Wednesday, 29 January 2014

পাগলা -ঝোরা






তুমি তো  ভেসেই আছ আকাশে বাতাসে ,গাছে গাছে
আপেলের মত ঝুলে ,পেয়ারার মত পেকে ,
                                  জোনাকির মত হয়ে আছে
রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্ধকারে ,ছোঁয়ার দূরত্ব থেকে ,
তুমি হয়ে আছ আলো ,নাকে নথ  ,কাণে ঝোলা  দুলের রোদ্দুরে ।

পিঠ খোলা ,দিগন্ত বিস্তৃত নয় ,তবু ছোঁয়া লাগে এসে চোখে ,
রক্ত -লাল ফোটা ফুল ,যমুনার মত ঘন নীল হয়ে
                                                     জীবন -আলোকে ।
হাত পেতে রয়েছে যে পেঁপের পাতারা এই মাঘটির হিমে ,
জড়ো -সড় হয়ে আছে মাকড়ের জাল ওই পেকে ওঠা নিমে ,
শিশিরের বিন্দু দিয়ে সেজে উঠে আজ তার হবে কি উত্সব ?
ভূবন ভরিয়ে আজ অট্টহাসি ,আল্হাদের রসমাখা রব ।

পেটের গহ্ব্বর যদি ভরা থাকে ধানের -বাতাসে -ওড়া খুদে ,
তাহলেই গান হবে ,দিগন্ত -কাঁপানো সুরে ,সুরের বারুদে ।
আয়নায় দেখা ছবি এতো স্পষ্ট যেন রামধনুর ফোয়ারা ,
জীবিত সবার বুকে ,রন্ধ্রে রন্ধ্রে ,অন্ধকারে যেন
                                                       পাগলা -ঝোরা _ 

Saturday, 25 January 2014

শীত ও বসন্ত





এ শীত কি এনে দেবে বসন্তকে কাছে ?
যদি গ্রীষ্ম এসে যায় পাছে
এমন আশংকা
বুকে ধরে শব্দ নিরাকার
চায়ের লিকার
হাতে নিয়ে বসে থাকি বারান্দায়
শীতের সন্ধ্যায় ,
চোখ দুটি বসে থাকে তারা হয়ে ,
জোনাকির মতো হয়ে গাছে ।
এ শীত কি এনে দেবে কাছে
দূর বসন্তকে ?
এ সব বিষয় নিয়ে রাস্তায়
বলাবলি করে বহু লোকে ।
এ সব কথার টুকরো ভেসে আসে কাণে ,
যে সব ঘটনাবলী আজকাল চারিদিকে ঘটে বা ঘটেছে
কি যে তার মানে ,
কি যে তার নিহিত সংবেদ ?
কিছুই যায় না বোঝা ,শুধু বাড়ে মেদ ।
অভিমান ওঠে ফুলে
ক্রোধ এসে কাঁধে রাখে হাত ।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফেটে পড়ে ব্যক্ত সংঘাত ।
চলে গুলি ,ফাটে বিপর্যয় ,
এ শুধু প্রকট করে অন্তরে নিহিত মহা ক্ষয় ।
নদি হয়ে ভেসে যেতে চায় অনুভূতি -মগ্ন হাহাকার ,
দূর ভবিষ্যতে নকশা নেবে কি আকার ।
সন্দেহ কি আছে
এ শীত কি এনে দেবে বসন্তকে কাছে ?

Sunday, 19 January 2014

তোমাকে কি ভুলে যেতে পারি




তোমাকে কি ভুলে যেতে পারি ,
তুমিই তো আসল সঞ্চারি ।
বাহুর পেশীতে তুমি ভরে দাও জোর ,
বসাও শীতের রাতে গানের আসর ।
তোমাকে কি ভুলে যেতে পারি ,
তুমিই তো ক্যাদিল্যাক গাড়ি ।

তুমিই তো বাসনা বিদ্যুতে
মাথার ইন্ত্রিকেত গলি ভরে দাও ভূতে ।
কখন কি করে বসে নেই তো ঠিকানা ,
চোখ বুঁজে সিনেমায় দৃশ্য দেখি নানা ।
তুমিই মিছিলে থাকো সকলের আগে ,
তোমার নামেই রোজ ভোরে কাক জাগে ।

তোমাকে কি ভুলে যেতে পারি ,
সন্ধ্যার বাতাসে তুমি শঙ্খচিল গগনবিহারী ।
সমুদ্রের ঢেউ হয়ে ভাঙও বেলাভূমি ,
খোকার মাথার কাছে তুমি ঝুম ঝুমি ।
জলে ভেসে যায় সুধা ,স্নোতে আমেরিকা ,
ভাতুক তোমার ভালে বিজয়ের টিকা ।

শত শত ওক আর সায়কমোর ডাকে ,
রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে বসে থাকলে মনে পড়ে তাকে ।
শালিক চড়ুই কাক দোয়েলের কল কাকলিতে
মনে পড়ে যায় সব ,মনে পড়ে অদূর অতীতে
অন্য এক পৃথিবীতে আরও এক পৃথিবীর বাড়ি ।
জমানো বরফ গুলো গলে যায় সব তাড়াতাড়ি ।
গাছ আর ঘাসগুলি হেসে ওঠে স্নানের পশ্চাতে ,
আজ খাবো স্মৃতি -ভাত ঘটনার ভাজা দিয়ে পাতে ।   

Tuesday, 14 January 2014

জীবনবোধের জল




নদি ডাকে ,পাহাড়ও তো ডাকে ,
পথ এসে ডেকে নিয়ে যায় দূরে 
              যেখানে আলোয় ভরা অন্ধকার থাকে ।
যেখানে জলের নিচে পাথরের শ্যাওলার গ্লানি ,
ছোট পথে ,ছোট বাঁকে যত হয়রানি ।
যেখানে এ বাস যাবে ,সেখানে কি অরুনিমা থাকে ?
নদি ডাকে ,পাহাড়ও তো ডাকে ,
ডেকে নিয়ে যায় দূরে 
যেখানে সময় বসে জীবনের ধূলোবালি মাখে ।

সন্ধ্যা হলো ,ওই তো সরব হলো নক্ষত্রের পাড়া ।
ডাকে নাকি আমাদেরও ,
                            হাত ধরে নাচ হলে সারা ।
বড় পাথরের বুকে জলের হালকা টোকা 
                                            বলে দিয়ে যায় -
মনের গভীরে গিয়ে সভা হবে আজ সন্ধ্যায় ।
কত কাজ পড়ে আছে বাকি 
                             কত গাছ ফোটায় নি ফুল ।
কুয়াশার জল এসে ধুয়ে দেয় সব নির্ভুল ।
মেঘের কপালে আলো 
                          বিদ্যুতের আলো আমি জানি । 
তারপর ভরে ওঠে ,টিয়ার ঠোঁটের মত জ্বলে ওঠে 
                                            রানী মহারানী ,
রূপের লাবণ্য জুড়ে অরূপ আলোর ঝলকানি ।

নদি ডাকে ,পাহাড়ও তো ডাকে ,
                                         ডাকে মহাকাশও ।
অনন্ত কাল শুধু জীবনবোধের জলে ভাসো ।     

Monday, 13 January 2014

ভ্রষ্টাচারী




মনের ভিতরে আছে বাসনার গোপন বিদ্যুত ,
মাথার ভিতরে তাই কত শত রঙ্গময়ী ভূত
সমস্ত শরীরে হাঁটে ,শিরা বেয়ে উঠে যায় শিরে ।
জলের ভিতরে ডুবি ,ডুবে যাই অনেক গভীরে

বাদুড়ের মত ডানা মেলে উড়ি ঘোলাটে আকাশে ,
কত দিন ,কত রাত একা কাটিয়েছি বসে ঘাসে ।
নরমে গরমে মাটি আমাকে দিয়েছে ভালোবাসা ,
আমি তাকে গড়ে দেবো নাকে নথ ,হাতে মানতাসা ।

মাথার ভিতরে খোলা জানলা দিয়ে করে আনাগোনা ,
তিড়িং বিড়িং ভূত ,এনে দেয় প্রভূত মার্জনা ।
ভিক্ষে করে আনা নয় ,রীতিমতো শ্রমে অর্জিত ,
মনের ভিতরে যত ভালোবাসা ,নয় সব মৃত ।

এখনও তো আছে প্রেম ,আছে কামরাঙ্গা গাছে আঠা ,
ফুলে ভরা দস্তানার নিচে আছে সূচীতীক্ষ্ণ কাঁটা ।
মনের গভীর জলে ডুবে আছে অন্ধকার পর্যটনকারী -
হিংস্র ও কঠিন আর ষড়যন্ত্রী ,ঘন ভ্রষ্টাচারী ।  

Saturday, 11 January 2014

মেঘ করেছে




বড় বড় স্বাস্থ্যবান থামগুলোর গা ফেটে
                          কবেই বেরিয়ে পড়েছে হাড় -পাঁজরা ।
এখন গলে গলে পড়ে যাচ্ছে বিকলিত মাংসপেশীগুলো ।
সনাতন সনাতন করে যারা পাগল হলো
                           তারাও নাকে দিচ্ছে সুগন্ধী রুমাল ।
জমিদারবাড়ির শেষ বংশধর রংচটা পালঙ্কে শুয়ে
                           শেষযাত্রায় যাবে বলে অপেক্ষায় আছে ।

মেঘ করেছে ঈশান কোণে ,কালোর রূপে বিদ্যুতের আলো ,
বুক খুলে রেখেছি ,জড়িয়ে ধরবো বলে এই জলধারা ।
জানালার গরাদে  ঠেকিয়ে মাথা ,
                           কে বিমোচন করছে এই চোখের জল ?
হঠাত কড় কড় কোরে পড়ল বাজ ,ইস্কুল বাড়ির ছাদে ।
ভাগ্যিস ইস্কুল বন্ধ ,নইলে কি হতো ,
                                              কল্পনাও করা যায় না ।

হাতের মুঠি উঠিয়ে আজও মিছিল যায় ,
           আজও সদাশিব আর হালিমরা ভিড় করে দাঁড়ায়
মসজিদ বাড়ির মাঠে ,শুনবে বলে বন্ধন -মুক্তির কথা ,
তার মুখে যে কোনোদিন জানলোই না বন্ধনের কথা ,
                                             মুক্তি তো দূরেই থাক ।

বড় বড় থাম গুলো তো ভাঙ্গবো ভাঙ্গবো করছে ,
মাথার ছাদটা যে কেন ভেঙে পড়ছে না
                                          সেটাই আশ্চর্যের বিষয় ।


                

Friday, 10 January 2014

শীতের রাত





শীতের গভীর রাত
এ পৃথিবী কম্বলের নিচে আছে ঢাকা ।
আমাদের চেনা গাছ ,চেনা তারা ,চেনা এ আকাশ ,
কেমন অচেনা লাগে ,যার সঙ্গে হাঁটি বারোমাস ।
থেমে আছে এ বাসের সবকটি চাকা ,
শীতের গভীর রাত ,
                          কম্বলের নিচে আছে ঢাকা ।

জীবন দাঁড়িয়ে আছে বারান্দার এই অন্ধকারে ।
জলের স্রোতের মতো সময়ের স্রোত ডাক ছাড়ে -
শাঁখের আওয়াজ যেন ,বৃক্ষ ওঠে কেঁপে ।
দুর্বল হৃদয় যত ভয়ে হিম ,ঢোকে গিয়ে লেপে ।
শীতের গভীর রাত
আগুন উঠেছে জ্বলে দৃশ্যহীন রূপে অকস্মাৎ ।
আকাশের অন্ধকার চিরে ওঠে সুতীব্র আওয়াজ ।
আগুনের শিখাগুলি নৃত্য পরা ,
                        পরে ফেলে বিমোহিনী সাজ ।
আমাকে ভোলাবে বলে ,
                        শব্দ ওঠে ,আমাকেই ডাকে ।
নদি চলে যায় দ্রুত কালো ওই পাহাড়ের বাঁকে ।

শীতের গভীর রাতে
                      আমি তো তোমাকে কাছে ডাকি ।
এসো কাছে ,পেরিয়ে ও ছায়াপথ ,
                        দিও না আমাকে কোনো ফাঁকি ।
      

Thursday, 9 January 2014

Translation : Rabindranath's Song : Prane Khusir Tufan Utheche.....




The soul is deluged in glee .
Broken is the fetters
               of fear and worry.
The heart is besides itself to embrace
The grief that's the hardest of grace .
Though I thought nobody has place in here.
All have gathered up breaking the door of fear .
I took care to deck up myself
                                            rinsed and clean.
Wallows it now in dust in absolute joy carefree .

Translation : Rabindranath's Song : Jagote Anondo Jogne Amar Nimontron



Invited I'm to the festivity of cosmic exuberance .
I'm honored , honored is my life in human sense .
My eyes ramble to satiation in the land of beauty.
My ears are sunk in deep melody without pretense .
I play on flute , a duty I'm bestowed with
                                                     in your oblation .
I weave in songs the woe and joy of soul's passion.
Is the time right to see you at your court ?
I shall sing my way to greet you - that's my appeal
                                                             in essence .

Wednesday, 8 January 2014

চিকেনের কষা আর মোলায়েম নান





দিনের পর দিন প্রতিদিন ,
কতকগুলি শব্দ
সুখ দুঃখ আঘাত প্রত্যাহার
ও নিদ্রা থেকে জেগে উঠে
জেনে যায় জীবনের সার ।

শিশু বৃক্ষ নার্সারিতে থাকে ,
শিশু ব্যাঘ্র মায়ের গুহায় ।
মাংসাসী সন্ধ্যার অবসানে
ফিরে আসে জেনে সব মানে ।

শীতের শব্দ নেই পাতা ঝরা ছাড়া ,
হাওয়ার সেনারা সব দিচ্ছে পাহারা ।
ইউক্যালিপ্টাস গাছ সুগন্ধী পাতায়
স্মৃতির সমস্ত সুধা কেড়ে নিয়ে যায় ।

ঘাসের উপরে তার পায়ের ছাপের
চিহ্ন পড়ে আছে ভেজা ,তবু বন্ধু ফের ,
নক্ষত্রের হাত দিয়ে পাঠিয়েছে প্রেমের বয়ান ,
এই তো মনের খাদ্য -চিকেনের কষা
                              আর মোলায়েম নান ।

Tuesday, 7 January 2014

পূবদিক এখনও কালো





এখনও টুপটাপ কোরে ঝরছে
                                     আনন্দের ফোঁটা ,
                কাল সারারাত ঝরেছে অবিশ্রান্ত ।
জমে আছে এই তরল
রাস্তার ফাটা কপালে আর মানুষের মনে ।
এখনও ভিজে হোয়ে আছে জামা ও পোষাক ।
উজ্জ্বল হোয়ে আছে আলোর ময়লা শেড
ধোয়া পাতার মতো ,হৃদয়ের শিহরণে
এখনও চৌসা আমের মতো ঝরে পড়ে মধূ ।
তুমি কি দেখতে পাও এসব ?
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ
               পূবদিক এখনও কালো হোয়ে আছে ।


ব্যস্ত মানুষ





ব্যস্ত সে তো দেখতে আমি পাই ,
এ ডাল থেকে ও ডাল তুমি
                   লাফিয়ে বেড়াও ভাই ।
সন্ধ্যা  আসে সঙ্গে নিয়ে তারা ,
তাদের চিত্কারে এখন কাঁপছে
                                  যত পাড়া ।

ব্যস্ত থাকার সবাই করে ভান ,
অব্যস্ততা লজ্জা যে তাই
                      প্রাণ করে আনচান ।
ভান করা ভান করতে করতে আসে ।
যখন আসে তখন শান্তি
                          ভর করে সন্ত্রাসে ।

ইচ্ছে করে একটুখানি
                          গাছের ছায়ায় শুই ।
গাছের ছায়ায় স্তব্ধতা ,ওই
                               মাচান জুড়ে পুঁই ।
তাগড়া লতা যাচ্ছে নিয়ে -
                                পড়বে এবার কাটা।
গঙ্গার জল ,পূণ্য তরল ,চলছে এখন ভাঁটা ।

ও জল ব্যস্ত , তুমিই বলো
                                ডাকছে বন্ধু সাগর -
গাছ কেটে রস সুগন্ধী -নাম আগর ।
ব্যস্ত মানুষ অকারণে
                             ঘুমের মধ্যে ভাবনা ,
কোন সূতোতে প্যাঁচ দেবে সে ,
                                মানুষ খাবে জাবনা ।

ব্যস্ত মানুষ ,শান্ত মানুষ ,
                                 যাচ্ছে চাঁদের বাড়ি ,
চাঁদ আকাশে চড়ছে লিমো
                                 দিচ্ছে দূরে পাড়ি ।
পায়ের তলায় নরম ঘাসে
                                  চিন্তা গভীর ঘুমে ,
মেঘ উড়িয়ে জল কুয়াশা
                                 পূজোর এ মরশুমে ।      

Monday, 6 January 2014

বেঁচে থাকবার ভাত





এখন আমার দিন তো রজনীগন্ধা ,
হেড লাইটের আলোতে দেখেছি মুখ ।
বকুলে গোলাপে গঙ্গা -যমুনা সন্ধ্যা ,
চেয়ে আছে নক্ষত্র নিরত্সুক ।

ছোট ঘাস ফুল দেয় শুধু হাতছানি ,
রেলের গাড়িতে উন্মনা হয় মন ।
সুখ তো জীবন -অঙ্কের মহারানী ,
এ সত্য জানে অলখ নিরঞ্জন ।

গন্ধরাজও ফুটেছে দিনের টবে ,
রাস্তার পাশে অন্ধ বিজন রাত ।
যত উষ্ণতা আমার এই অনুভবে ,
এ ভাবেই ফোটে বেঁচে থাকবার ভাত ।





Sunday, 5 January 2014

কল ঘরে জল পড়ে







দুঃখ থেকে সব রস খেয়ে গেল সর্বভুক কাক ,
মাটির মনের কাছে অন্তত আছে পড়ে জল আর ঘাস ।
কলসির সব রস পড়শিরা খেয়ে নিয়ে যাক ,
এসো ভাগ করে নিই বেদনার হাড় রক্ত মাস ।

রসে রসে ভরে আছে খেজুরের রুখা শুখা গাছ ,
কোথা থেকে পায় সে এ কোমলতা যা অতি বিরল ।
দোয়েল দেখায় তার সাদাসিধে রহস্যের নাচ ,
কলঘরে জল পড়ে ,ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় সব জল । 


প্রেম তবে কাকে দেব






পথ ভেঙে যায় পথে ,পাথরে দুরন্ত বারোমাস ,
তোমার আমার মাঝখানে ,প্রেম নামে স্বপ্নের আবাস ।
জলে দোলে আলোছায়া ,পথ হেঁটে যায় আশ্বাসে।
সীমানার ইউক্যালিপ্টাস ফুটে ওঠে দিনের আকাশে ।

কার কাছে যাও খুকি ,বাড়ি যাও ,বেড়ে গেছে বেলা ,
সময় তো হিংস্র আজ ,দুর্ঘটনার পথে হেঁট না একেলা ।
পথ ভরে বেনোজলে ,রাত এসে কড়া নাড়ে রাতে ।
কে এসে বিরক্ত করে ,এ সময় ,কে হাড় -হাবাতে ?

তোমার নাকের নথে ঝুলে আছে ,ন্যাজঝোলা পুরোনো প্রেমিক ,
তুমি তো ভালোই আছ ,তোমাকে সে ভালোবাসা দিক ।
পথ ভেঙে যায় পথে ,কুয়াশায় ঢেকেছে পাহাড় ,
প্রস্তরে রাস্তা আছে ঢেকে ,প্রেম তবে কাকে দেবো আর ?  

তুমি তো মধুর






তুমি তো মধুর ,তাই
                          দূরের আকাশ নয় দূরে ।
আলোছায়া দোলে অন্ধকারে
                      তোমার নদির অন্য পাড়ে ।
তুমি সুমধুর ,তাই
                        বেসুরেও বেজে ওঠে সুর ।

পুকুরের শান্ত জলে আলো
                        পাতার শরীর ছুঁয়ে পড়ে ।
মাছ এসে খেয়ে যায় সব
                        সরসী -দিদিরা যায় ঘরে ।
তুমি আলো এই অন্ধকারে
                        জীবনের সুর বাজে তারে ।

তুমি ফুল ,তাই গন্ধ আসে ,
                     চারিদিকে বাতাসে বাতাসে ।
বৃষ্টি পড়ে কেটে গেলে ঝড়
                            আপন সবাই ,নয় পর ।
তুমি ভোর ,তুমিই সকাল
                        তুমি আছ ,তাই সূর্য লাল ।

তুমি আছ ,তাই ফোটে ভাত ,
                            অন্নের দানায় সাক্ষাত ।
তুমি আছ ,তাই জোনাকিরা
                    জ্বালে আলো যেন জ্বলে হীরা ।
তুমি আছ ,তাই শূন্যতায়
                     সারি বেঁধে সৃষ্টি ভেসে যায় ।
                 ----------------


Saturday, 4 January 2014

তুমিই কি সে






কাজ কি ভেবে এদিক ওদিক সেদিক
                                               স্বপ্নে আলো জ্বেলে ,
নদির ধারে বসিয়ে রেখে আমায়
                                             কোথায় তুমি গেলে ?

তোমার কি মন রক্তে মেলে ডানা
                                              শিরার পথে যেতে -
এই দুনিয়ার সমস্ত মাঠ ঘাটে
                                              বসবে জানু পেতে ?

তুমিই কি সাজ ,তুমিই কি লাজ ,
                                              কনে বউএর হাসি ,
তুমিই কি সে ,যে বোলেছে এসে ,
                                           তোমায় ভালোবাসি ।   

এত অন্ধকার কেন






এত অন্ধকার কেন
                   অমানিশা খেয়েছে কি চাঁদে ?
আকন্ঠ ডুবে থেকে ক্লেদে
                      পৃথিবীটা হাসছে আহ্লাদে ।

মানুষের মনে আজ
                           স্বপ্ন নয় ,শুধুই বারুদ ,
উড়তে চায় পাখির ডানায় ,হাতে
                      ভুলে -ফোলা ব্যর্থ বুদবুদ ।

সকালের নদি বেয়ে নেমে আসে
                আড়া মোড়া ভাঙা কিছু রোদ ।
ভেতরের জামা খুলে
                    কারা কাকে জানাবে প্রবোধ ?

এত অন্ধকার কেন -
               আলোকণা খেলো কি পিপড়েরা ?
জীবন অনেক বড়
                     আলো -অন্ধকারে সর্বসেরা ।

তবু অন্ধকার হাসে
       খোলা -ছাড়া কদলীর সুগন্ধী বাতাসে ।
সন্ধ্যার মদির গন্ধ ঘন হয়ে
                               আবহাওয়ায় ভাসে ।   

Friday, 3 January 2014

সুন্দর পৃথিবীকে







সেঁজুতি সান্যালের মত সুন্দর পৃথিবীকে লাগে ,
এ কথাটা ভাবা হলে শেষ ,অনুভব আসে অনুরাগে ।
কে এই সেঁজুতি বালা ,যার কাছে এ পৃথিবী ভালো ?
মিছিলের শেষ নেই ,চায় পরিবর্তন জমকালো ।
জমাট বরফ হয়ে পড়ে আছে সারি সারি গাড়ি রাজপথে ,
ক্ষীণ এ চোখের দৃষ্টি ,দেখাবে সে কোন ছবি দূর ভবিষ্যতে ?
সেঁজুতি সান্যালের নাম কেন এলো ,সে কি কারো চেনা ?
আমার বাগানে চাঁপা ফুল ,এই শীতে বসন্ত আনবেনা ।
সেঁজুতি সান্যালের মত সুন্দর লাগে এই পৃথিবীর মাটি ,
এ মাটি আমার ,তাকে সাজাবো সুন্দর পরিপাটি ।

কি করে সাজাবো আমি ,শুধু ভরে কবিতার খাতা ?
না কি কিছু করে কাজ ,ভেবে ভেবে ঝরে যায় পাতা ।
সেগুনের বড় পাতা ,দোপাটির ছোট পাতা সব ,
ভাবার উত্সব চলছে ,চারিদিকে ভাবার উত্সব ।
আকাশে তারারা আসে ,প্রহরে প্রহরে নব তারা ,
ভেবে ভেবে ক্লান্ত হয়ে অন্য আকাশে গেল তারা ।
তাই শুধু থাকি জেগে ,আমি আর আমার এই
                                                  সেঁজুতি সান্যাল ,
বুকে রঙ সবুজের ,মনের ভিতরে নিয়ে লোহিত সকাল ।







শ্বেতা





কত যে রক্তের স্রোত বয়ে গেলো হয়ে ছোট বড় স্রোতবতী ,
কত যে নারীর রক্ত জ্বলন্ত চিতায় পুড়ে হয়ে গেছে সতী ,
এখনও তৈরী হয় নি তার পরিপূর্ণ সূচী -
                                           হায় ভাষা ,তুমি কি দুর্বল ।
একবিংশ শতাব্দীর ত্রয়োদশ বৎসরের শেষ পাদে এসে
                                                                 এই রাতে ,
                               এই দুঃখ এনেছে আমার চোখে জল । 
এই জলে আছে নূন ,সমুদ্রের নূন নয় যে তা ,
জলধির দিকে মুখ শ্বেতাম্বরা রূপে এসে দাঁড়িয়েছে শ্বেতা ।