Wednesday, 5 July 2017

কান্না থামার গান




একটুখানি মজায় থাকা 
                      একটুখানি ছন্দ  ,
একটুখানি সবুজ হাওয়া 
                      একটু ফুলের গন্ধ। 

একটি দুটি ফুলকো রুটি 
                      কিম্বা একটু ভাত ,
এর বাইরে আর কি কি চাস ,
                       জ্যোৎস্নাভরা  রাত ?

এই চাওয়া তোর হচ্ছে না কি 
                      একটু সীমা ছাড়া ,
বসন্ত বায় দিচ্ছে হাওয়ায় ,
                      শুনছি কড়া নাড়া। 

দৌড়ে যাচ্ছি , বন্ধ সদর , 
                      হাট কোরে দি খুলে ,
শরীর  ও মন , বাগান সদন ,
                       যাক ঢেকে যাক ফুলে। 

ফুল কুড়িয়ে , শব্দ মেখে 
                       করবো এমন রান্না  ,
খেলেই পাবে জোর গায়ে সব ,
                       থেমেই যাবে কান্না !

           ........................

                      

প্রতি রোমে পলাশের লাল





কত নব কেমিক্যালে , কত রঙ , নতুনের রূপ নিয়ে সামনে দাঁড়ায় ,
গৃহের ছাতের পাশে পলাশের ফুলগুলি নিজেকে মার্জিত করে নব সভ্যতায়। 
কত নব ভৌত জ্ঞান , ছুঁড়ে ফেলে দেয় দূরে পুরাতন পোষাকের মায়া ,
নতুন রঙের  সাজে , কব্জিতে বেলফুল , হেঁটে যায় অলি গলি অলীক বেহায়া। 

তোমাকে উদ্দেশ্য কোরে আমার এই লেখা জোকা , নতুন মডেল ,
তুমি কি শুনেছো কিছু , জলভরা এ বাতাসে , ওগো মাদমোইজেল !
নাকি সব শব্দ গুলি বাক্য হোয়ে উড়ে যায় পশ্চিমের ঘাটে ,
তোমার এ অবহেলা,  ভালোবাসা নিয়ে খেলা , দুদিকেই কাটে। 

তবুওতো কত মাছি , সজিনার ফুলে এসে বসে সারাদিন ,
যদি কিছু পায় মধু , ভরা মাঠ  , নয় ধুধু , সময় নবীন। 
পদ্মের পাতায় এসে , আমার বুকের ভাষা , বসে ছদ্মবেশে ,
তোমাকে জানাতে চাই , প্রতি রোমে পলাশের লাল ওঠে হেঁসে। 

                    .......................................

Thursday, 15 June 2017

ভালোবাসার গান




দেহ আমার বাসাবাড়ি , এই বাড়িতেই থাকি ,
যেমন খাঁচায় বন্দী থাকে বনের টিয়াপাখি। 
এইটি আমার জগৎ , আমার পাড়া , আমার সমাজ ,
নেই তো আমার গির্জে যাওয়া , মন্দির নেই , নামাজ। 

আমিই তো সেই ঈশ্বর যে চালায় জগৎটাকে ,
প্রণাম করি তাঁকে আমায় খাওয়ায় যে সেই মাকে। 
ফসল ফলায় , বাজার করে , রান্নাঘরে ঢুকে 
সবার জন্যে রাঁধে , আমায় খাওয়ায় মনের সুখে। 

দেহ আমার ভাড়ার বাড়ি , মাস গেলে দিই ভাড়া ,
ঘোষ বোস আর মুখার্জি পাল - সবাই আমার পাড়ার। 
সকাল বেলায় আপিস করি , রাত্তিরে যাই ফিরি ,
সময় যে যায় , বয়স গড়ায় , চড়তে চড়তে সিঁড়ি। 

কোথাও বলে গুড নেবারহুড , কোথাও লোকালিটি ,
ট্রেন চলে যায় রেলের ওপর , মারতে মারতে সিটি। 
কেউ নেবে যায় স্টেশন এলে , কেউ যাবে গাঁ ফেলে ,
দূরের পাহাড় বড়োই টানে , মনের ডানা মেলে। 

পাড়ায় কোনো ঝগড়া নেই কো কিম্বা কথা বন্ধ ,
সবার চোখেই দৃষ্টি আছে , যে বোকা সে অন্ধ। 
ভালোবাসার রেশম সূতোয় বাঁধা সবার প্রাণ ,
এক নৌকোয় বেড়াই , করি ভালোবাসার গান। 

১৫.৬.২০১৭ ফ্লিন্ট উড প্লাজা , হার্নডন , ভার্জিনিয়া ,  USA .

Wednesday, 14 June 2017

বিচ্ছিন্ন নয় কেউই





এমন অনেকদিন হোয়েছে বিস্তৃত মনে মনে ,
রাত তিনটের নভে চাঁদ দেখে ভেসেছি প্লাবনে।
কাছে দূরে দিগন্তের প্রেক্ষাপটে নিদ্রামগ্ন বাড়ি ,
নীরব প্রার্থনায় মহাকাশও , দিকে দিকে চিহ্ন লেখা তারই।

এ কেমন অনুভব , চারিদিকে ভালোবাসা পূর্ণ হোয়ে আছে ,
শহরের পথ শূন্য , তবু যেন সব পূর্ণ ,দূরে আর কাছে।
শিরীষ গাছের শাখা পূজা আর প্রার্থনায় যেন নতজানু ,
চিরজাগ্রত হোয়ে গুলমোহরের ফুল , পূর্বদিকে চিত্রময় ভানু।

বিচ্ছিন্ন নয় কেউই , প্রেমের বন্ধনে সবই পরিপূর্ণ বাঁধা ,
প্রকৃতি পুরুষ যেন সগুন নির্গুণে বদ্ধ  - কৃষ্ণ আর রাধা।
সহাস্য বাতাস এসে উন্মুক্ত করে দেয় বন্ধ বাতায়ন ,
সুমিষ্ট মধুর গন্ধে ঘর ভরে ওঠে আর ভরে যায় মন।

                    ............................

Saturday, 10 June 2017

সেই অপরূপ





দুঃখ আছে ,কষ্ট আছে  , আছে  বেদনার শব্দরূপ ,
চারিদিকে মেঘের মালার মতো ঊজ্জ্বলতা কোরে আছে চুপ।
শাদা বাড়ি , কালো বাড়ি , নীল বাড়ি , জমিয়েছে ভিড়
সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে , দুহাত জড়িয়ে আছে গভীর গভীর।

রডোডেনড্রনে আজ নেই ফুল , বসন্তের বড়ো অট্টালিকা ,
সেখানে ফুলের মেলা , আপেল গাছের ভিড় , নেই বিভীষিকা।
সেখানে দূরের মাঠে লাথি মারে , কিশোর কিশোরী ফুটবলে ,
মুক্তি তো সেখানে আছে যেখানে চাঁদের ছায়া অগভীর জলে।

মেপলের পাতা দোলে , প্রাক - বর্ষণের হাওয়া জাগায় এষণা ,
উড়ে চলে যেতে চায় , যেখানে অনেক গাছ কোরে বনিবনা
জীবন বাহিত করে ,বন্য প্রাণী পোকা উই কেঁচোদের নিয়ে ,
সকলে সকলে মিলে , আনন্দ কলরবে , প্রকৃতির পতাকা উড়িয়ে।

আমি চলে যেতে চাই সেইখানে , শাদা হাঁস যেখানে পুকুরে
জলের ভেতরে নাচে , যেখানে দূরের ছবি আছে অন্তঃপুরে।
বাঁশের জঙ্গলে গাছ  বসে চুপ , দেখে পোড়ে সুগন্ধি ধূপ ,
মসজিদ , মন্দির , গীর্জা  দাঁড়ায় উন্মুক্ত কোরে - সেই অপরূপ।

                     ........................................
                    .........................................

Thursday, 11 May 2017

অবিচ্ছিন্ন দেয়া আর নেয়া




মৌমাছি এলো উড়ে ,এসে খেলো এ চোখের জল ,
অমৃত - আলোতে একা বসে বসে অনুভব করে সে তরল।
তোমার ফুলের পাঁপড়ি ,দেখি চেয়ে উড়ে যাচ্ছে বিষাক্ত বাতাসে ,
সে কি শুষে নেয় বিষ ,না কি তার দেহখানি ঝরে পড়ে ঘাসে ?

পাঁচিল ডিঙিয়ে একা ,অশোক ফুলের গাছ দেখে একা একা ,
আমাদের পায়ে চলা পথ আর সোজা ও সরল নয় ,বেঁকা।
মেহগিনিটির হাতে রেখে হাত , চাপে সে চোখের ঝরা জল ,
সহস্র উল্লাস হোয়ে ,এ যেন ছিটকে পড়ে ,কে পেয়েছে তল

সে জলের ,কে মেপেছে ঢেউ তার ,ধীরে জলে ভেসেছে বনানী ,
অস্ফুট কাকের ডাকে ,ভাঙে সব রহস্যের ধূসর এ আবরণখানি।
ভাঙে কি সত্যি সব ,নাকি ভাবি যায় ভেঙে পর্দার আলেয়া
দিগন্তের পাড়ে এসে ,শেষ হয়ে যাবে সব ,অবিচ্ছিন্ন দেয়া আর নেয়া।



                            .....................................