Sunday, 31 May 2015

আকাশ বড়ই কাঁদছে






আকাশ বড়ই কাঁদছে  -
যেখানে যারা দুঃখ কোপায় 
                    আশায় বুক বাঁধছে। 
ফোড়ন দিয়ে কে যেন আজ রাঁধছে। 

চোখের জলের নেই তুলনা  ,
কাঁটায় কাঁটায় উলের বোনা 
                     কে যে কাকে সাধছে  ?
কার কাঁধে মুখ  , আকাশ বড়ই কাঁধছে। 

নদীর জলে নৌকার ভিড়  ,
এগিয়ে যাবার দৌড়ে অধীর ,
                     কে কার জাল ফাঁধছে ?
চোখ ফুলিয়ে আকাশ বড়ই কাঁদছে। 

কে যেন আজ চড়েছে মন -জাহাজ  ,
চুল - ফাঁপানো   মনতাজে আজ কি কাজ ?
                         যুদ্ধের ঝাঁজ বাজছে ,
মন খুলে আজ আকাশ বড়ই কাঁদছে। 

          ...................................

Saturday, 30 May 2015

সব খেলা হোলো শেষ





খেলা নেই  ,তবু কেন খেলার আসরে এসে বসি বারবার  ,
সব খেলা হোলো শেষ  , এবার দুয়ার খোলো , নেমে যাক ভার। 
গুলঞ্চ গাছের ফুলে এ কেমন রূপ এসে বারবার আমাকে ভোলায় ,
মাটির উপরে ছাপ , হেঁটে যায় ইতিহাস  , সব কিছু পিছে ফেলে যায়। 

অজানিত বোধ এসে  , আমার নিমগ্ন কেশে মাছির মতোন থাকে বোসে  ,
এ কেমন অনুভূতি  , আমার দেহের পাশে  , মন ভরে জীবনের রসে। 
পথের উপরে কাল  , পড়েছিল ফুল সব  , পড়েছিল আত্মমগ্ন দেহ ,
চারিদিকে জীবনের শিরাগুলি বহে যায় , ছড়ায় অমর্ত্যজ স্নেহ। 

খেলা শেষ হোলো তবু  , মন কেন ছুটে যেতে চায় বারেবার ,
খেলার আসরে  , সব খেলার পিছনে  খেলা  , খোলে খিল বন্ধ দরজার। 
দুয়ার পেরিয়ে চলো পথে পথে  , দুপাশে গাছের সারি হাসে ,
হাওয়ারা জড়িয়ে ধরে  , ফুলের গন্ধ আসে  , কাছে এসে বড় ভালোবাসে। 

                         .................................................
 

Creation - happiness






The night is washed away by rain ,
In the game of color , the black is mixed
                                   with white's illusive refrain .
The storm arrives rumbling it's way
                                                   into the dark recess ,
While the silence reigns the hollow of life
                               making explicit the voice's face .

Dominates the refrain of the voice in air
                                 piercing the magic of storm .
It's magic indeed , which persuades the soul
                                 to destroy the shadow's form .
It sways the crown like a mad pachyderm ,
Nobody blames you while the immaculate storks'
                               taking to wings meant no harm .

They flip wings to cross the river , the pale of the land .
They are free to obey the self -dictate
                                           wearing no prisoner's band .
They confront the sun and view the landscape of the moon .
They emerge as winners deserving the award - the boon .

The night is washed away by rain ,
The surrounding silence is disturbed
                                             by the downpour's refrain .
The dark -hole is washed by the flash of light
                                                       that deluges the sky ,
Do you conjure up apocalypse
               as a sign of creation-happiness that stands by .

                   ...............................................

সৃষ্টিসুখের বিমুক্ত শ্বাস





এ কেমন রাত্রি এসে বর্ষা ধারায় হারিয়ে গেল ,
এ কেমন রঙের খেলায় শাদা কালোয় গুলিয়ে ফেলো।
শব্দ কোরে এসেছে ঝড় ,গভীর অন্ধকারের ভিতর ,
নীরব শুধু বুকের গুহায় ,হাওয়ায় ওড়ে সুতীব্র স্বর।

এ স্বর ঘোরে ,হাওয়ায় ওড়ে ,মন -মাতানো ঝড়ের মায়া ,
মায়াই বটে ,ধ্বংস করায় মনোমোহিনী নিজের ছায়া।
দোলায় মাথা ,হাত পা ছোঁড়ে ,পাগল -হাওয়া যেমন হাতি ,
তোমায় কি কেউ দোষ দিয়েছে ,আকাশ জুড়ে বকের পাতি ,

ভাসতে ভাসতে পেরোয় নদী ,পেরোয় দেশের শেষ সীমানা ,
তারা স্বাধীন ,নিজের অধীন ,পথে তাদের নেই যে মানা।
শুন্যে তারা সূর্য দেখে ,একই সঙ্গে চাঁদের পাহাড় ,
দাও পরিয়ে গলায় তাদের  , গজমোতির সুন্দরী হার।

এ কেমন রাত্রি এসে বর্ষা ধারায় গুলিয়েছে সব ,
স্তব্ধ চতুর্দিকে শুধুই উপচে-পড়া বৃষ্টির রব।
মাঝে মাঝেই চমকে ওঠে ,আকাশ জোড়া আলোর আভাষ ,
এই ভাবে কি ডাকো প্রলয় ,সৃষ্টি -সুখের বিমুক্ত -শ্বাস।

                .....................................


Translation
.....................




Wednesday, 6 May 2015

জল পড়ে চোখের নিভৃতে





বৃষ্টির গন্ধ মেখে বসে আছে এ পৃথিবী  , আনন্দ দুঃখের জলে ভিজে  ,
পথ চলে গেছে সোজা  , অন্ধকার ভেদ কোরে  , হেঁটে হেঁটে চলে যাই নিজে ,
নিজের স্বপ্ন খানি হাতে করে  , অনুভূতি গুলি সব গুঁজে রেখে পকেটের খাপে  ,
আমার পৃথিবী আজও উদাস নয়ন মেলে , সিঁড়িটির সর্বশেষ ধাপে 

সোজা উঠে যায় ধীরে  , এক পা এক পা করে  , রেলিঙের কাঠে রেখে হাত  ,
যেখানে পাখিরা আছে , ছাদের কার্নিশ আছে , কাটা ঘুড়িটির মত 
                                                                ঝুলে আছে সকাল বা রাত। 
আকাশের নীলে কোনো চাঁদ নেই , চাঁদ গেছে অন্য পৃথিবীতে আলো দিতে ,
স্বপ্নের ভিত নেই  , সামান্য ঝড়ে ভাঙে , জল পড়ে চোখের নিভৃতে। 

                    .............................................................


Tuesday, 5 May 2015

শেষ মধ্যযাম






এ রতে বাতাস ঘোরে ,অন্ধকারে বৃষ্টি পড়ে মাঠে  ,
এখন বিশ্রামে আছে  , দোয়েল চড়াই ফিঙে ,কর্মকান্ড তুলে দিয়ে পাটে। 
অকাল বৃষ্টির সাধ জলে দেবে ধুয়ে এই ময়লা পৃথিবীকে  ,
কে জানে কোথায় যাবে  , ফললাভে  , কার ভাগ্যে ছেঁড়ে কোন শিকে। 

আমি তো ব্যবসায়ী নই  , তবু মুখে অর্থনীতি  , ব্যবসায়ী -কথা  ,
সবাই ব্যবসায়ে মগ্ন  , জানে অলি গলি ঠেক  , জানে ভাষা , বিভিন্ন প্রথা। 
এ রাতে সবাই ব্যস্ত  - কোথায় কি যায় পাওয়া  , কোন শিশিরের কত দাম ,
এ সময়ে কারা ফোটে  , কোন ফুল , চাঁপা না রঙ্গন বেল  - শেষ মধ্যযাম। 

তুমি কি ছড়াবে মায়া  , চোখের ইঙ্গিতে ছায়া  , পেয়ারা গাছের ডালে ফল ,
চারিদিকে নেই কিছু ,সহসা মেঘের দল ছুটে এসে ছড়ালো শীতল কিছু জল। 
এ জলে জীবন আছে  , মাটির গভীরে আছে যেমন পেট্রোল ,আছে ইউরেনিউম ,
আর কিছু নয়  , এই বেঁচে থাকবার লোভ সবুজ পাতায় মোড়া লাল ও হলুদ -রঙা আম। 

                      .........................................................

Monday, 4 May 2015

তুমি সন্ধ্যা , তুমি রাত্রি






তুমি সন্ধ্যা ,তুমি রাত্রি ,আকাশ  - উঠোনে তুমি চাঁদ পূর্ণিমার ,
তুমি শিশু ,তুমি ধাত্রী ,তুমি সেই উত্সরূপ  - আলোখানি যার। 
আমের বাগানে তুমি মধূ হোয়ে পড় ঝরে ,ফুটে ওঠে গুটি ,
পায়ের তলার মাটি ধীরে ধীরে যায় সরে , বিম্বিত হয় যতো ত্রুটি। 

এই ত্রুটিগুলি সব বড় হয় , পাহাড়ের মতো হোয়ে ঢাকে উজ্জ্বলতা ,
কত যে জীবন আছে , ফুল হোয়ে আছে ফুটে , আছে হোয়ে কথা ,
কথার ভিতরে কথা  , প্রজাপতিটির পায়ে শুরু হয় গর্ভ  - সঞ্চার। 
জীবন তো যাবে কেটে ,সময় যেমন কাটে , বাড়ে শুধু ধার। 

যার কাছে হোলো ধার ,তার নামে অঙ্গীকার , তিনি মহাজন ,
তার তো অসংখ্য গদি  , তার তো অসংখ্য নদী  , তিনি সর্ব কোণ।
ক্ষয়ে  - যাওয়া পাঁচিলের ইঁটের -গুঁড়র মতো রূপ তার পড়ে ঝরে ঝরে ,
তুমি  সন্ধ্যা ,তুমি রাত্রি  , তুমি শিশু  , তুমি  ধাত্রী , আমার  ভিতরে। 

                             ................................


অমর প্রতিমা





তবু তো হুল্লোড় হয় ,দরজা ভাঙে ,জানলা খুলে যায়  ,
ঘাসে ঘাসে জেগে থাকে শিহরণ  , এতে তার রয়েছে যে সায়। 
কাঁঠাল গাছের ওই মোটা পাতাটির কাছে এসেছে খবর ,
কালো কালো অন্ধকার কেটে গিয়ে দরজা খোলে ভোর। 

মনের কপালে শুধু টিপ হোয়ে জেগে আছে  , নেই কোনো নদী  ,
জানলা খুলে দেখা যায়  , প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে সীমানা অবধি ,
সেই সুর সেই রঙ ,সেই সব ভালো -লাগা -মুহুর্তের অনবদ্য ছবি ,
সময়ের শব্দ নেই  , তবু যেন আমগাছ শোনে শব্দ  - রক্ত করবী 

চিত্কার কোরে ফোটে ,হুল্লোড় কোরে ওঠে  , জানলা খুলে যায়  ,
ধানের ক্ষেতের পাশে  , নৃত্যপরা হাওয়া এসে ,করবীর আসঙ্গে হারায়। 
নদী বটগাছ মাঠ ,ইস্কুল মাঠের পিছে ,প্রিয় সব আমগাছ গুলি ,
একসঙ্গে ওঠে জেগে  , যেন বা ঝড়ের বেগে  , ফুটে ওঠে বুলি  ,

স্পষ্ট করে বলে তারা ,জীবন তো দিশাহারা  - এ কি সত্য নয় !
চারিদিকে ওঠে ঝড় ,ভুলে যাও আত্মপর , নেই কোনো ক্ষয়। 
প্রেমের বিজয় হয়  , ব্যাট থেকে বল ছোটে ,পার করে সাধ্যের সীমা। 
সমস্ত প্রান্তর জুড়ে  , শুধু জেগে থাকে তার মুখখানি  - অমর প্রতিমা। 

                     ............................................

Saturday, 2 May 2015

আহ্লাদী






একা চাঁদ বসে আছে ব্যাঁকা হোয়ে আকাশের ফ্রেমে  -
ইচ্ছেটি বড়ই তার ,পূজো আসছে ,মর্ত্যে আসে নেমে।
সাতদিন ধরে নাকি কলকাতায় নৃত্য গীতে হবে আরাধনা ,
মা দূর্গা শক্তির মূর্তি ,সেটা একবার দেখে ,এ তার বাসনা।

ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে ,হাওয়ায় কেমন যেন শীত শীত ভাব ,
শিশিরের দল এসে ঘাসের উপরে রাখে জলের কিংখাব।
এবারে কি আবহাওয়ায় অক্টোবারে এসে যাবে শীত  -
এ সব ভাবতে ভাবতে চোখে তার নামে ঘুম ,হয়ে পড়ে চিত।

একা চাঁদ একা একা ,আকাশের জানালায় ভাবে এইসব ,
মর্ত্যের শহরে এই আশ্বিনের কাশফুলে পুজোর উত্সব।
সেই যেন কবে এলো আর্মস্ট্রং নামে এক মার্কিন মহাকাশচারী ,
শুধু একটু ছুঁয়ে দিয়ে ,ফিরে গেলো পৃথিবীতে - শূন্য -বিহারী।

তারপর সব ধূ ধূ  - বড় বড় লোকে বলে বড় বড় কথা ,
চাঁদ তার সবই বোঝে  - খবর ব্যবসার এই সব বাতুলতা।
তারপর থেকে শূন্যে একা একা বসে থাকে ভ্রমনের শেষে।
আর ভাবে কবে যাবে ,পূজো দেখবে আনন্দের বেশে।

চাঁদ বসে আছে একা ,দূরে ওই শূন্যের ঘোর অন্ধকারে ,
জোনাকির মত সব আলোর ফোয়ারা জ্বলে তার চারিধারে।
পূজোর সময় তার নেমে আসা হয় না যে ,সাধ থাকে সাধই  -
শুধু তার প্রতিনিধি হয়ে ঘোরে ,পূজো দেখতে ,চাঁদমুখী যত আহ্লাদী।

                    .........................................