Sunday, 30 March 2014

ধূলিতে ধূলিতে জাগে প্রাণ





সন্ধ্যা অনেক আসে
কাতারে কাতারে আসে তারা ।
সময় তাদের করে দান ,
সময়ের বিনীত আস্কারা ।

ফুটপাথ আলো কোরে
দাঁড়িয়ে রয়েছে ল্যাম্প পোস্ট ।
বাতাসে ভেসেছে অনুকণা ,
আজ শোয়ে কে হোয়েছে হোস্ট ?

তোমার আমার মাঝে তারা
এ ওর প্রাণের কথা বলে ।
কালো মেঘে ক্ষুব্ধ বারিধার
ঝরে আত্মমোচনের ছলে ।

অনেক সন্ধ্যা আসে ,
আসে তারা ভিন্ন ভিন্ন বেশে ।
জোনাকির অন্ধকার এলে
তারা নাচে মেঘবতী কেশে ।

রাস্তায় সারিবাঁধা চোখ
তুলে ধরে দৃষ্টির নিশান ।
আজ সৃষ্টি মধূময় হোক ,
ধূলিতে ধূলিতে জাগে প্রাণ ।



Sunday, 23 March 2014

আমি আছি ,তুমি আছ বোলে






যদি কোনো মেঘ এসে বোলে দেয় তোমার ঠিকানা ,
আমি তাকে দেবো চুমু ,আমি তাকে জড়িয়ে ধরবো যেন
                                                          ভঙ্গিমায় নানা ।
চিলের ডানায় ভেসে আমি তাকে নিয়ে যাবো উরাল পর্বতে ,
শীতের সকালবেলা আমি তাকে সঙ্গে নেবো ভ্রমনের পথে ।

ছাদের ওপরে আরও ছাদ আছে ,সে খবর জানে ওই পাখি ,
সে শুধুই গায় গান সুরেলা আওয়াজে ,তাকে কোথায় যে রাখি
আমার এই ছোট্ট ঘরে ,যেখানে উদ্যান নেই কোনো ,
মনের উদ্যান ছাড়া ,ও পাখি তোমায় বলছি শোনো ,

যদি কোনো রোদ এসে বিছানায় সুন্দরী শরীর মেলে ধরে ,
সুন্দর মুখের থেকে যদি তার গোপন কথাটি নড়ে চড়ে ,
যদি সে হঠাত উঠে বারান্দায় যাবে বোলে দেয় সেই চিঠি ,
আমি কি উন্মাদ হব ,বকাটের মত আমি বাজাবো কি সিটি ?

যদি কোনো মেঘ এসে বোলে দেয় তোমার ঠিকানা ,
সবুজ রঙের পাশে হলুদের রঙএসে দৃশ্য দেখে নানা ।
কুয়াশায় যাবো ভেসে ,এক তরলতা থেকে অন্য তরলে ,
আমি তো তোমাকে জানি ,আমি আছি ,তুমি আছ বোলে ।





Monday, 17 March 2014

গভীর রাতে ঘুম ভাঙে রোজ





গভীর রাতে ঘুম ভাঙে রোজ ব্যস্ত কড়া নাড়ায় ।
দরজা খুলি ,ঘোর অন্ধকার কালো হাতটি বাড়ায় ।
জড়ায় আমায় অন্ধকারে ,অসিত গভীর নদির ধারে ,
কুয়াশা ঘন বনাঞ্চলে ,কে যেন পথ হারায় ?
গভীর রাতে ঘুম ভাঙে রোজ ব্যস্ত কড়া নাড়ায় ।

শীতল হাওয়া সামনে এসে কপালে হাত বোলায় ,
আলোর যে খোঁজ ,সন্ধান তার ,আছে কি কাঁধ -ঝোলায় ?
সে কি বাউল ,পথ হেঁটে যায় ,অন্ধকারকে চিরে ,
সব মানুষের পিঠ বেঁকে যায় ,বোঝার ভার বাড়ায় ।
গভীর রাতে ঘুম ভাঙে রোজ ,ব্যস্ত কড়া নাড়ায় ।

আমবাগানের মধ্যে সেগুন বিশাল পাতা মেলে ,
দাঁড়িয়ে  আছে উজ্জ্বলতায় ,খোঁজ কি পথের পেলে ?
প্রশ্ন করি একে তাকে ,পথের খোঁজে পথে ,
বুক যেন হায় গুমড়ে ওঠে অন্ধকারের পাড়ায় ,
গভীর রাতে ঘুম ভাঙে রোজ ,ব্যস্ত কড়া নাড়ায় ।

পিপড়ে -পুরাণ





কোথায় থাকে এ পিপড়েরা অলৌকিকভাবে ,
লুকিয়ে কোন ফুটোয় ফাঁকে একসাথে সদ্ভাবে ।
 গন্ধ পায় ,না ড্যাব ডেবিয়ে খাদ্য দেখে আসে ,
তা জানি না ,খাদ্য তবে শেষ করে উল্লাসে ।

মিষ্টি খেলে মানুষ নাকি মিষ্ট -ভাষি হয় ,
আমেরিকান এ গবেষনার জয় হোক ভাই জয় ।
মিষ্টি জিনিস যা কিছু হোক পিপরাজিদের টানে ,
এক মুহূর্তে শেষ হোয়ে যায় ,জানে বা আনজানে ।

অজ্ঞানে এই পিপড়েরাজির গুনের গান গাই ,
এই গুনগান গেয়ে সে যে কি আনন্দ পাই ।
এই আনন্দে বাতাস মুখর ,খেলার মাঠে ভিড় ,
নীল আকাশে পায়রা ওড়ে, মন করে অস্থির ।  

Sunday, 16 March 2014

ঝংকার





চারিদিকে শুধু ঝংকার উদগত ,
চেতনায় কিছু সুর বাজে অবিরত ।
ঝন ঝন কোরে ভাঙে জানলার কাঁচ ,
ঢুকে আসে হাওয়া বুকে অনন্ত নাচ ।

এ নাচ আমাকে নৃত্য -ছন্দে ডাকে ,
ডেকে নিতে চায় অন্ধ -কুম্ভীপাকে ।
খুলে দিই সব জানলা দরজাগুলি ,
সূর্য -আলোক এসে ধরে অঙ্গুলি ।

আমার সঙ্গে হেঁটে যায় প্রান্তরে ,
দীর্ঘ সময় বসে থাকে হাত ধরে ।
তারপর ফিরে চলে যায় মহাকাশে ,
আলো নিবে গেলে যখন সন্ধ্যা আসে ।

অন্ধকারের ঝংকারে অবিরাম ,
ঝংকারে বাজে সুখ দুঃখের নাম ।
চরিদিকে  শুধু আনন্দ উদগত ,
কবুতর ওড়ে ডানা মেলে শত শত । 

এই পাওয়া ,সবখানি পাওয়া





আমি তো নিঃসঙ্গ নই - পৃথিবী তো আছে ,
হাওয়া আছে ,আকাশের নীল আর
                                ফুল আছে ,দূরে নয় কাছে ।
আমি তো নিঃসঙ্গ নই ,হাতে আছে মানুষের হাত ,
নিবিড় জড়িয়ে বুকে ,হেঁটে হেঁটে আছে যাওয়া
রাজপথ দিয়ে দূরে ,ছোট ছোট ফুলে ভরা
                                              দিনের রোদ্দুরে ।
বটের শাখার পাশে ,সেগুনের ডালে ,
বাতাসের অডি যায় মেঘের মতন ভেসে
                               হাত রেখে ছন্দ আর তালে ।
আমি তো নিঃসঙ্গ নই ,
আমি তো রয়েছি ভরা ব্যস্ততার ভিড়ে ।
নদির জলের মতো ছোট ছোট ঢেউ তুলে
ভেসে ভেসে চলে যাই
                             তড়িত -গতিতে নয় ,ধীরে ।
যখনই ভেবেছি আছি জনারণ্যে একা ,
                তখনই পৃথিবী এসে দিয়ে গেছে দেখা ।
জড়িয়ে ধরেছে বুকে হাওয়া ,
তখনই জেনেছি মনে -
                           এই পাওয়া ,সবখানি পাওয়া ।

Friday, 7 March 2014

প্রেমের জীবাণু






চোখের হাওয়ায় অনেক সময় জীবাণু থাকে প্রেমের ,
লাগলে মনে জ্যাম লেগে যায় ,সব কিছু যায় থেমে ।
চিন্তা শক্তি ,বুদ্ধি ভক্তি ,উড়বে দেখো ডানায় ,
যাদের কাছে সময় আছে ,তাদের এসব মানায় ।

হাট -খোলা ওই জানলাখানির পর্দাখানি তোলা ,
ফুরফুরে এক আসছে বাতাস ,লাগলো বুকে দোলা ।
সরস্বতী পূজোর পরেই পাল্টে পাল্টে আকাশ ,
দখিন হাওয়ায় কারসাজিতে মন করে হাঁস ফাঁস ।

আমের বোলে হৃদয় দোলে ,কামরাঙ্গাতে টিয়া ,
কামড়ে কামড়ে শেষ কোরে দেয় জীবাণু -লাগা হিয়া ।
তখন শুধুই তাকিয়ে থাকা ,মনটা ওঠে ঘেমে ,
চোখের হাওয়ায় অনেক সময় জীবাণু থাকে প্রেমের ।





চুম্বন






বন্দীত্বে বিশ্বাসী নই ,মুক্তি পেতে চাই ,
সারাদিন ,সারারাত ,তার নামে পতাকা উড়াই ।
চব্বিশ -ঘন্টার মধ্যে কতবার ফুল ফোটে ,
                                 কতো বার হাত নাড়ে তারা ,
হিন্দীতে প্রেমের গান গায় রোজ কে বা কাহারা ।
বন্দীত্বে বিশ্বাসী নই ,মুক্তি পেতে চাই ,
জানু ভেঙে বসে প'ড়ে
                                তার হাতখানি ধ'রে চুম্বন খাই ।

প্রতিটি জন্মের দিনে









প্রতিটি জন্মের দিনে অন্ধকার আলোতে মিলায় ,
হাতছানি দিয়ে হাওয়া আনন্দিত উদ্ভাসে
                                        নিয়ে যেতে চায় ।
ধীরে ধীরে বাড়ে বেলা ,রোদ্দুর কঠিন হোয়ে ওঠে ,
জীবনের কম্পন বিস্তৃত পাথরে মাথা কোটে ।

প্রতিটি জন্মের দিনে অন্ধকারে জ্বলে রঙমশাল ,
প্রতিটি মুহুর্তে জ্বলে মোমবাতি রেখে ছন্দ তাল ।
কোথাকার রস এসে কোথায় দাঁড়ায় ,
চট কোরে বুঝে ওঠা দায় ।
প্রথম রোদ্দুর এসে পাখির মতন কোরে ডাকে ,
অন্ধকার গিয়ে ঢোকে বাক্স তোরঙ্গের ফাঁকে ফাঁকে ।
ইন্টারনেট থেকে হঠাত বেরিয়ে বারংবার ,
বলে আমি ফিরে আসবো সন্ধ্যায় আবার ।

প্রতিটি জন্মের দিনে সুখ এসে টোকা দেয় দোরে ,
পায়েসের বাটি হাতে ,মুখ আলো কোরে ।
প্রতিটি সবুজ ধানে ,মাথা -নাড়া হলদে -রঙ্গা শীষে ,
প্রতিটি জন্মের দিনে সুখ যায় দুধ হোয়ে মিশে ।

জন্মদিন




জন্মদিন ভেসে আসে সমুদ্রের ঢেউ-এর আঘাতে ,
বালুকাবেলায় এসে আছড়ে পড়ে ,ওঠে রোশনাই ।
আমি তো দাঁড়িয়ে থাকি প্রতি ক্ষণে ,প্রতিটি বিজনে ,
মুহুর্তের মুখোমুখি দাঁড়াবার শক্তিকে অর্জন করি মনে মনে ।
বাতাসে খবর আসে ,শূন্যে কম্পন জাগে ডানার আঘাতে ,
বৈদ্যুতিক জালে এসে আটকে থাকে অজানা খবর মধ্যরাতে ।

বহুদিন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকেছি যেন ভোরের আশায় ,
নদির জলের পাশে শব্দ হয় ,রঙ ওঠে আকাশের গায় ।
বৃষ্টি হয় ,শুকনো হাওয়া পাতার বন্ধন ছেড়ে ওঠে ,
ভিজে হোয়ে থাকে মন ,মনের হরিণ তবু ছোটে ।
কোনখানে কোন বনাঞ্চলে তার লক্ষ্য আজ কিসের সন্ধানে ,
বৃষ্টি আসে ঝম ঝম ,প্রতিটি পাতায় বাজে জন্মদিন গানে ।

Sunday, 2 March 2014

ভাত





শব্দগুলো ফুটছে হোয়ে ভাত ,
বাড়ছে গন্ধ ,বাড়ছে ক্ষিদের
                  বিচে কলার পাত ।
ডাল পড়েছে ,সঙ্গে আলু ,
                  ফুলকপি আর গাজর ,
ক্ষিদের সঙ্গে হচ্ছে যুদ্ধ ,রবটি
                           সাজো সাজো ।
শাদা বাড়ি ,সবুজ বাড়ি ,হলুদ বাড়ির কাক ,
বসেছে চোখ ক্ষিদেয় ভরা ,
                                    ক্ষুধা শান্তি পাক ।
বন্ধ করো দরজা ,জানলা ,আগত উত্পাত ,
                   শব্দগুলো ফুটছে হোয়ে ভাত ।

শবের গাড়ি ,বিয়ের গাড়ি
                                 মিলিয়ে হাতে হাত ,
চলছে সোজা ,কমিয়ে বোঝা ,ঝেঁটিয়ে বজ্জাত ।
খেলছে যতো উচ্হ্চিংড়ে হাঁসপাতালের মাঠে ,
দেখতে দেখতে এসব ,নামেন
                                    আদিত্যদেব পাটে ।
সন্ধ্যা আসে ,শব্দাশব্দ ,ফুটবে হোয়ে তারা ,
নাকের উপর চশমা -আঁটা
                                   দেখছে এসব কারা ?
দেখছে যারা ,হাঁটবে তারাই ,
                                       ধরে নানান হাত ।
                        শব্দগুলো ফুটছে হোয়ে ভাত ।