Sunday, 31 August 2014

বাতাসের প্রসিদ্ধ সরোদ





তবু তো স্বপ্নের কাছে হাঁটু -গেড়ে বসে আছে আলো ,
জোনাকির হাত ধরে ঝিকমিক করে ওঠে অন্ধকার কালো। 
আকাশে পূর্নিমার চাঁদ ম্যাগ্নলিয়ার মতো ডানা -মেলে ফোটে ,
মনের ভেতরে যেন আকাশটা পূর্নিমার চাঁদ হয়ে ওঠে। 

ফুরফুরে ভাতের মতো কেন থালা ভরে এত শাদা শাদা ভাত ,
বোতলে সোডার মত শিরার ভিতরে কেন ফুটে উঠবার ব্যাকুলতা। 
করিডোর দিয়ে হেঁটে ডাক দেয় সবান্ধব বন্ধুবর রোদ  -
গাছে কেঁপে ওঠে জবা ,ঝালা হয়ে বেজে ওঠে 
                                                        বাতাসের প্রসিদ্ধ সরোদ।     

ছায়া এসে ছায়ায় গোপন





ছায়া এসে ছায়ায় গোপন হয়ে মেশে ,
বৃষ্টির ভেজা হাত তোমার ওই বনলতা -কেশে।
আদর করার ছলে স্পর্শ করে জানায় উষ্ণতা।
ছায়া এসে ছায়ায় দাঁড়ায়  - বলে কথা।

তুমি তো বৃক্ষের ভঙ্গী ,তুমি তো পথের অবশেষ ,
গলায় -দোলানো -মালা ,তুমিই পৃথিবী ,তুমি দেশ।
নদীর পাথর বালি ,ঘোলা জল ,নৌকা ভেসে যায় ,
কিছুই থাকেনা বেঁচে ,সব যায় ,আগত সন্ধ্যায়।

কত ঝড় এলো গেলো ,কত বন্যা ,আগ্নেয় -প্রপাত  -
শূন্য হলো কত ঘর ,অট্টালিকা, সব অকস্মাৎ।
সকালের ফোটা -ফুল সন্ধ্যায় লোটায় পথে ঘাটে ,
অন্ধকার এসে আজও সকালে মিলিয়ে যায় ইস্কুলের মাঠে।   

Thursday, 21 August 2014

জোনাকির আলো হয়ে






জোনাকির আলো হয়ে অন্ধকার এসেছে ,
দূরের পাহাড় দেখে  রাত্রিতে তাই মনে হয়। 
স্টেডিয়ামের বিকালে গোল হয় ফুটবলের ,
গৌহাটির রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকে মানুষের মন। 

রুমাল উড়ছে বোম- থেকে-ওড়া পায়রার মতো ,
পৈতের নটি দণ্ডি থেকে ওড়ে বিদ্যুতের ঝড়। 
পল্টনবাজার আমাকে যেমন ভালোবাসে ,উলুবাড়িও ,
আমি ব্রম্হপুত্র নদী হোয়ে ভেসে যাচ্ছি বঙ্গোপসাগরে। 

নিমের কচি চারা আর কুকুর -শাবকের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই ,
দুজনকেই গাল টিপে আদর করতে ইচ্ছে করে। 
আমি তো ট্রেন নয় ,আজকাল বিদ্যুতের সওয়ারী ,
রবিবারের সকালে খাই দৈ কচুরী বিনা তরকারী। 

জোনাকির আলো হয়ে অন্ধকার এসেছে ঘন হয়ে ,
আমাকে জড়িয়ে ধরতে চায় চারিদিকের বনবাদার। 
আমি পথ হয়ে হেঁটে যাচ্ছি অমল ধবল মাঠ পেরিয়ে ,
আমি দৃষ্টি হয়ে দেখছি হেঁটে যাচ্ছে সুশৃংখল পিপিলিকা -সারি। 
   

Sunday, 10 August 2014

আবহাওয়াটি বড় অনুকূল






ট্রেন চলে যাচ্ছে ,বাতাস ছুঁয়ে,সময়ের হাতে হাত ,বম্বে সেন্ট্রালে ,
চার্চ গেটে বৃষ্টি হয় ,অন্ধেরিতে রৌদ্র -উচ্ছ্বসিত -কাক চন্দনের ডালে। 
ট্রেন চলে যাচ্ছে ঘুরে ঘুরে ,সমুদ্র ছুঁয়ে ,দূরে সেই পৃথিবীর দিকে ,
যে পৃথিবী অদেখা হয়ে রইলো ,অভাগার ভাগ্যে তার ছিড়ল না শিকে। 

ট্রেন চলে যাচ্ছে ,বারে বারেই ট্রেন চলে যাচ্ছে ,পেরিয়ে ভালোবাসার স্টেশন ,
ঘুরতে ঘুরতে পড়ে যায় আম গাছের বৃদ্ধ -পাতা ,রাস্তার উপরে তার মন 
পড়ে আছে ,তাকে হবে যেতে ,কে তাকে বলেছে যেতে ,নিতে জুঁই ফুল ,
বাড়ি মাথা তোলে দীর্ঘ ,আকাশের দিকে আজ আবহাওয়াটি বড় অনুকূল।  

ভালোবাসা রৌদ্র হয়





বাতাসে ভাসিয়ে দেহ ভালোবাসা মেঘ দিয়ে ঢাকা এক বাড়ি ,
মরুভূমি ভেদ করে কিসের এক অজানা সন্ধানে আজ 
                                                      উঠ যায় বদ্ধ হয়ে সারি ।
আমি তো অমুক্ত আত্মা , আমি এক চন্দ্রাহত প্রাণ ,
                                                     আকাশে জ্বলছি একা একা ।
অরণ্যের ফুল যেন ,নদী হয়ে ভেসে যাই , যদি পাওয়া যায় তার দেখা ।

ভালোবাসা রৌদ্র হয় , রান্নাঘরে আগুনের মত শুধু জ্বলে ,
অনিদ্রার মত জাগে ,সন্ধানরত প্রাণে ,এ বিরাট ব্যস্ত নভতলে ।
বিরাট মাঠের মত পড়ে আছে যন্ত্র সব ,চারিদিকে প্রাচীর -পাহারা। 
আমি ভালোবাসা চাই, দীর্ঘকায় বাড়ি যেন, ধরে মেয়েদের হাত,
                                                             যখন নিঝুম হয় পাড়া।