ,
তবু তো পৃথিবী ছুটছে তেমনই বেগে।

ক্ষয় -রোগ এসে ধরেছে যে তার বুক ,
শান্তির ঘরে বসে আছে উজবুক।
অদম্য -কাশি আনে শোনিতের স্রোত ,
ঢেউ-এর দোলায় দোলে অর্ণব -পোত্।

স্বর্গ তো নয় ,পাতালের গহ্বরে
টেনে নিয়ে যায় ,সূর্য -না -ওঠা ভোরে।
লেগে যায় কাদা শরীরে গভীরে দেহে ,
চেনা লোক এসে ডেকে বলে তুমি কে হে ?

চেনা তো যায় না চেনা এই পৃথিবীকে ,
সবুজ পাতারা শবাধারে দিকে দিকে।
বহে যায় নদী -জলে প্লাস্টিক -চেনা ,
এ অধোপতন সাধুজন মানবে না।

        ..................... 

Saturday, 20 December 2014

হে ঈশ্বর










পাকিস্তানের পেশওয়ার-এ আর্মি পাবলিক স্কুলে , তালিবান নামক অমানুষদের মস্তিস্ক -বিকৃতি জনিত 
তান্ডবে একশ বত্রিশ জন শিশু ও আট জন শিক্ষক অশিক্ষক কর্মচারীর প্রয়াণে নিবেদিত :- 


রূপকথার বই থেকে " রাক্ষস  "শব্দটি হঠাত জীবন্ত হয়ে উঠলো আর
বোধশক্তিহীন হয়ে হাতের ধারালো নখরে ছিন্ন ভিন্ন করে দিল সারি সারি
লাল ফুটন্ত গোলাপ ,তীব্র প্রতিশোধ স্পৃহায়। আর অসহায়
শান্তিপ্রিয় মানুষের মনের বারান্দায় জ্বলে উঠলো দুঃখের বাতিদান। আলো হয়ে উঠলো
বারান্দার মেঝে ও বাগানের মাটি আর স্তব্ধবাক হয়ে রইলো মানুষের বোধশক্তি।
মানুষ বোধহয় আর মানুষ নেই  - হয়ে উঠেছে রূপকথার নিষ্ঠুর রাক্ষস সত্যি সত্যি।
কোনো দ্বিধা নেই। দুমড়ে মুচড়ে একটি অবোধ -কান্নার -ঢেউ বুকের গভীর থেকে
উঠে মুক্তি খুঁজছে ,ঝাপটাচ্ছে ডানা  - মানুষকে মানুষ করো ,হে ঈশ্বর।
                   

রাম ও রহিম






দেখিনি তো ওপাড়ায় কোনোদিন তোমার মুখের মতো মুখ ,
মনের ভেতরে এক নীলাকাশ ডানা মেলে  ,হতভম্ভ যেন সর্বভুক।
আমি দেখি ,এখনও জাগ্রত আছে আলোর সমুদ্র জুড়ে আমার খোরাকি ,
পেরিয়ে ছেষট্টি নদী ,কিছুই করিনি আমি ,কত যে রয়েছে পড়ে বাকি।

পড়ে আছে  কত ইট ,বালি ও পাথর আর সিমেন্ট-এ ভরা বস্তা গুলি ,
কিছু কাক কালো ডানা ,বসে বসে দেখে সব ,আমি চুষি সরস অঙ্গুলি।
আমি তো দেখিনি কিছু ,ওই মহাকাশে যত পড়ে আছে আলোকের ডিম -
যা ফুটে পায়রা হবে ,শাদা আলোকের মত -একই শরীর জুড়ে রাম ও রহিম।

                          ........................................


Saturday, 6 December 2014

ধানসিঁড়ি





এই সেই ধানসিঁড়ি নদী  -
যার বুকে আবেগের বিশাল জলধি।
ভালোবেসে যাকে সেই আর্তনাদী -কবি ,
আবার জন্মাতে চান , পূর্ণতার ছবি

চান তিনি পৃথিবীতে , এই বাংলায় ,
ডিমাপুর থেকে এই নদী ভেসে যায় ,
পেরিয়ে পাহাড় পথ সুপ্ত মরুভূমি  -
ধানসিঁড়ি হয়ে এই আমার হৃদয়ে আছ তুমি।

কেনো তুমি ধানসিঁড়ি  , কেনো নও যমুনা -বিলাসী ,
বেনারস -ছোঁয়া গঙ্গা -আমি তো তোমাকে ভালোবাসি।
ছোট হোয়ে আছ তুমি এই উষ্ণ তপ্ত ডিমাপুর-এ ,
তোমার চোখের ছোঁয়া ,আমার বুকের রোদ্দুরে।

খেলা করে যেমন জলের মাছ ,বনাঞ্চলে পাতা ,
তুমি এসে দাঁড়ালে আমার পাশে বিশ্ববিধাতা।
তুমি-ই আলোক তুমি মোমবাতি ,তুমি ধানসিঁড়ি ,
তোমার পায়ের কাছে চাঁদের নিভৃত প্রেম নিয়ে শুধু ফিরি।

                 .................................

Sunday, 9 November 2014

আজও বসন্ত





বালিয়াড়ির গা ছুঁয়ে নারিকেল গাছের সারি ,
এক অন্তহীন সমুদ্রের খোঁজে
ঘুরছে বাতাসের ঝাঁক।
মলিন বসন ছেড়ে ফেলো ও হতাস শঙ্খচিল -
বাতাসে ভাসাও চিরদিনের সঙ্গী ওই ডানা।

বনের ভিতর ঘুরে বেড়ায় বনিক ,
পিপড়ের সারির মতো শেষ হয় না তার লোভ।
একটার পর একটা সিগারেটের মতো
লোভের জ্বলন্ত স্টিক হাতে
বোম -ভোলানাথ হোয়ে বসে আছে মুহুর্তগুলি।
অথচ  , বালিয়াড়ির উপরে
নারিকেল গাছের গা ছুঁয়ে
ঘুরছে বাতাসের ঝাঁক।

মেঘেরা মাছ হয়ে খেলছে লুকোচুরি।
শ্রাবণী -পূর্ণিমার না আছে শ্রাবণ ,
না আছে পূর্ণিমা।
শুধু বলার জন্যে বলা
ছেলে ভুলোনো ছড়া।
ঘুরে বেড়াচ্ছে বাতাসের ঝাঁক -
অবিস্মরণীয় মুহুর্তগুলি  ,
বিন্দুর পুর্ণতাগুলি
ছবি থেকে বিচ্ছিন্ন হোয়ে যেতে লাগলো ,
তবু শীত শেষ হোলে বসন্ত আসে আজও।

    ......................................... 

বাড়ি যাবার সময় হলো বোধহয়






সূর্য নেমে যাচ্ছে ঐ ধুসর পাহাড়ের পিছনে  ,
তার অস্ত গমনের কাল হলো।
চলুন  , পথ ছেড়ে বাড়ির দিকে যাই।
অনেক হাঁটা হলো ,কসরত হলো অনেক  ,
সূর্য অস্ত যাচ্ছে পাহাড়ের পিছনে  ,
চলুন  , বাড়ি যাই।

নদীর ঘাটে পাল তুলেছে মন পবনের নাও  ,
উল বোনা শেষ ,
পথের উপরে পড়ে আছে ফুলগুলি ,
সূর্য নেমে যাচ্ছে।
অনেক তো ঘোরা হলো পরশ পাথরের খোঁজে  -
বালির উপরে গড়ে উঠলো বালির দোতলা ,
ছুটে এলো হাওয়া ,
সূর্য নেমে যাচ্ছে ঐ ধূসর পাহাড়ের পিছনে।

মৌমাছিটা অনেকক্ষণ ধরে ঘুরছে ,
চিত্কার করছে হতাস কুকুরগুলি।
জানলা খোলা  -
পার্লারের বারান্দায় যুবতী মেয়ের ভিড়  ,
বাজারের আলু পটল কুমড়ো মাছ ,
সূর্যটা ডাকছে।
চলুন  , বাড়ি যাবার সময় হলো বোধহয়।

       .......................................... 

Saturday, 8 November 2014

অনন্ত শান্তির কোলে






তোমার পায়ের কাছে যেখানে শুয়েছে রোদ জানুর উপরে  ,
আমার এ দেহ খানি সেখানেই থাক শুয়ে  , নয় অন্য ঘরে।
বৃক্ষেরা জটলা ভেঙে যখন হেঁটেছে পথে জনারণ্যে একা  ,
জলহীন মরুভূমি  , সেখানে তোমার সঙ্গে আমার হোক দেখা।

মরুদ্যান খুঁজি নাকো  , ফুল্ল বাগানবাড়ি কিম্বা নীলাকাশ  ,
কিম্বা ডিমের মধ্যে যেখানে জীবন শুয়ে পূর্ণ অবকাশ  ,
অরণ্য -সংকুল পথে  , মনের কামনা এই - মানুষ বৃক্ষের মত হোক ,
সর্বত্র শান্তির জল  , অগভীর সন্ত্রাসের পশ্চাতে নেই কোনো শোক।

তোমার পায়ের কাছে যেখানে নদীর জল বহে যায় ধীরে শব্দহীন ,
বিশাল প্রান্তরে শষ্য সুগন্ধ ছড়িয়ে হয় যেখানে  বিলীন  ,
রাত্রি গভীর হলে  , যেখানে অসীম এসে ছুঁয়ে দেয় সীমার প্রাচীর ,
সেখানেই শুয়ে থাকবো  , অনন্ত শান্তির কোলে মাথা পেতে স্থির।

                     ......................................

Wednesday, 5 November 2014

আলোর সোনালী তীর






জানলাগুলি খুলে দিলে ডানা মেলে ঢুকে আসে রোদ  ,
সবুজ বনের পাখি আমজাদ খান হয়ে বাজায় সরোদ। 
বাইরে অনেক হাওয়া ছোটে যেন ব্যস্ত নিউ ইয়র্কের গাড়ি  ,
শীতের বরফে ঢাকে রাস্তাঘাট বনাঞ্চলে ঢাকা এক বাড়ি। 

বাইরেটা অন্ধকার  , এখনও তো সকালের আলো ফুটতে দেরি ,
নারকোলের পাতা দোলে ,ঝাঁকড়া -চুল দৈত্য যেন রাবণের চেরি। 
আলোর সোনালী তীর যখন বিদ্যুতবেগে বিঁধে যাবে বুকে ,
উদ্ভাসিত হবে সব ,মস্তিষ্ক হৃত্পিণ্ড অন্ত্র ,দরজা ঠেলে ঢুকে। 

              .........................................

Tuesday, 4 November 2014

চাতকের জল






রক্তের রাজপথে পথ কাটে গন্ধভরা ফুল ,
এ যেন মেঘের ছাতে মেলে দেওয়া মেঘবতী চুল।
বৃষ্টির মুখোমুখি পাতা থেকে হাত নাড়ে মৃদু ক্লোরোফিল ,
আকাশে সুগন্ধী হাওয়া ,ডানা মেলে সুস্বভাবী চিল।

শুধু এক গন্ধ নয় ,জেগে আছে ভ্রমর -কাঁপানো অন্ধ -টান ,
রাজপথে ফোটা ফুল ,বাতাসে শব্দের গানে ভোরের আজান।
জীবনের জানলা খোলা ,ঢুকে আসে আলোময় ফুল ,
রক্তের ভেতরে ফুলে জেগে  থাকে সুগন্ধী পথের নির্ভুল।

ফুলের নরমে তুমি ,জেগে আছ শুদ্ধ মুখ গাছের বাকলে ,
নিদ্রা -জাগরণে আছ ,শাখায় শাখায় ফুলে ফলে।
রক্তের রাজপথে নদীর মতন হাঁটে সুগন্ধী -তরল ,
আমার এ উষ্ণ গ্রীষ্মে ,তুমি আছ একমাত্র চাতকের জল। 

Sunday, 2 November 2014

পথে যেতে ডেকেছিলে মোরে।........Translation Of Rabindranath's Song





পথে যেতে ডেকেছিলে মোরে।
পিছিয়ে পড়েছি আমি ,যাব যে কি করে ?
এসেছে নিবিড় নিশি ,পথরেখা গেছে মিশি  -
সাড়া দাও ,সাড়া দাও ,আঁধারের ঘোরে।
ভয় হয়, পাছে ঘুরে যত আমি যাই তত যাই চলে দূরে  -
মনে করি আছ কাছে ,তবু ভয় হয় , পাছে
আমি আছি তুমি নাই কালি নিশিভোরে।

While rambling down the road , you send me a call .
Lagging behind , how do you think
                                I can catch up with you at all .
The deep dark night pervades all over ,
Specific signs of trail remains smudged
                                             with the color of tar .
Respond , O my friend , you respond please
                   from among the dark , for God's sake .
I'm afraid I'm being drifted far away while on trek .
I feel with all the fair intent , you are nearby ,
Yet a fear gets on top of me to lie -
While I'm not there , you live on  ,
Tomorrow , beyond the night when the light
                                                         does it all .

           ................................................

শব্দ যাবে দিগন্তে আজ





শব্দ যাবে দিগন্তে আজ
                      শব্দ যাবে ঘরে  ,
শব্দ যাবে বাউল -মেলার
                    স্পন্দিত প্রান্তরে।

আকাশ বাতাস ব্যাকুল করে
                  অক্ষর যায় ছুটে  ,
আত্মবলিদানের আশা
                     দীন এ পত্রপুটে।

সবুজ বৃক্ষে বৃষ্টির জল
                   শব্দে বাঁধে গান ,
মলিন বস্ত্র ,ছিন্ন চাদর
                     এখনও অম্লান।

শব্দ ভালোবাসায় আমি
                   বসেছি হাঁটু গেড়ে ,
ইচেছ মনে ভাসাবো ডানা
                  সমস্ত কাজ ছেড়ে।

শব্দ তুমি দিগন্তে যাও ,
                      শব্দ এসো ঘরে ,
শব্দ ঘাসে উত্তেজনা
                     সবুজ এ প্রান্তরে।     

Sunday, 26 October 2014

তোমাকে দেখি অরুণাভ আলোয়






সিংহের মতো গর্জন কোরে এগিয়ে আসছে ঢেউগুলি  -
পর্দাটা সরিয়ে দাও ,শ্রাবণের বর্ষার মতো ঢুকে আসুক 
তরল অগ্নিময় আনন্দ , আর ফেনময় সোডার মতো সুখ। 

সূর্য উঠছে চোখের পাতায় ,নাশারন্ধ্র দিয়ে বয়ে চলেছে 
অবিরাম দক্ষিণের পবন  - বসন্তের দেরি নেই আর ,
ফুটে উঠেছে ফুটে ওঠার আনন্দ চারিদিকে ,ফুলকাটা 
পর্দার মতো চারিদিক ভাসিয়ে এগিয়ে আসছে সজাগ অনুভূতি 
তুমি মুখ ঘোরাও - তোমাকে দেখি অরুনাভ আলোয়।     

নিয়তি






এই তো একটু আগে ,ভালোবাসা বসেছিলো
                                            প্রজাপতি হোয়ে ঘাসফুলে  -
কাঁটা হোয়ে গৃহিনীর সোয়েটার বুনবার পেলব ওই ঊলে।
এই তো একটু আগে যে দোয়েল কর্মকান্ডে লুকোলো বাসায় ,
আমারও তো চোখ যায় ,তার খোঁজে ,তার পিছু পিছু
                                                                  চলে যায়।

বিরাট আকাশ এসে নীল হোয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বারান্দায় ,
এতো কাছে ,যদি চাই ,হাত ধরে কথা বলা যায়।
আড়া মোড়া ভেঙে নেয় সামনের সুন্দরী দশ তলা বাড়ি ,
দাঁত মেজে রেডি হোয়ে মাঠে যাবে দৌড়ুতে ,বার করে গাড়ি।

ভালোবাসা শুয়োপোকা হোয়ে দেখে চোখ তুলে চেয়ে ,
ভালোবাসা উঠে যায় ভালোবাসা দেবে বোলে ,গাছ বেয়ে বেয়ে।
পাতাদের কাছে তার সখ্যতা আছে ,আছে উন্মীলন।
মৃত্যুকে বরণ কোরে হবে তার নতুন জীবন
                                                          হোয়ে প্রজাপতি  -
পালটে পালটে যায় ভালোবাসা ,এ তার নিয়তি।

                       ........................ 

Saturday, 25 October 2014

জামার হাতায় রেখে মন





জামার হাতায় রেখে মন ,আমি ঘুরেছি বিজন -
আত্মার আত্মীয় হোয়ে সাজিয়েছি ঘাসের এ বন।
বৃক্ষের ছায়ায় এসে ছলচ্ছল  নদী হোয়ে ভেসে গেছি দূরে ,
আমার এ অন্ধকারে আলো হোয়ে এলো ওই শব্দ অশ্বক্ষুরে।

ভ্রমন -পিপাসু রক্তে ,জীবনে হতাশা নয় ,সন্ধ্যার ছন্দ দিয়ে বাঁধা ,
আমি জানি হাঁটু গেড়ে ,বিশুদ্ধ এ পথ ছুঁয়ে ,দীর্ঘ ক্ষণ ধরে শুধু  কাঁদা।
পথের দুধারে শুধু অরণ্য -মদির মেঘ দাঁড়িয়েছে ,পতাকাটি নড়ে ,
তোমার ও পায়ে মন ,না জানি কতক্ষণ ,সময়ের অশ্রু গুলি ঝরে।

এখনও তো মগ্ন হোয়ে আছি ওই ধরে হাত তোমার বাগানে ,
বিভিন্ন ফলের রসে -আমের ,জামের ,বন্ধু ভ্রমরও তো আনে ,
দূরের পাহাড় থেকে মেঘে -ভাসা পাতাটির মনের বকুল
এখনও তো পাই টের ,গভীর গভীরে ফের কেঁপে ওঠে স্বর্ণময়ী দুল।

                     ........................................


Tuesday, 21 October 2014

খুলে যায় হৃদশতদল






কোনো যুদ্ধ নেই অন্ধকারের সঙ্গে অন্ধকারের
                আলোর সঙ্গে আলোর
      যুদ্ধ শুধু অন্ধকারের সঙ্গে আলোর
                শাদার সঙ্গে কালোর

বাগবাজারের গঙ্গার ঘাটে
         ব্রাহ্মণ পুরোহিতের দোদুল্যমান শিখায়
                                             ঝোলে গাঁদা
আর, কাপড়ের প্রান্তে তার
                            শুধু চাল আর কলা বাঁধা 
এখানে কোনো অন্ধকার নেই
                          এখানে নেই কোনো আলো
নেই কোনো শাদা            নেই কোনো কালো  
এসব যখন লিখছি ,তখন
         ভয়ংকর শব্দ কোরে বিদ্যুত চমকালো 
বোধহয় কোথাও বৃষ্টি হবে ভিজবে কোথাও মন
বোধহয় কোথাও নদীর কাছে জানবে এ জীবন
পাথর কেটে কিভাবে এগিয়ে যায়
                                           স্রোতবতী জল
কিভাবে দুঃখের শব্দে
                       চোখের আকাশ ভেজে
             খুলে যায় হৃদ্শতদল        

        .......................................                  

Sunday, 19 October 2014

হলুদ বসন্ত






সূর্যমুখী ফুলে যখন ঢেউ খেলে বসন্তের হলুদ ভালোবাসা
জানলার -পাখিগুলো ক্যামেরার চোখ হোয়ে উদগ্রীব চেয়ে থাকে।
সামনের বাড়ির পলকা -ডট -যুবতী -কুক্কুরী
একটি তাগড়া মুসলমানী মোরগের অনায়াস ডাকে
উদাস কাটিয়ে দেয় সারাসকাল আর আইসক্রিমের গাড়ি
চকোলেট -বার বেচতে বেচতে ক্লান্ত হোয়ে
নবনীতার বারান্দায় সাইবেরিয়ার বরফ হোয়ে বোসে থাকে।
পাইনের ঠান্ডা ছায়ায় আরাম কোরে জিরোয় ,কোলকাতা।
শালিখের অভিযোগের কোনো সুরাহা করতে না পেরে
মনোহর দাস তরাগের পূণ্যকর্ম
মানুষ যাতে সহসা বিস্মৃত না হয় ,তার ব্যবস্থা করতে
বার করে এক মহামিছিল ,জমায়েত হয়
তাবৎ জেলার নারী পুরুষ মনুমেন্টের নিচে  আর
চিঁড়িয়াখানা দেখার পর রাত্তিরে
গ্র্যান্ড হোটেলের গাড়ি বারান্দার নিচে
প্রসব করে শতাব্দীর মহাবিস্ময় -
এই কথা শুনে আকাশে ভাসমান অবস্থায়
পুরীষ ত্যাগ করে এক পূন্যবান কাক আর
কালীঘাট ক্রিকেট ক্লাবের মাঠ থেকে
সহসা একটি আপেল -লাল -ডিউস বল
সিক্সার হোয়ে ফাটিয়ে দেয়
দুর্বল চৌরঙ্গীর মহাপথ এই মহাশাসনে।
তবু সূর্যমুখীর ঘুম ভাঙে না , হলুদ বসন্তের ঢেউ
খেলতে থাকে ,খেলতেই থাকে ,আর
যৌবন -সমুদ্রের সুন্দরী বেলাভূমিতে শুয়ে রোদ পোয়ায়
ক্যামেরুন ডিয়াজ।
   

আগুনের অশ্রু জলে






আমি আসছি ,সুপ্রতীক ,আপনি চলে যাবেন না।
এখনও রৌদ্র ছুঁয়ে রয়েছে কার্নিশের ভাঙা কোণ।
আমি আসছি, সুপ্রতীক ,আপনি চলে যাবেন না।
পাইন -জঙ্গলের -ছেঁড়া -জামায়
                        এখনও শরীরের গন্ধ লেগে আছে।

আমার ক্ষিদে পেয়েছে ,সুপ্রতীক ,আমি খেয়েই আসছি ,
আপনি চলে যাবেন না যেন হুট কোরে।
ও: কতো দিন পরে দেখা হবে
                                     আপনার সঙ্গে আমার !
পদ্ম পাতার উপরে থেবড়ে বসে
এখনও কামনা জানায় ,কোলা ব্যাঙ ,শব্দ কোরে।
নি:শ্বাস -বন্ধ -কোরে ,জলের নিচে ,একসো ন্যটিকাল মাইল !
আপনার ক্ষমতা আছে ,সুপ্রতীক !

মনের মধ্যে এই সব ছেঁড়া ছেঁড়া কথা বলতে বলতে আমি হাঁটি ,
হাঁটতে হাঁটতে কখনও দৌড়ই।
দেখা হবে তো  ?
কত দিন পরে দেখা হবে আবার !

আমি পৌঁছবার অনেক অনেক আগেই
পায়ে -হাঁটা -লোকের -কাঁধে
পৌঁছে যায় ,সুপ্রতীক।
আমি পৌঁছতেই
আড়া -আড়ি -সাজানো -কাঠের ওপর উঠে বোসে
আমাকে বলে -"দেখা হোলো তাহলে ,শেষমেষ "!
আর আমার বুকের মধ্যে সহসা
এক জঙ্গল পাইন গাছ
জ্বলে উঠলো দাউ দাউ কোরে।
গুমোট অন্ধকার ভেসে গেলো
                     আলো আর আগুনের অশ্রুজলে।

           ......................................     

Saturday, 18 October 2014

শুভ্রেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়ের পদকমলে নিবেদিত






শুভ্রেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
সর্বদা নাড়েন কড়া
                   ঈশ্বরের গোপন দরজায়।
পথে পথে ,অলিতে গলিতে ,
ফুলে ফুলে তার চিহ্ন -
                           না -ফোটা কলিতে।
ওঠে সূর্য ,ওঠে চন্দ্র ,তারা -
সবাই শুনেছে তার
                 সশব্দ ব্যাকুল কড়া -নাড়া।
শুভ্রেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
আজ চেনা ,কাল তিনি
                   দূরবর্তী দ্বীপ -চেনা দায়।

              ...................

বৃষ্টিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে ,দেখো








বৃষ্টিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে ,দেখো ,সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে ,ঝড়ো হাততালি ,
হাওয়া উড়ছে রাত্রির জোনাকির মতো ,কিছু অলৌকিক রহস্যের বালি
লাগে চোখে মুখে আর ডানার ঝাপটার মতো গজরায় ক্রুদ্ধ অন্ধকার ,
আকাশে গর্জন কোরে আমার জানলায় মারে টোকা ,যেন সব একাকার।

কেন এই একাকার হোয়ে যাওয়া সবকিছু ,ইতিহাস ,ভৌগোলিক ভুল ,
সবুজ পাতার মতো ধীরে ধীরে পীত হয় ,প্রকৃতির এই তো উসুল।
বিরাট শিরীষ গাছ ,গুঁড়ি অবদি কাটা ,দেখি, তারও আছে বাঁচবার মন ,
কাটা -কাঁধে ভরে ওঠে সবুজ -উচ্ছ্বাসে -ভরা কত পাতা ,কত উচাটন।

দুপুরের রৌদ্র এসে বারান্দার কাঁধে রাখে বহু চেনা ,বহুবার ভালোবাসা হাত ,
শান্ত গরম -হাওয়া ছায়া দেখে শান্ত হোতে উড়ে এসে বসে অকস্মাৎ।
কাক চিল শালিখের সংসারের কতো না আনন্দ -ভরা জানলা -খোলা দিন ,
পার কোরে যাই আমি ,পথ এসে মরুভূমি হোয়ে -যাওয়া -রুক্ষতায় হোয়েছে বিলীন।

বৃষ্টিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে ,দেখো ,সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে ,যেন জল অবিশ্বাস্য নোনা ,
সমস্ত জীবন ধরে এ কোন বালির ঘর বানিয়েছি ,ভেবেছি যে বালি যেন সোনা।
নিমের পাতার গন্ধ ম্যাগ্নলিয়ার মতো শাদা হাত ,করুণ -পোষাক -পরে ঘোরে শূন্যতায় ,
খাও আইসক্রিম ,ধরো ,আমার এ শূন্য হাত ,সন্ধ্যা আসে অসহায় আলোহীন অববাহিকায়।

সন্ধ্যা ঘনায় দেখে চারিদিকে অন্ধকার মনের ভিতরে আসে টোকা মেরে বড় চুপিচুপি ,
আলোহীন ল্যাম্প পোস্ট ,ছোট ছোট কুঁড়ের মতোন ঘরে জ্বলে শুধু লুপ্তপ্রায় কুপি।
বৃষ্টিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে ,দেখো ,হলুদ -ঝিলিক -মারা ডোরাকাটা বাঘের মতোন ,
এসো আজ ,ধরো হাত ,দাশ হোয়ে শব্দের -শূন্যতা দেখো অনিকেত ঘোরে অনুক্ষণ।

                        .........................................................

Sunday, 12 October 2014

জীবন নামক পথে






ঘরের ভেতরে আরও আছে চাঁদ আকাশের চাঁদের মতন  -
প্রথমা দ্বিতীয়া থেকে পঞ্চদশী চাঁদ নিয়ে আছে ওই নভনীল মন।
তোমার মনের কথা ধোঁয়ার মতন ওঠে ,
                                 ভেসে যায় ,যেমন পাখিরা যায় ভেসে ,
শব্দের সমস্ত রূপ বাক্যবন্ধ হোয়ে ঝোলে তোমার ওই কেশে।

একবার কবে জানি ,মনে নেই ,বহুদিন হবে হয়তো বা ,
পরিপূর্ণ বাঘ এক নরম মাংসের লোভে ও শরীরে মেরেছিলো থাবা।
রক্ত তো দুঃখের কোনো প্রতিচিত্র নয় কিম্বা নয় কোনো মতিশ পিকাসো ,
আঘাত তো শারীরিক ,মন তো নদীর জল - চিত হোয়ে ভাসো।

ভেসে ভেসে চলে যাও বহুদূরে যেখানে আকাশ মেশে অনন্তের সাথে।
তারপর চুপ করে ,পাখির মতোন দুটি ডানা মুড়ে ,অসামান্য স্বল্প দীর্ঘ্য রাতে ,
বসে দেখো চোখ খুলে ,শোনো গান কানের ভিতর দিয়ে
                                                          যা করে হৃদয়ে প্রবেশ গভীরে ,
জীবন নামক পথে ,জ্বলে ওঠে ,সারিবাঁধা নকশা -অনুগামী যতো
                                                           আলো ওই নদীটির তীরে।
                             ...........................
                              

অনন্ত হৃদয়পুরে অজানা উত্সব






পৃথিবীর সব আলো ,সব ভাষা ,সব অন্ধকার ,
ফানুসের মতো যায় ভেসে ভেসে যেদিকে যাবার। 
উত্তরে দক্ষিনে পূবে ,কেউ যায় হৃদয়ের টানে ,
কেউ স্থির হোয়ে থাকে চোখের পাতার ভিড়ে স্তব্ধ -অভিমানে। 

মাচার লাউএর মতো যাবতীয় সুখ দুঃখ ঝুলে আছে সব ,
যেন এ পৃথিবী জুড়ে ,অনন্ত হৃদয়পুরে অজানা উত্সব। 
কাঁটা গাছে ফুল হয় ,সাহারাও দিতে পারে জলের সন্ধান ,
সবার ত্বকের নীচে রক্ত -মাংস -মাখা -হোয়ে জেগে আছে প্রাণ। 

দুরের পাহাড় খানি অন্ধকারে আছে ডুবে জোনাকির -আলোগুলি মেখে ,
ঝিকমিক কোরে জ্বলে এ বিশ্ব -আকাশ তলে কি যে এতো লেখে -
অসম্ভব পদাবলী ,ছন্দ মিল ভাষা -ব্যবহার সব আশ্চর্য -অবাক ,
দেখে মুখ হাঁ হয় ,চোখ বড়ো বড়ো হোয়ে হয় রুদ্ধবাক। 

পৃথিবীতে এতো আলো ,এতো উজ্জ্বলতা তার ,নেই অন্ধকার ,
বাগানে গাছের কোণে বসে আছে আলো মেখে মুখশ্রী সবার। 
পাখির কাকলি হোয়ে ভোরের বাতাস এসে বসে বারান্দায় ,
বৃষ্টির কালো মেঘ সে কোন ম্যাজিকে যেনো শাদা হোয়ে যায়। 

                    ...............................

আমাদের এ পৃথিবী






সকালে রাত্রির গন্ধ ,রাত্রি জুড়ে সকালের আলো ,
অসুখের চিহ্ন নেই ,পৃথিবীতে সব সুস্থ ভালো।
বটের ফলের মতো লাল রঙে ছেয়ে আছে গাল -
আমার সকাল খানি নীলের আভাষে নীল স্বর্ণময়ী লাল।

সুপক্ক ধানের রূপে পৃথিবীর সুন্দরীরা ম্লান ,
জলে ডোবা পথ ঘাট ,কার্নিশে শ্রাবণের গান।
কোথা থেকে ভেসে আসে ভালোবাসাবাসি -করা মেঘ ,
জড়ো হোয়ে আছে যেনো অভিমান -বহতা আবেগ।

কোথাও শাঁখের ডাকে মা দূর্গা দেবীর শক্তি ফোটে ,
কোথাও ঘাসের ঘরে ভালোবাসা ফুল হোয়ে ওঠে।
ভাতের গভীর গন্ধ লোকালে ঝুলতে ঝুলতে যায় শেয়ালদায় ,
চাঁদখানি নেমে এসে  বলে আয় টিপ দেবো আয়।

সকালে রাত্রির গন্ধ ,রাত্রির গায়ে আজ জ্বর ,
ভালো -থাকা ডানা -মেলে যায় যেন হয়েছে অমর।
অনেকদিনের পরে সূর্যের শেষ আলো নদীটির জলে ,
নিজেকে সজীব করে সুন্দরীদের মতো পলে অনুপলে।

বটের পাতাটি ঝরে বৃষ্টি -বাহন -হওয়া হাওয়াটির বেগে ,
সুখের মাটিটি ফুঁড়ে দুঃখের  চারাগাছ উঠিয়াছে জেগে।
যেন বা ঘুমের মধ্যে ঘন ঘুমে ছিলো সে অধীর ,
আমাদের এ পৃথিবী ভালো -মন্দ নিয়ে আছে স্থির।

             ............................ 

Sunday, 31 August 2014

বাতাসের প্রসিদ্ধ সরোদ





তবু তো স্বপ্নের কাছে হাঁটু -গেড়ে বসে আছে আলো ,
জোনাকির হাত ধরে ঝিকমিক করে ওঠে অন্ধকার কালো। 
আকাশে পূর্নিমার চাঁদ ম্যাগ্নলিয়ার মতো ডানা -মেলে ফোটে ,
মনের ভেতরে যেন আকাশটা পূর্নিমার চাঁদ হয়ে ওঠে। 

ফুরফুরে ভাতের মতো কেন থালা ভরে এত শাদা শাদা ভাত ,
বোতলে সোডার মত শিরার ভিতরে কেন ফুটে উঠবার ব্যাকুলতা। 
করিডোর দিয়ে হেঁটে ডাক দেয় সবান্ধব বন্ধুবর রোদ  -
গাছে কেঁপে ওঠে জবা ,ঝালা হয়ে বেজে ওঠে 
                                                        বাতাসের প্রসিদ্ধ সরোদ।     

ছায়া এসে ছায়ায় গোপন





ছায়া এসে ছায়ায় গোপন হয়ে মেশে ,
বৃষ্টির ভেজা হাত তোমার ওই বনলতা -কেশে।
আদর করার ছলে স্পর্শ করে জানায় উষ্ণতা।
ছায়া এসে ছায়ায় দাঁড়ায়  - বলে কথা।

তুমি তো বৃক্ষের ভঙ্গী ,তুমি তো পথের অবশেষ ,
গলায় -দোলানো -মালা ,তুমিই পৃথিবী ,তুমি দেশ।
নদীর পাথর বালি ,ঘোলা জল ,নৌকা ভেসে যায় ,
কিছুই থাকেনা বেঁচে ,সব যায় ,আগত সন্ধ্যায়।

কত ঝড় এলো গেলো ,কত বন্যা ,আগ্নেয় -প্রপাত  -
শূন্য হলো কত ঘর ,অট্টালিকা, সব অকস্মাৎ।
সকালের ফোটা -ফুল সন্ধ্যায় লোটায় পথে ঘাটে ,
অন্ধকার এসে আজও সকালে মিলিয়ে যায় ইস্কুলের মাঠে।   

Thursday, 21 August 2014

জোনাকির আলো হয়ে






জোনাকির আলো হয়ে অন্ধকার এসেছে ,
দূরের পাহাড় দেখে  রাত্রিতে তাই মনে হয়। 
স্টেডিয়ামের বিকালে গোল হয় ফুটবলের ,
গৌহাটির রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকে মানুষের মন। 

রুমাল উড়ছে বোম- থেকে-ওড়া পায়রার মতো ,
পৈতের নটি দণ্ডি থেকে ওড়ে বিদ্যুতের ঝড়। 
পল্টনবাজার আমাকে যেমন ভালোবাসে ,উলুবাড়িও ,
আমি ব্রম্হপুত্র নদী হোয়ে ভেসে যাচ্ছি বঙ্গোপসাগরে। 

নিমের কচি চারা আর কুকুর -শাবকের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই ,
দুজনকেই গাল টিপে আদর করতে ইচ্ছে করে। 
আমি তো ট্রেন নয় ,আজকাল বিদ্যুতের সওয়ারী ,
রবিবারের সকালে খাই দৈ কচুরী বিনা তরকারী। 

জোনাকির আলো হয়ে অন্ধকার এসেছে ঘন হয়ে ,
আমাকে জড়িয়ে ধরতে চায় চারিদিকের বনবাদার। 
আমি পথ হয়ে হেঁটে যাচ্ছি অমল ধবল মাঠ পেরিয়ে ,
আমি দৃষ্টি হয়ে দেখছি হেঁটে যাচ্ছে সুশৃংখল পিপিলিকা -সারি। 
   

Sunday, 10 August 2014

আবহাওয়াটি বড় অনুকূল






ট্রেন চলে যাচ্ছে ,বাতাস ছুঁয়ে,সময়ের হাতে হাত ,বম্বে সেন্ট্রালে ,
চার্চ গেটে বৃষ্টি হয় ,অন্ধেরিতে রৌদ্র -উচ্ছ্বসিত -কাক চন্দনের ডালে। 
ট্রেন চলে যাচ্ছে ঘুরে ঘুরে ,সমুদ্র ছুঁয়ে ,দূরে সেই পৃথিবীর দিকে ,
যে পৃথিবী অদেখা হয়ে রইলো ,অভাগার ভাগ্যে তার ছিড়ল না শিকে। 

ট্রেন চলে যাচ্ছে ,বারে বারেই ট্রেন চলে যাচ্ছে ,পেরিয়ে ভালোবাসার স্টেশন ,
ঘুরতে ঘুরতে পড়ে যায় আম গাছের বৃদ্ধ -পাতা ,রাস্তার উপরে তার মন 
পড়ে আছে ,তাকে হবে যেতে ,কে তাকে বলেছে যেতে ,নিতে জুঁই ফুল ,
বাড়ি মাথা তোলে দীর্ঘ ,আকাশের দিকে আজ আবহাওয়াটি বড় অনুকূল।  

ভালোবাসা রৌদ্র হয়





বাতাসে ভাসিয়ে দেহ ভালোবাসা মেঘ দিয়ে ঢাকা এক বাড়ি ,
মরুভূমি ভেদ করে কিসের এক অজানা সন্ধানে আজ 
                                                      উঠ যায় বদ্ধ হয়ে সারি ।
আমি তো অমুক্ত আত্মা , আমি এক চন্দ্রাহত প্রাণ ,
                                                     আকাশে জ্বলছি একা একা ।
অরণ্যের ফুল যেন ,নদী হয়ে ভেসে যাই , যদি পাওয়া যায় তার দেখা ।

ভালোবাসা রৌদ্র হয় , রান্নাঘরে আগুনের মত শুধু জ্বলে ,
অনিদ্রার মত জাগে ,সন্ধানরত প্রাণে ,এ বিরাট ব্যস্ত নভতলে ।
বিরাট মাঠের মত পড়ে আছে যন্ত্র সব ,চারিদিকে প্রাচীর -পাহারা। 
আমি ভালোবাসা চাই, দীর্ঘকায় বাড়ি যেন, ধরে মেয়েদের হাত,
                                                             যখন নিঝুম হয় পাড়া। 

Sunday, 6 July 2014

তোমার চোখের মধ্যে ,হে হ্লাদিনী !





তোমার চোখের মধ্যে বেড়াতে যাবার বড় সাধ হয় ,আহ্লাদও হয় ,
সেখানে প্রস্রবণ আছে ,আছে মেঘ জল বৃষ্টি অনন্ত বিস্ময় ।
পাহাড়ের শৃঙ্গে আছে বরফের রাশি ,
                            সরলবর্গীয় বৃক্ষ থাকে পাশাপাশি ।
তোমার চোখের ওই ঝরনার উত্স খোঁজা যেন
পৃথিবীর উত্স খুঁজতে
পেয়ে যাওয়া হিগস -বোসন পার্টিকেল ন্যানো ।

মর্মরে তোমার মূর্তি ছেনি দিয়ে কেটে তাকে মন্দিরে বসাই ,
গাছ থেকে আমড়া পেড়ে কড়া ঝাল নূন দিয়ে খাই ।
তোমার চোখের মধ্যে আছে এক বিশাল গহবর ,
কতো যে স্মৃতির ম্যমি শুয়ে শুয়ে হোয়ে যায় অবিনশ্বর ।
আমি খুঁজে দেখতে চাই সেই গহবরে
                           কতো সূর্য চন্দ্র তারা পাশাপাশি সুখে ঘর করে ।

তোমার চোখের মধ্যে বেড়াতে যাবার বড় সাধ হয় ,আহ্লাদও হয় ,
হে হ্লাদিনী ,রুখে দাও অবিস্মরণীয় এই ক্ষয় ,
পায়ের নিচের মাটি চায় শুধু তোমার অভয় ।   

Sunday, 29 June 2014

তোমাকে মানায় রেড উড






তোমার জিবের নিচে চুইংগামের মতো
                                           রাখা আছে ক্রোধ ,
বসন -তুবড়ির মত তার উত্সরণ ,হায় ,কে যে করে রোধ ।
মেঘের বিস্ময় এসে থমকে আছে
                                         তিনশো -ফিট গাছের ডগায় ,
এ শুধু তোমায় মানায় রেড উড ,তোমাকে মানায় শুধু
                                                           আকাশের গায়  ।


তোমার চরণ চিহ্ন ঢুকে গেছে ,সহস্র -বছর ধরে ,
                                                   পৃথিবীর হৃদয়ের দিকে ।
এখনও ধরেনি কোনো অস্তীয়পরসিস ডাক্তারি নিরীখে ।
তোমার কঠিন কান্ড সাঁওতালি শরীরের মতো এই
                                                 বৃদ্ধ বয়সেও কতো দৃঢ় !
আমাদের ছেড়ে তুমি যেও না কো ,যদি যাও
                                                 যেতে যেতে একবার ফিরো ।

                    ...................................

বন্দী





আমি বন্দী হোয়ে আছি
                 খাঁচায় যেমন থাকে শ্বেত ইঁদুরেরা ,
নিজের মনের হাতে ,মনের নদীর হাতে ,
                            ম্যাগ্নলিয়ার কাছে ফেরা
হয়তো হবে না আর ,আমার মাথার কাছে মেঘ
ঘোরা ফেরা করে খুব ,বৃষ্টি হবে ,
                            বৃষ্টি হয়ে ,বিন্দু বিন্দু হয়ে
                                           ঝরবে আবেগ ,
অনুভূতি প্রেম আর পাগলা -ঝোরার মতো নিয়ে ভালোবাসা
আমি বন্দী হোয়ে আছি যেমন শব্দের জালে ভাষা ।

পবিতোরা জঙ্গলের কাছে যাবো ,
শাল আর সেগুনের নিবিড় সংসর্গে ভাত খাবো ।
নিশান উড়িয়ে কিছু চিল যায় সুদূর দক্ষিণে
                                              বসন্তের বাতাসের কাছে ,
শীত চলে গেলে যেন পদধূলি দেন তিনি ঠিক পথ চিনে ।
বাসের রাস্তায় বাস ঠিক যায় চলে ,
বিরহ ও ক্রোধ নিয়ে ,সুখ ও দুঃখের শিশু কোলে ।
এখন শীতের সন্ধ্যা ,দেরি হোলে নেমে আসে রাত ,
অন্ধকারে আমি বন্দী ,নিজেই নিজের হাতে -
                                                         হায় ,কি বরাত !

                    ...................................                           

Friday, 27 June 2014

ব্রম্ভান্ড দোলে




বুকের মধ্যে খুঁজছি তারে অন্ধকারে ,
পূর্ণ -চাঁদের ফ্লাড-লাইটের এ বিস্তারে ।
কোথায় তুমি লুকিয়ে বসে লজ্জা -রাঙা ,
আমার চোখের সামনে খোলো ভূবনডাঙা ।

বুকের মধ্যে একফালি নয় অনন্ত চাঁদ ,
পূর্ণচাঁদের মায়ায় আমায় কে বাঁধবি বাঁধ ।
বুকের মধ্যে খুঁজছি তারে অখন্ডতায় -
ভাবতে ভাবতে রাত্রি কেটে ভোর হোয়ে যায় ।

ভোরবেলার ওই জবাকুসুম তুলবো বোলে ,
দিগন্তে যাই ,পাঁচিল ডিঙ্গোই কি কৌশলে ।
মেঘ এসে ওই চন্দ্রিমাকে পকেটে রাখে ,
আর কতো মা ঘোরাবি আমায় কুম্ভীপাকে ।

কলুর বলদ ঘুরছি চোখে ঠুলির চাবি ,
চল সেজে তুই এবার আমার সঙ্গে যাবি ।
সঙের ভেতর পদ্ম ফুলের পাঁপড়ি খোলে ,
পাঁপড়ি খোলার সেই ঘায়ে ব্রম্ভান্ড দোলে ।

                  ................
   
  

চালচিত্র




ছাতের উপরে পড়ে রয়েছে রোদ্দুর
           শীতের দুপুরে চুল -শুকোতে -আসা বউ ঝি-দের মতো ।
ভ্রমন -পিপাসু হাঁসের দলে নাম লেখাতে চায় ছা -পোষা শালিখ ,তাই
ডানা ছড়িয়ে ছড়িয়ে পরীক্ষা করছে ডানার জোর ।
বুড়ো বয়েসে ভীমরতি ধরেছে রাস্তার কোণের থুর থুরে বাড়িটার ,
দাঁত বাঁধানো হোয়েছে নতুন ,রঙ -চড়ানো হোয়েছে পাতলা -হওয়া চুলে ।
পাশের বাড়ির জাঁহাবাজ গিন্নি দেখছে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে -
ভাবখানা এই -"মিনসের নোলা যায় না মলে " ।

ছাতের উপরে লেপতোষক-এ মাখামাখি করে রোদ ।
আজানের শব্দ পেলে মা ঠাকরেন আসেন তাদের নামাতে ।
সেই সময় দুটি ভালো মন্দ কথা কন সামনের বাড়ির কমলার সঙ্গে ।
কলাগাছের পাতা দোলে উত্তরের হিমেল বাতাসে ।
বাপ -চড়ুই-এর সময় হয় খবর নেবার জুনিয়ার চড়াই -ছানাদের ।
লাঞ্চে পোকার ঝাল -চড়চড়ি খেয়ে সটান লম্বা দেবে তারা ।
ওপর থেকে শ্যেন -দৃষ্টি হেনে ঘুরে বেড়ায় চিল  -
ছো  মেরে উঠিয়ে নিতে চায় সুখ দুঃখ দুটিকেই গাছের মগডালে ।

চারিদিকে একবার -পরা -সূতির -জামার মতো নরম আলস্য ।
বয়স্ক বেলগাছটার শরীর ছেয়ে আছে বেলের কচি কাচায় ।
তারপর আসবে এক হাওয়া সময়ের হাত -ঘোরানো স্পিন -এ ,
আর নড়বড়ে তিনকাঠি কোথায় ছিটকে যাবে কে জানে ।

                   .................................   

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে





আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে
বড় বড় উদ্ধত লেলিহান শিখায় -
সেখানে হচ্ছে জন্ম ,হচ্ছে মৃত্যু ।
একটি বিশালাকায় ঘাসজমির মালিকানাহীন বিস্তারে ,
আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে দাউ দাউ ।

প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যে অণু পরমাণুর মতো
দৌড়ে যাচ্ছে জীবন আর শবাসনে শুয়ে রয়েছে মৃত্যু ।
যে নদী নাচতে নাচতে চলেছে এঁকে বেঁকে
পেরিয়ে গিয়ে বহু নগর বন্দর মাঠ ঘাট অবহেলা ,
তার লয় সমুদ্রের অন্তহীন অতল গভীরে ।
সেই জলই মেঘের মাথায় পর্বত -শিখরে পুঞ্জ পুঞ্জ
হিমশীতল বরফ যার কাঠিন্য গলে গলে আবার ঝর্ণা নদী হোয়ে
নিজের মনে চলে যাচ্ছে পেরিয়ে মাঠ ঘাট বন বনান্তর ।

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে
বড় বড় উদ্ধত লেলিহান শিখায় ।
আমার বেঁচে থাকা সজনে ডাঁটা হোয়ে ঝুলে রয়েছে শূন্যে ,
ঝরে পড়ছে শিউলি ফুল হয়ে পথের ব্যস্ততায় ।
আমার বেঁচে থাকা সিঙ্গাড়ার -গন্ধে টাল মাতাল পৃথিবী ।
আমার বেঁচে থাকা আগুন জল বরফ ,
কান্না দুঃখ অশ্রু বর্ষার এক কোমর জল ।
আমার বেঁচে থাকা বইমেলার হারিয়ে পাওয়া বই ।

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে হৈ হৈ করে জ্বলছে আগুন । 

Sunday, 22 June 2014

স্বর্ণময়ী ধান






তোমার কলম থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসেছে স্বর্ণময়ী ধান -
যে ধান উড়ছিল সোনালী রোদ্দুরে ,শীতল বাতাসে ,
কবুতরের অহিংস -ঠোঁটে ,বাতাস উঠেছে ভালোবাসার সুগন্ধ বুকে নিয়ে ।
মাটিতে ছড়িয়ে রয়েছে হীরে মুক্তো পান্না চুনী -
শুধু তুলে নাও সঠিক শ্রমে ,পারিজাত দুঃখে সুখে ভালবাসায় ।

অন্ধকারের মধ্যে নূপুরের ধ্বনি ,বনাঞ্চলের প্রতিটি গাছের ফাঁকে ফাঁকে ,
পাতার বলিরেখায় ,নূপুরের উচ্চাঙ্গ নিক্কণ -
আমি উড়ছি বিমানের মতো মেঘের রাজ্যে ডানা ভাসিয়ে ।
আমার রক্তের মধ্যে নাচছে নূপুর ,রক্তপরীক্ষায় হয়তো বা
ধরা পড়ে যাবে মিষ্টতার আধিক্যের স্থলে নৃত্যাধিক্য -
উন্মাদনার অপর নাম জীবন মেতে ওঠা ,নেচে ওঠা ।

তোমার কুন্কের মধ্যে একমুঠো ধান -স্বর্ণময়ী -যার ভিতরে
খোসায় -ঢাকা গোপন বেঁচে থাকার গান ,যে ধানের দানা ফোটার মধ্যে
শব্দ জাগরিত হয় নূপুরের ,ভাতফোটার ,
নৃত্যের সঙ্গে মিশ্রিত -খাম্বাজে মিলিত হয় সুগন্ধী ধূম্র ও স্বাদ -
যা দেবে স্খলিত -মাংসপেশীতে ধনুকের জ্যা -এর শক্তি ,
আর আমি দেখতে পাবো চারিদিকে ফুটে উঠছে
অপরাজিত ম্যাগনোলিয়া -যা এখনও পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রেম ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার






হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ,
জুতোর কাঁকর উপেক্ষা করতে পারি আমি ।
ভীষণ ঝড় উঠেছে ফুল গাছের কোমল ছায়ায় ,
আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে থাকে
পিয়াঁজ রসূনের চিত্কার ,মাংসের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ,
শিউলি ফুল সাধারণ মানুষের মত লুটিয়ে থাকে ভূমিতে ,
আমার বুট -জুতোর নিচে পিষে যেতে   তার আমরণ -সাধ ,
পাহাড়ে উঠতেই যা কষ্ট ,নেমে যেতে কোনো কষ্ট নেই ।
তা সে রোদ্দুরেই হোক বা ঘন বর্ষায় -
নেমে যেতে যেতে দেখা হয় শিয়াল কুকুরের সঙ্গে ,
ভ্রাম্যমান হায়নার সঙ্গে ,উড়ন্ত কাকের সঙ্গে ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ।

Saturday, 21 June 2014

লাল আলো





লাল আলোতে আটকে আছে গাড়ি ,
কোন দিকে যায় রাস্তা নাকি পথ ।
লাল হলুদে রঙ মেশানো বাড়ির ,
ছোট্ট পুকুর ,লাফায় ফড়িং ,
                      জ্যান্ত ভবিষ্যত ।

পায়ের নিচে সংগত হয় ,এক পা দু পা গুনি ,
পাতায় ফুলে ,গানের সিজন আসছে তাই তো শুনি ।
হুস বললেই মার্কিনী দেশ ,ফুস -মন্তর ব্রাজিল ,
ঢিল ছুঁড়লেই মায়ায় আকুল ,শান্ত দেখায় ঝিল ।

লাল আলো আর  সবুজ আলোর ম্যাজিক বোঝা ভার ,
মাঝখানে যে হলুদটা তার জীবনটা ছারখার ।
নানান রঙের গৃহ -প্রবেশ ,রঙ -ছড়ানো রোদে ,
নুব্জ -দেহে হৃদয় -হরণ ,ধার করে ঋণ শোধে ।

আটকে -পড়া গাড়ির ভাগ্য লাল -আলোতে লেখা ,
নদীর ছোট ঢেউ -এর গানে ,এই তো আমার শেখা ।
ছড়িয়ে -ডানা ওই দেখা যায় রঙ -লাগা হাতছানি ,
নদীর মত জীবন এগোয় ,এই তো আমি জানি ।

                     .....................

Sunday, 15 June 2014

অনেক কাদামাখা স্মৃতির পা





অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
রাজপথের বিশাল হোর্ডিং থেকে ঝরে পড়ছে চোখের জল শিউলি ফুলের মত ।
এ শিউলি তো আমার চেনা ।পাশের বাড়ির পাঁচিলের গা ঘেঁষে
সারাটা শরত্কাল শুধু ফুল ঝরাতে ঝরাতে কাটিয়ে দিলো সময় ।
আমি বলতে শুনেছি অনেক সময় ,অনেক অসতর্ক মুহূর্তে  ,
অনেক হতাশার কথা ,ক্রন্দনের কথা ওকে
সামনের বাড়ির ছাদ -টপকানো নারকোল গাছের উড়নচন্ডি পাতাকে ।
এই রকম অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
আর বাড়ির দেয়ালগুলো ভিজে ভিজে হয়ে উঠছে সমসাময়িক দুঃখের ঘামে ।

বাড়ির ছাদ থেকে ঝুলছে স্কুল -পালানো মেয়ের ঝুলন্ত -বিনুনীর মত
লম্বা লম্বা আলোর ছিপছিপে ঝালর ।আমি তাকিয়ে থাকি অবাক চোখে ।
রাত দেখি ,রাস্তার রাত , দুঃখের রাত ,আনন্দের রাত ,বিস্ময়ের রাত ।
সময় সময় মানুষ সব দুঃখ ,সব অশ্রুপতন ভুলে ,নিশ্চিন্ত মনে
উড়িয়ে বেড়ায় রঙ -বেরঙের ফানুস ,পায়রা ওড়ানোর মত করে ।
পাহাড়ের গা বেয়ে অনেক ভ্রমর নেমে এসেছিলো কাল ।সময়ের সঙ্গে
তাদের বন্ধুত্ব ,বলা যায় ,গলায় গলায় ভাব আর মাঝে মাঝেই
একটি সুন্দরী দোয়েল লম্বা বাঁশের সবচেয়ে উঁচু বিন্দুতে বসে শোনায়
আশ্চর্য্য সব গান ,আমি স্তম্ভিত বসে থাকি আর দেখি
অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।

                       .................................





মনের মধ্যে বর্ষা





কারো বাড়ির আলো সবুজ ,কারো বাড়ির নীল ,
আঙুল থেকে দৌড়ে গুলি ,পেরিয়ে গেলো পিল ।

পরশুই ভূত -চতুর্দশী ,তারপরই অমাবস্যা ,
পূবদিকে দেখ ফুটছে আলো ,বাইরে হচ্ছে ফস্সা ।

কে জানে পথ কোনদিকে যায় ,কোন নদী যায় সাগর ,
কলির কেষ্ট কেউ সাজে বা ,কেউ বা সাজে নাগর ।

আকাশ -ভরা অন্ধকারে ,তার আলোকই  ভরসা ,
অকারণেই বর্ষা নাবল ,মনের মধ্যে বর্ষা ।

                     .......................




তোমাকে আয়না






তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
তোমার মধ্যে দেখতে চাই নিজেকে ।
চুল আঁচড়াতে চাই তোমার সুচতুর চোখের আলোয় ,
তোমার দাঁতের চামড়ায় একাকার হয়ে আছে বিশ্বভূবন ।
ধূলিস্যাত হোয়ে যাচ্ছে বড় বড় বলদর্পী গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলি ।
তোমার আয়নার মধ্যে দেখতে পাই এইসব ছবি ,
এই সব অপরিপক্ক সর্বনাশ ,
যাদের ভয়ঙ্কর নখগুলি আটকে আছে মাথার চুলে ।
চুল ছিড়তে গিয়ে সব ব্যবস্থার এই অবস্থা ।
লোভী শিয়ালের নীলের গামলায় পড়ে নীল হয়ে যাবার গল্প -
এইসব শুনতে শুনতে প্রহরগুলি দৌড়োতে দৌড়োতে পেরিয়ে গেলো
হতাস বসন্তের হাহাকারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা রেলস্টেশন ।

তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
তোমার মধ্যে দেখতে চাই দোয়েল ,কাদাখোঁচা ,শঙ্খচিল ,
এমন কি বউ -কথা -কও-ও ,যার উপরে তার শ্বাশুড়ি
উপুড় করে দিয়েছিলো হলুদ -রঙা ডালের হাঁড়ি আর সে
ফুরুত করে উড়ে গিয়ে বসেছিলো পাখি হয়ে নিমগাছের ডালে ।
তারপর দক্ষিণ বাতাসে সেই যে গেলো উড়ে
আর এলো না ফিরে আর তারপর দক্ষিনের বাতাস
প্রতিবার ফিরে এসেছে হাহাকারের শব্দ নিয়ে ।
তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
হড় হড় কোরে বলে ফেললাম এতোগুলো অপ্রিয় কথা ।

                  ..............................   




একশোছাব্বিশটি হাড়ের বেড়াজালে






তুমি কি জানতে ,আলোর তলায় বসলেই আলোকিত হয় না হৃদয় ,
কৃত্রিম -পাখার নিচে বসে ,শুকিয়ে নেওয়া যায় গায়ের ঘাম ,
ত্বকের উপর বসে থাকা পাথর -ভাঙা জলপ্রপাতগুলি ,অথচ সুস্বাদু এই বাতাসে
শুকোয় না প্রাণের উপর মাছির -মতো -উদাসীন বসে থাকা স্বেদবিন্দু ।

অন্ধকার -হৃদয় আলোকিত করার জন্যে ,পাথর কেটে
ঘর বানাতে হয় শীতল ,যেখানে পদ্মের -পাতা -ঝরানো বাতাস
কোথা থেকে এসে যেন জুড়িয়ে দেয় শরীরের ক্লান্ত সর্বস্ব ।

তোমার চারপাশে সবই আলো কোথাও নেই সেই অন্ধকার ।
দেবতার মন্দির ঝাঁপিয়ে পড়ছে পরাক্রান্ত -বাঘের মতন লালসায় ।
হরিণের উপর ।সুন্দরবনের ক্ষয়ে -যাওয়া অরণ্যে ।ঘুরে বেড়াচ্ছে
চারা -পোনা হোয়ে ত্রিবেণীর -বাড়ির পেছনের ডাক -উইড -মাখানো -জলাধারে ।
তুমি কি জানতে ,আলোর নিচে বসলেই আলোকিত হয় না হৃদয় ,বিজ্ঞাপিত -সাবানে
স্নান করলেও মনের দুর্গন্ধ ঘুরে বেড়ায় একশ -ছাব্বিশটি -হাড়ের বেড়াজালে ।

                             ........................................    

দেওয়ালির রাত






বাজি ফুটছে ,ফুটছে ক্র্যাকার ,
                                     জলপ্রপাত আলোর ,
আকাশ জুড়ে ঝর্ণা যেন
                                     দেখাচ্ছে জমকালো ।

তেশরা -জুলাই ,ওয়াশিংটন -এ ,
                                    স্বাধীনতার রাতে ,
আতসবাজির আজব -খেলা
                                    যেমনটি দেয় পাতে ।

বাজি ফুটছে ,তেমন ভাবেই -
                                   ফোয়ারা -ফোটে আলোর ,
আলোয় চতুর্দিক ভেসে যায়
                                   হাওয়ায় আলোর ঝালর ।

বসে রয়েছি ব্যালকনিতে
                                   সময় এখন মাঝরাত ,
সময় -টময় থমকে গেছে ,
                                   চারদিকে তার সাক্ষাত ।

             ................................ 

সেই ছেলেটি






এপার থেকে ওপার করছে
                                 হাত ভর্তি বালি ,
এ ফুটপাতে তুলছে আর ওই
                                 ও ফুটপাতে খালি ।

ছেলেটি বোকা ,যাচ্ছে আসছে
                                 দেখছে না তো গাড়ি ,
এপার থেকে ওপারে গিয়েই
                                 ফিরবে তাড়াতাড়ি ।

অনেক্ষণই চলছিলো এই
                                 এপার ওপার করা ,
জল টল টল গঙ্গায় ওই
                                ভাসছে পিতল -ঘড়া ।

গ্রীষ্ম -কালের দুপুর বেলা
                               ভাতঘুমে সব কাতর ,
মা দিদিদের কাপড় রোদে ,
                               আগর -তেলেই আতর ।

জলযোগের ভ্যান -গাড়িটা
                                দুধের ক্যানে ভরা ,
আসছে ভীষণ স্পীড চড়িয়ে
                              ধরাকে ভেবে সরা ।

সেই ছেলেটি দেখলো না তা
                               আসার পথে এধার ,
মাঝ রাস্তায় ধাক্কা খেলো
                              দুধ গড়ালো দেদার ।

ভাগ্যে ব্রেকটা লেগেছিলো
                              ড্রাইভারদার হাতে ,
তাই ছেলেটি গেলো বেঁচে
                              পারলোনা টপকাতে ।

অনেক হোলো হৈ চৈ আর
                              জমলো অনেক ভিড় ,
সেই ছেলেটির মার চোখে জল
                               ঝরছিলো অস্থির ।

মার কাছে সে আদর তো নয়
                               খেলো ভীষণ মার ,
দুঃখ দেবার শাস্তি অনেক ,
                                এর নামই সংসার ।

এমনই অনেক স্মৃতির কথা
                                 হটাত পড়ে মনে ,
চলছে সবই তার শাসনে ,
                                চাঁদ ভাসে আনমনে ।

            ............................. 


Sunday, 8 June 2014

Rabindranath's Song In Translation : কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া










Ceasing to focus on self , I've thought to myself so many times,
To dedicate myself at your feet sublime.
I shall hold your feet to articulate -
Secretly my friend - I love you , at any rate .
I thought to myself ,you're so high in heaven as god,
How on earth should I express to you
                                                   the word of love my Lord !
I thought in my mind to keep myself away,
I shall  , for the rest of my life ,to you , pray alone
                                                                in a secluded way..
Nobody will ever know about the deep love ,for you , I have,
Nobody will ever view the amount of tears I shed for you to rue.
When you come today to ask simply me -
How on earth could I express how much love I bear for you in glee.

মৃত্যু






প্রতিটি জন্মের পরে মৃত্যু এসে ডেকে নিয়ে যায় ,
প্রতিটি মুহূর্ত শুধু জন্ম হয় ,নতুন জন্মের ইশারায় ।
কালো মেঘে বৃষ্টি নয় ,জন্ম হয় নবতর দিন ,
প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু জন্মের রঙ মেখে হয়েছে রঙিন ।



Saturday, 7 June 2014

আমাকে অনন্ত করো






আমাকে অনন্ত করো বৃষ্টিহীন এই অন্ধকারে ।
কাকের মতন কালো কর্কশ নিরন্ন বিধ্বস্ত সারে সারে 
দাঁড়িয়ে রয়েছে স্থির ,ভাই বন্ধু আত্মীয় -স্বজন খাজুরাহ ,
সুন্দরের পূজা বন্ধ ,আনন্দের বলিদান বাড়ায় প্রদাহ । 

ওই যে চাঁদের আলো






ওই যে চাঁদের আলো তোমার ওই মুখ ভালোবেসে ,
আকাশের পাড়া ছেড়ে ,তোমারি এ জানালায় দাঁড়িয়েছে এসে ।
পিছে ফেলে সমস্ত সংসার আলোছায়া ,
এড়িয়ে এ সমাজের বৃহত্তর আইসক্রিম মায়া ,
লোকাল ট্রেনের ভিড়ে ময়দা -মাখা হোতে হোতে এসে ,
ট্রেনের টিটির মতো গেট -জুড়ে দাঁড়িয়েছে দেঁতো -হাঁসি হেঁসে ।





Wednesday, 4 June 2014

জ্বলছে দেখো না -দেখা এক মণি






তপ্ত দুটি পায়ের পাতায় লুটিয়ে পড়ে সমুদ্রের ওই জল ,
পদ্ম -ফোটা কুসুম যেন রাস্তা -জোড়া বরফই সম্বল ।
হাতের ওপর ঘর -ভাঙা ঝড়  ,ও ঘর থেকে ডাকছে ননদিরা ,
বন কেটে লোক বসত করে ,গীর্জা -ঘরে ভজন করে মীরা ।
হলুদ রঙের তপ্ত -বালু ,সুগোল আলু ,উঠছে ধোঁয়া দূরে ,
উড়ছে ধূলো ,হাঁটছে নুলো ,তার বরাভয় দাপায় অশ্বক্ষুরে ।
তোমায় যদি বহতা -নদী ইংগিতে কয় সশ্রস্ত রোদ্দুরে ,
তার বারতা ,নিজস্বতা ,আসছে ধেয়ে ঝড়ের গলার সুরে ।
আমি তো তাই ,বগল বাজাই ,জাগিয়ে তুলি না শোনা এক ধ্বনি ,
মার্চ করে যায় ,শেখানো দায় ,জ্বলছে দেখো না -দেখা এক মণি  ।


Monday, 2 June 2014

তোমার ও মুখ





তোমার ও মুখ আমি সহজে কি ভুলে যেতে পারি ,
রক্তে ঝাউএর দোলা ,পাইন দাঁড়িয়ে আছে
                             রাস্তার দুধারে সারি সারি ।
ডিজিটাল জ্যোতি যেন ,ও মুখ কি করে আমি
                                        ভুলে যেতে পারি ?
অবিরত চাপে পড়ে রাস্তার নকশা গেছি ভুলে ।
তবুও চোখের সামনে তোমার ও মুখ ওঠে দুলে ।
যেন চান্দ্র -ডান্স করে পপ -কিঙ মাইকেল জ্যাকসন ।
দুলে দুলে দূরে যায় আগত মূহুর্ত দিন ক্ষণ ।
ভুলে যাবো বললে হোলো ,রসাতলে যাবে না সংসার ?
যেই বলা সেই কাজ ,আলো নিবে ধরা অন্ধকার ।