Saturday, 3 December 2016

আমাকে তৃষিত করে যাওয়া



স্বপ্নের ছায়া এসে ঢেকে দিক তোমার নিদ্রাটি ,
চাদরের আবরণে সব শীতই অকারণে জমিয়েছে মাটি।
শীতের ছায়াকে বাঁধো সূর্যের কিরণে সারাদিন ,
স্বপ্নের ছায়া এসে তোমার সঙ্গে খেলা খেলুক রঙিন।

আহত কথার তীরে , গভীর অরণ্যে গিয়ে বাঁচো ,
অন্ধকার অপেক্ষায় , পাতারা আনন্দে নাচে , নাচো।
সর্প শিহরণ ঘিরে , মাটির তলার কেঁচো , উঠেছে ওপরে ,
কোটি বছরের প্রেম , ভালোবাসা হোয়ে ফোটে ভোরে।

তুমি শুদ্ধ আরণ্যক , শরীরের  নির্জনতা , প্রিয় ভালোবাসা ,
নিথর নিবিড় প্রেম , বরফ - শীতল থেকে উদ্ভূত কুয়াশা।
ভেসে আসে উষ্ণতায় , অহংকার লিচু হোয়ে ঝোলে ,
লাল আকর্ষক মধু , টানে মাছি , লোভ টানে কোলে।

স্বপ্ন কি মেঘের মতো , কালো মেঘ , হিম বৃষ্টি ভরা ,
হৃদয় - অরণ্যে মাটি নয় ভিজে ভিজে আর , জাগে উগ্র খরা।
হেঁটে যায় সাপ কেঁচো , শুকনো মন ভাঙে গুঁড়ো গুঁড়ো ,
ভেঙে যায় সব কিছু , গলার বিনম্র -ভাব , গান গাওয়া সুরও।

তুমি থাকো অন্ধকারে , দেহ ভরা কালি তেল , মাখো অন্ধকার ,
তবু বারান্দার কোণে এক টুকরো রোদে বাড়ে তুলশী আবার।
পুরোনো জানলা ভেঙে , অবারিত , ঢোকে ঘরে হাওয়া ,
ক্যালেন্ডার খুলে পড়ে যায় নিচে , আমাকে তৃষিত করে যাওয়া।

                   .............................................. 

Sunday, 20 November 2016

পূর্ণতা





তুমি আছো , তাই এতো আলো মেখে এসেছে সকাল ,
এতো গন্ধ , এতো ছন্দ , অশোক বকুল নিম বট পিয়াশাল।
বুকের ভেতরে রাখা এতটা বরফ কবে গলে হবে জল ,
বারান্দায় এসো পাখি , নদী হোয়ে যাবে নাকি , প্রমত্ত তরল ?

আমার এ অনুভূতি , ভরায় তোমার শ্রুতি , হেঁটে যেতে চাই ,
তোমার সংসর্গে যাবো , যথা ইচ্ছা তথা খাবো , অরণ্য তরাই।
কত যে হরিণ - মন বাঘে খেলো অচেতন , দেখেছে ঝর্ণারা ,
এই দূর অবকাশে , কত ছবি  স্মৃতি ভাসে , কত পথহারা।

সকলের হয়ে আছো , তাই তুমি চাল বাছো , সেদ্দ চালে ভাত ,
কে জানে কোথায় পাবো , কেন তুমি এতো ভাবো , নিঃসঙ্গ প্রভাত।
চলো যাই ইছামতি , নেই কোনো দাঁড়ি যতি ,শুধু বয়ে হাওয়া ,
এ যেন কি নেমন্তন্ন , খুঁজেছি তো তন্নতন্ন ,  যাবে সে কি পাওয়া ?

তুমি ঘোরো গেয়ে গান , বুকে এতো অভিমান , ঝরে পড়ে সুধা ,
ভিক্ষা চাও জনে জনে , তোমার কি পড়ে মনে , এ যেন কি ক্ষুধা।
শিরা দিয়ে যায় হেঁটে , কখনও সাঁতার কেটে  , ফোটে ঊজ্জ্বলতা ,
চলো গিয়ে বসি মাঠে , সময় যদি না কাটে , জমে আছে কথা।

এতো শব্দ , এতো বর্ণ , এতো পুষ্প , এতো পর্ণ , সবই তো তোমার ,
বাগান তো আছে ভরে , ঝরা পাতাগুলি পোড়ে , আগাছার ভার।
ঘুরে ঘুরে ওঠে ধোঁয়া , মনে পড়ে বীজ রোঁয়া , লকলকে ধান ,
চারিদিক ভরে তাই , কি যে চাই , কি হারাই , পূর্ণ হয় প্রাণ।

                 -------------------------------------


জ্বল - জোনাকি






কেউ জানেনা কোথায় যাবে ব্যস্ত এ বাস  ,
বাড়িই যাবে , নয়তো কোনো সুদূর প্রবাস।
আশ্যাওড়ায় গ্রীষ্মের এই দুপুর গড়ায়  ,
মোটর গাড়ির চাকায় সময় হুস করে যায়।

সবকিছুতেই লোক দেখানো স্বভাবটি তার ,
আজ কেন হায় নেই দেখা তার , রুদ্ধ দুয়ার ?
কাশ ফুটেছে লুরে কেভের নীল পাহাড়ে ,
ময়ূরভঞ্জি শাড়ির রঙটি নদীর পাড়ে।

চমক সবই প্রজাপতির ব্যস্ত ডানায় ,
জীবনযাপন লটকিয়ে যায় কাদায় পানায়।
হৃদকমলে মৌমাছিটি বসছে না যে ,
কোন সে সুরে ব্যস্ত সে আজ , কিসের কাজে ?

লোক পাহাড়ে যায় হাইকে তারই খোঁজে ,
একটু দেরি হলেই পদ্ম চোখটি বোঁজে।
ও বাস তুমি আকাশ পারে উড়বে নাকি ?
অন্ধকারকে মায়ায় ভরায় জ্বল - জোনাকি।

          --------------------------

Thursday, 10 November 2016

মাটি





বৃষ্টির জল এ তো নয় , এ তো প্রেম , ধুয়ে যায় মাটি ,
এ তো ধুয়ে দেয় সব , গাছের পাতার ধূলো , জনক্লান্ত এ বসতবাটি।
চোখের জলের রেখা , নদীর রেখার মতো , বয়ে যায় , রেখে যায় ছাপ ,
মেহগিনিটির মতো , শিরীষ গাছের মতো , পরিশ্রুত করেছে আলাপ।

এ যেন সমুদ্র ভাঙে , ভাঙে সৃষ্টির জল , জন্ম নেয় সময়ের শিশু ,
চেতনায় লেগে থাকে , রঙচটা দেওয়ালের গায়ে যেন যীশু।
আবছা তবু যায় বোঝা , ফুটে ওঠে অবয়ব , ধূসর জানলাখানি খোলা ,
আমার মনের ছাদে সারি সারি মত্ত পাখা , কোন পাখি দিয়ে যায় দোলা।

এ কেমন আগমণ , এ কোন নিষেধ ভাঙা রাজপথে গাড়ি যায় চলে ,
তবু কেন ল্যাজঝোলা ফিঙে এসে কেবলের তারে বসে এ দোলায় দোলে।
এ দোলে কি মিশে আছে মাদলের দোল যেন অরণ্যের গভীর সমাজে ?
ধীরে ধীরে  ফোটে রেখা , এ সব যায় না শেখা , হৃদয়ে তা বাজে।

কি এমন শব্দ ফোটে , বহু নারী এসে জোটে , যূথবদ্ধ নাচে ,
এ কি হরিণের দেশ , এ যে সুস্থ মোহাবেশ , টোপ খায় মাছে ,
কোন টোপ কোন মাছে গেল খেয়ে , জলে ভিজে , কোন দৃশ্য খাঁটি ,
বৃষ্টির জল পেয়ে  , শুকনো জমি পায় মজা , প্রণত তরল হয় মাটি।

                   ------------------------------------------




Wednesday, 9 November 2016

ধরণী




ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো বুকের ভেতরে ,
রক্তের গভীরে ঘামে , ধরণী তো পাখা মেলে ওড়ে।
স্বপ্নের ভেতরে শূন্যে , আকাশের নীলিমা - বাগানে।
ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো শব্দে - মোড়া গানে।

দীর্ঘ গাছ দাঁড়িয়েছে সারি বেঁধে রাস্তার দুধারে মাথা উঁচু ,
জীবন বিহ্বল   হয়ে হেঁটে যায় , আলো ভেবে , ও কালোর পিছু।
কৃষ্ণচূড়ার ফুল , সংগ্রাম মনে করে , ঝরে পড়ে মাঠে ঘাসে ঘাসে ,
ভেবেছে সে রক্তিমতা , একমাত্র পরিত্রাতা , গভীর আশ্বাসে।

ধূলি ওড়ে , ধূলি ওড়ে , ধরণীর ধমনীতে নদীর উচ্চ্বাস ,
শুধু তো প্লাবনে নয় , বাঁধা ঘাট ডুবে যায় যেন বারোমাস।
ভ্রান্তি ও ভুল অভিলাষে যেন আনে ডেকে শোকের আঘাত ,
জল ফোটে অবিরত , চাল ফোটে , বাড়া হয় ভাত।

ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো পাখা মেলে ওড়ে ,
ভেতরের অবকাশে , রক্তের গভীরে যেন শব্দের অক্ষরে।
ধ্বংসপ্রায় এ পৃথিবী , বীজের প্রসব হয়,  ধরণীর  ভিতে ,
কে কাকে ডেকেছে আজ , হাতের ইঙ্গিত দিয়ে ,বুকে টেনে নিতে।

             -----------------------------------------


Tuesday, 8 November 2016

আরা - একটি সুন্দরী পুতুলের নাম





ছোট ছোট নাক মুখ , ছোট ছোট পা ,
যে চা'বি , দেখতে পাবি ,  আয় ,দেখে যা। 

মুম্বায়ে থাকে যে সে , সাগরের কাছে  ,
বাড়ির সামনে পার্ক , টিয়া  বসে গাছে। 

বান্দ্রার কাছাকাছি মাহিমের পাড়া ,
অনিকা যদিও নাম , ডাক নাম আরা। 

দশমাসও হয় নি কো , যায়  ইশকুলে ,
হাসি মুখে আসে যায় , মা বাবাকে ভুলে। 

রেশমের মতো চুল ,পড়েছে যে কাটা ,
মাথা নেড়া  , নেই চুল  ,  শুধু সন্নাটা। 

সারেগামা গাইছে সে  , নাচ করে বসে ,
আঙুলকে বাসে ভালো , মুখে পুরে চোষে। 

ছোট ছোট জামা প্যান্ট , ছোট ছোট মোজা ,
পুতুল দেখতে চাও  - এসো  , ছেড়ে খোঁজা। 

কান্না টান্না থামে , বেড়ানোর নামে ,
এগলি সেগলি ঘোরো , যেকোনো সে ধামে। 

রুটি খায় , খায় ডাল , ইডলি বা দুধ ,
চাপাচাপি হোলে ফাটে , কান্না বারুদ। 

দিনগত ইতিহাস  , ভুলে যাবে সবই ,
মনের ক্যামেরা জুড়ে শুধু তারই ছবি। 

ছোট ছোট নাক মুখ , বড় হবে কালে ,
হবে স্মৃতি এ সময় , মেঘেদের জালে। 

             -------------------  



  

Monday, 31 October 2016

বুক ভরে মুক্ত বাতাস





জলে ফুটে আছে পদ্ম , অনেক অনেক রঙ এবং প্রকৃতি ,
মন মক্ষিকার ইচ্ছা ,কৃষ্ণ -ভ্রমরের মত ,উড়ে উড়ে খুঁজে পায় স্থিতি।
চায় কি মধুর স্বাদ  , পেতে চায় আহ্লাদ , দিতে চায়  ডুব ,
ডুবে ও কি পাবে তল  , বিস্তৃত ও অমল  , মনে ইচ্ছা খুব।

মন তো ইচ্ছার দাস  , খুঁজে ফেরে বারোমাস  , আনন্দ -আগুন ,
এটা ওটা সেটা চায় , এ পথে ও পথে যায়  , খেতে চায় নূন।
এটা প্রক্রিয়া নয় , এ তো প্রকৃতির জয়  , সেই তো নাচায় ,
সমুদ্রের কাছে যাবো  , নাকি আম পেড়ে খাবো  , তারই তো ইচ্চায়।

ইউক্যালিপ্টাস সাদা  , পথে আছে বহু বাধা , নেই পরিমাপ ,
পাতায় গন্ধ ভরে  , দিতে চায় করজোড়ে  , হৃদয়ে উত্তাপ।
শাখা তার পাকে পাকে  , ভালোবাসা দিতে ডাকে  , এনে দেয় ফুল ,
তবু তো জীবনখানি  , কেড়ে নেয় ধূর্ত -রাণী  , কানে তার ঝুমকোলতা দুল।

পাহাড় ছেয়েছে পণ্যে  , কে যে খায় কার অন্নে , মগ্ন শীতলতা ,
শহরের রাণী আসে  , বেঁধে ফেলে বহ্নিপাশে , চায় দাস্যতা।
কোরে দিতে চায় দাস  , বুক ভরা অভ্যাস  , টেনে টেনে যায় বারোমাস ,
চায় মুক্তি হাত ছুঁড়ে , চলে যেতে চায় দূরে , আবহাওয়ায় তারই আভাস।

পদ্মের বাগান কোরে  , কৃষ্ণ -দীঘি আছে ভরে  , এই তার রীতি ,
জনে জনে ডাকে আয় , গভীরে সে নিতে চায় , ভরে দেয় ভীতি।
কিনতু সে তো বাঁচা নয় , বাঁচা মানে নির্ভয়  , টেনে নিয়ে শ্বাস ,
নতুন পাতার গন্ধ , প্রকৃতির যত ছন্দ , বুক ভরে মুক্ত বাতাস।

                      ----------------------------------

যার রাস্তা ,তারই রথ





আমি তো জানিনা কিছু ,তবু দয়া পায়ে হেঁটে ,এসেছে আমার পিছু পিছু ,
উঠোনে দাঁড়িয়ে ডাকে ,খাটের গোপন ফাঁকে ,অন্ধকারে দেয় সব কিছু।
বাতাসের মত আসে ,অস্তাচলের পাশে ,গড়ে দেয় বড় ইমারত ,
ফুলেরই মতন ফোটে ,ভালোবাসা স্পীডবোটে ,ধীরে ধীরে মুক্ত হয় হারানো জগৎ।

এই কি শৃঙ্খল -ভাঙা ,জলের এই কি ডাঙা , স্টেশনের থেকে হাঁটা পথ ,
পিছে ফেলে মুদিখানা ,ছিলো বটে মুন্সিয়ানা ,ছিলো দূরে ছড়ানো  পর্বত।
তারই আড়াল থেকে ওঠে ডাক গন্ধ মেখে ,পাইনের বিস্তৃত সমাজে ,
সমাজসেবীরা ঘোরে ,ছায়ার শীতলে পোড়ে ,আমি রূপ ব্যস্ত আছি কাজে।

তুমি তো আকাশে ছিলে ,ও বিশাল নভোনীলে , ও অতল দূর শূন্যতায় ,
আমার  ভাষার মুখ , ছিলো সদা উৎসুক , সর্বদা মুক্ত হতে চায়।
দেখি মুক্তি অসমর্থ ,দিতে ভাষা দিতে অর্থ ,মঞ্চ আছে পর্দার আড়ালে ,
মিশে গেছে সব পথ  , যার রাস্তা তারই রথ  ,তারই পাতা সাজে ডালে ডালে।

                            -------------------------------




Monday, 26 September 2016

বৃষ্টি হোয়ে





বৃষ্টি ছুঁলো , অমনি ফুটে উঠলো কদম ,
কি শিহরণ ছড়ায় দেহে , অনেক রকম।
রোমের বাহার ,গলায় মালা ,সাতনরিহার ,
বৃষ্টি ছুঁলো ,অমনি সুরূপ ফুটলো যে তার।

বৃষ্টি ছুঁলো  , সূর্যমুখীর ঘুম ভেঙে যায়  ,
এই প্রভাতে কিম্বা রাতে  , ফসল ফলায়।
ধানের সবুজ  , লকলকে তেজ  , বাড়ছে দেহ ,
পাকলে সোনা ছড়িয়ে দেবে ,ছড়ায় স্নেহ।

বৃষ্টি ছুঁলো  , আলের ওপর পথটি পিছল ,
চারদিকে সাপ , হিসহিস শব্দ  , সেই হলাহল ,
বিন্দু হোয়ে সবদিকে যায় ,নদীতে বিষ।
এ কোন সাগর ,রাত্রি ও ভোর ,নজর কাড়িস  ?

বৃষ্টি ছুঁলো  , আমের বুকে ভরলো যে রস ,
প্রেম দুনিয়ায় যৌনতা সব ,মানুষ অবশ।
বৃষ্টি ছুঁলো ,ফুটলো কদম ,সূর্যমুখী ফুল জোনাকি ,
কোথায় গেলে মেঘের ভেতর ,বৃষ্টি হোয়ে ঝরবে নাকি ?

                   ..................................

 
  

Sunday, 18 September 2016

খাঁচা




আমি তো এসেছি ফিরে , জল কেটে ধীরে ধীরে , এই নদীতীরে ,
দেখি তুমি ফুলে ঘেরা ,দুটি চোখ সর্বসেরা  , সকলের ভিড়ে।
জীবন ঘাসের মত ,বেড়ে ওঠে অবিরত ,এমন কি পাথরের ইঁটএ ,
মাতৃসম আবহাওয়ায়  , প্রেম আসে প্রেম যায়  , গড়ে ওঠে ভিটে।

আমি তো তোমাকে চাই  , মনে হয় ফিরে যাই  , সেই অন্ধকারে  ,
যেখানে উৎপন্ন বীজ  , সবাই তো মনোসিজ  , চোখ মেলে জাগে বারে বারে।
শুধু তো জাগার জয় জীবনের সব নয়  , থাকে কিছু বাঁকি  ,
যদি সকালের আলো  , নিদ্রা ভেঙে না জাগালো  , তবে সবই ফাঁকি।

জাহাজ তো ছেড়ে যায় ,দেখি গুটি গুটি পায় ,বাজে হুইসিল ,
সমুদ্র পাখিরা জানে ,কাকে যে কখন টানে  , দরজায় উঠে যায় খিল।
সম্পন্ন হোতে হবে  , রবে নয় সুনীরবে  , জলে ঢেউ ওঠে আর নামে ,
অশ্বথ গাছের নীচে  , দেখো আলো আগে পিছে ,জেগেছে আরামে।

কখন কে যাবে চলে ,সে কি কোরে যাবে বোলে ,তবু শূন্য হয় ,
শরীরের গন্ধ থাকে , এ কথা বোঝাই কাকে , বেঁচে থাকা বড় হর্ষময়।
সাবানের গন্ধ আসে  , দুঃখময় অবকাশে ,সুখের জন্যে জেগে বাঁচা ,
শুধু ধুপ ধুনো নয় ,ঘন্টা নয় ,নয় ফুল ,উড়ে যাওয়া খুলে দিয়ে খাঁচা।

                           ......................................... 

নতজানু





বিপ্লব  , বিপ্লব  বলে  ডেকেছি অনেকদিন  , বিপ্লব আসেনি ,
পাথর ভেঙেছি বহু  , পাখি হোয়ে গান গেয়ে বলেছি আমি তো তাকে চিনি।
বিপ্লব আসেনি তবু  , রৌদ্রে পোড়া দগ্ধ মাঠে  , উড়েছে পতাকা  ,
বিপ্লব আসেনি তবু  , নিদ্রাহীন রাত্রি জুড়ে জেগে থাকে চোখ , ঘুমে -ঢাকা।

বিপ্লব তো ট্যাক্সি নয় - ডাকলেই আসবে চলে কাছে তৎক্ষণাৎ ,
বিপ্লব তো নয় বাজ  , নীল মেঘে ডেকে উঠবে হঠাৎ হঠাৎ।
বিপ্লব তো জেগে ওঠা , নদীটির রোগা -দেহে নিয়ে আসা বান ,
মুহূর্তে মুহূর্তে বাড়া  , কিছু নেই শুদ্ধ ছাড়া , আর সবই ম্লান।

অন্ধকার ভেঙে ফেললে , দেখো মাঠে পড়ে আছে আলোর বাগান ,
নবান্নে ধানের শীষ  , দুধে -মাখা অহর্নিশ  , সবাই তো বিপ্লব -সন্তান।
বীজ থেকে ওঠা চারা ,ভেঙে ফেলে অন্ধকারা  , হোয়ে ওঠে গাছ ,
চারিদিকে একই সুরে  ,প্রাণ নাচে অন্তঃপুরে ,চারিদিকে উৎসবের সাজ।

বিপ্লব  , বিপ্লব  বলে  ডাকলেও  , তাজা থাকে , বিপ্লব পুরোনো হয়না ,
বুকের ভেতরে যেন বন্যা হয় ,ঢাকের সঙ্গতে বাজে বুকের গয়না।
বিপ্লব সাজাতে হয়  , বিপ্লব বাজাতে হয়  , প্রতি কোণে  অণু পরমাণু ,
সূর্যোদয়ে ভোর হয়  , আলোর প্রবাহময়  , আপনা হোতে হই নতজানু।

                    ..................................................

Fragrance




On the bedspread
We wallow in the fragrance of a life animated
Tiny , yet , inordinate ,
Just put on the rail
That heads towards undefined horizons .

The whole room , the chamber
Where we spend our nights ,
The odor of the tittle has taken care of .
We can bear testimony to the unintelligible warble,
Movements of little soft arms ,legs ,eyes ,
Which express the meaning of
A pattern of fight
Waged against dominant uncertainty ,
Of love , with the movements of
The construction of the building blocks .

On the bedspread
We wallow in the fragrance of a life animated ,
Tiny , yet inordinate ,
That begins to show - yes ,
She can easily ignore the obduracy ,
The road blocks to ripping growth - blooming .
In the air wafts the smell of sweet sweat
Of this fantastic struggle , dramatic -
A heart-empowering watch , indeed .

            ....................................


Thursday, 1 September 2016

কচুরীর পানা





যেখানে রাত্রি এসে ,  সে যে কার অন্বেষে ,গভীর গভীরে এসে মেশে ,
যেখানে ভ্রমণ এসে ,অনন্ত আলোর দেশে ,পর্যটন ভেঙে দেয় শেষে।
সময়ের শান্তভাব ,অলৌকিক জাগরণে , আরণ্যক রাস্তা পেরিয়ে ,
প্রেমের বিস্ফোরিত শক্তি ,শূন্যতার জাগরণে ,চেয়ে দেখে সামনে দাঁড়িয়ে।

অণু পরমাণু সব ,মাথা নিচু করে স্তব ,এ যেন মুক্তির প্রার্থনা ,
দুহাতে উড়িয়ে ফুল ,নদীর ভরেছে কূল ,অদৃশ্য ঘোরে শক্তিকণা।
কচুর পাতায় জল ,আবিশ্ব টলোমল ,হাজারে হাজারে কাটে ঘুড়ি ,,
রাসবিহারীর মোড় ,যেন বা কাটে না ঘোর ,কচি মেয়ে কুড়িতেই বুড়ি।

চার্চগেটে হয় বৃষ্টি ,জলে ভাসে সারা সৃষ্টি ,আরব সাগর নাচে একা ,
লোকাল ট্রেনের কাছে ,মন ঋণী হোয়ে আছে ,দাদর মাহিম ঘুরে দেখা।
জুহু বান্দ্রা নাড়ে কড়া ,দক্ষিণী ডালবড়া , 'এন্ড চিলি ' দোকানের নাম ,
সংস্কৃতি একাকার ,সামনে বড়ো অন্ধকার ,লোলজিহ্ব প্রাণীর আরাম ।

গঙ্গা বেয়ে নামে ভক্তি , হৃদয়ে তো পূর্ণ শক্তি ,ফুল বেলপাতা আশীর্বাদ ,
কোথাও দেখি না কিছু ,শ্যাল ঘোরে পিছু পিছু ,চারিদিকে ব্যক্ত আর্তনাদ।
কোথায় পালিয়ে যাবে ,আর কত কেড়ে খাবে ,পোষা পাখি মেলে দেয় ডানা ,
মধূ হোক সর্বদিক ,বায়ু ভরে আকস্মিক , জলে ভাসে কচুরীর পানা।

                             ............................................. 

Wednesday, 24 August 2016

তোমাকেই জানে শুধু





আমার সকালগুলো মেশে এসে বিকেলের রোদে ,
সন্ধ্যা আসার আগে ,ঢেকে নেয় নিজেকে গরদ-এ। 
প্রতীক্ষায় নেই আর  , এ সময় হেঁটে করি পার  ,
কর্ম এসে হাত ধরে বিশ্রামের , ভ্রুকুটির ধার 

সহজে তাচ্ছিল্য কোরে হেঁটে যায়  , যেখানে জীবন 
অস্তিকে শেখায় প্রেম  , প্রাণের উপরে রেখে পণ। 
শাখা প্রশাখার ফাঁকে আলো এসে জ্বেলে দেয় স্মৃতি ,
পায়ে চলা পথ নয়  , এ যে এক বিস্তৃত প্রতীতি। 

জীবন তো যুদ্ধ নয়  , এ তো প্রেম  , এ তো ভালোবাসা ,
প্রচন্ড উষ্ণতায় এ যে এক প্রস্রবণ  , মেটায় পিপাশা। 
সারি সারি বৃক্ষ  মাটি পশু পাখি কীট ও আবহাওয়া  ,
এই নিয়ে থাকি বেঁচে  , নদীর মতন নেচে, সমুদ্রকে পাওয়া। 

বড় বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে ,ভাঙে বালিয়াড়ি ,
আমি তো আবর্ত শুধু  , ঘুরেই মিলিয়ে যাই ,অন্ধের দিশারী -
তুমি তো জলেই আছো , যেমন বাতাসে আছো  , প্রাণ , 
আমার সকালগুলো তোমাকেই জানে শুধু  , জ্ঞানে অজ্ঞানে। 

                   .........................................

Sunday, 31 July 2016

নৃত্যরতা জলে তুমি মাছ




সারাটা সকাল জুড়ে , জল নিয়ে করে খেলা কোলকাতার গাছ ,
তোমার স্নানের দৃশ্য ,তার মাঝখানে যেন নৃত্যপরা মাছ।
গা বেয়ে পড়ছে জল ,খোলা চুলে কালো হোয়ে আছে সুস্থ  মেঘ ,
দূরের শিরীষ তরু ,চোখের ইঙ্গিতে ডাকে ,ফুলে ফুলে আবেগে আবেগ।

তুমি তো শীতল করো ,তুমি তো নরম করো ,রুক্ষ মাটি ,রুক্ষ অনুভব ,
কতো ধূলো ধুয়ে গেলো ,কতো অন্ধকার কেটে শান্ত হোলো আত্মমগ্ন সব।
শ্যামল শ্যামলতর মাঠ ঘাট ,নদী নালা ,পান্থশালা ,আমাদের মনের গভীর ,
পিচ -ঢালা পথ যায় ,দুঃখের ভেতরে যায় ,সুখের ভেতরে করে ভিড়।

তুমি তো সূর্যমুখী ,কোথাও বা কৃষ্ণচূড়া ,বেল কিম্বা জুঁই ,
পাহাড়ের দিকে আজ জ্যোৎস্না পেরিয়ে গেলে ,রঙে মত্ত বিদেশ বিভুঁই।
তুমিই বিদেশ ,তুমি আমাদের নিজ জন্মভূমি থেকে জাল ফেলে তুলে আনো সুখ ,
তোমাকে দেখেছি আমি ,এ সকালে স্নানরতা , ঢাকা ছিলো তোমার ও মুখ।

তোমার মুখের আলো নৌকো হোয়ে ভেসে গেলো ,আলোকিত কোরে চতুর্দিক ,
সহস্র বছর ধরে ,এমনই ঊজ্জ্বল ছিলো ,অশোক ফুলের মুখ ,এমনই অভীক।
সীতার পায়ের কাছে ,তুমিই তো ছিলে সীতা ,নৃত্যরতা জলে তুমি মাছ ,
আমার শরীর গলে , জলের  সঙ্গে ভাসে ,কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় খেলে বাচ।

                           ................................................

চন্দনের কাঠ






বাতাসে সন্ধ্যার হাওয়া  , আকাশ তো কালো অন্ধকার  ,
তেজপাতা নড়ে ওঠে , ঝেড়ে ফেলে দ্বিপ্রাহরিক ঘাম  , আগুনের ভার।
কাঁঠাল ও আমের ছায়া  , বাড়ায় বন্ধুর হাত অনায়াস প্রেমে ,
বাগানে কৃষ্ণচূড়া সপ্তপর্ণী ,সুবিস্তৃত ,অগ্নিবর্ষী রৌদ্রে ওঠে ঘেমে।

জীবনে পলাশ লাল ,সিগারেট নিয়ে ঘোরে ঘোর ভালোবাসা ,
এসব কিভাবে ব্যাখ্যা করবো জানিনা ,জানি মানিব্যাগে নেই কোনো ভাষা।
উদ্দাম তরঙ্গ ওঠে মনের ভিতরে ,ত্বকে ,ঢেকে রাখা অগ্নির গোলোকে ,
রাত্রিতে তো শেষ নয় ,সকালে আবার শুরু ,দেখা হোলে -বোলো কে।

বলো কে জ্যোস্নাময়ী ,জাহাজঘাটায় দেখা ,ও বিশাল সমুদ্রের চোখে ,
ঢেউয়ের সঙ্গে আজ লড়াই আমার ,তাই রিঙের বাইরে বসে হর্ষ তোলে লোকে।
রেড রোডে বৃষ্টি আজ ,ভেসে যায় ইডেনের মাঠ আর গঙ্গার ঘাট ,
এসপ্ল্যানেড প্রকৃতি হোয়ে ,মহীয়সী গাছ হোয়ে তুলেছে আমার হাতে চন্দনের কাঠ।

                            ......................................................

Thursday, 21 July 2016

রোগ






সময়েরও বাসা আছে ,সময় বেঁধেছে বাসা মনে ,
কড়া -নাড়বার শব্দ ,চিৎকার ,বেলের আওয়াজ  - সে কি শোনে ?
নদীর গতির মতো ,ছক্কা -মারা বল যায় ,বহুদূর সীমানা পেরিয়ে ,
ঘড়ি টিক টিক করে  - শব্দ নেই  - তবু সে শুনেছে মন দিয়ে।

পাতা নড়ে বৃষ্টিপাতে ,ছোটো ছোটো পাখিদের দীপ্ত -কলরব ,
বৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে ,ঊজ্জ্বল কোরে তোলে ,হৈ হৈ কোরে ওঠে সব।
বাড়ে যত মানুষের হার ,ততো কিম্বা তার বেশী ,দামী হয় জমি।
একতলা ভেঙে ওঠে বারোতলা ,সততার শব হয় মিশরীয় ম্যমি।

তোমাকে তো যত্ন করে ,ভালোবাসে ,তাই পূজো প্রতি শনিবারে ,
ঢাক ও মাইক যোগে ,আম কলা লিচু ও পেয়ারা দিতে পারে।
সমস্ত মজাটা দেখে ,দূর থেকে পোজ মেরে ,করে উপভোগ ,
টেরি -কাটা ফাটা -জিনস ,ডাহা বর্তমান দেখে আজকের রোগ।

                           ...................................

Wednesday, 20 July 2016

অনাবৃত খাম







বসন্তবৌরিরা আজও ঘোরে ফেরে বাদাড়ে ও বনে ,
অসিত ছায়ার মতো ,গভীর স্বপ্নের মতো ,যেন আনমনে।
দুধের বাটিতে মাছি ,যেমন লোভের বশে ,বসেছে অনড় ,
চারিদিকে আজ শুধু বসন্তবৌরিরা এসে বেঁধে আছে ঘর।

বাগানে গাছের ফাঁকে ,ঘন অন্ধকারময় ,আলো এসে খেলে লুকোচুরি ,
আলো কি পাখির গতি ,আলো কি শিশুর খেলা ,যত হুড়োহুড়ি।
জামার বুনোটে যতো অন্ধকার বিঁধে আছে ,আনন্দ -ঊজ্জ্বল ভালোবাসা ,
গাছের পাতায় শুধু তার নাম ,তার গন্ধ ,তারই মানতাসা।

সম্ভাবনার গাড়ি রেল ছুঁয়ে জাংশান স্টেশন ছুঁলো ,পরিচিত শব্দমুখরতা ,
তোমার সঙ্গে আজও আমার সমাপ্তিহীন রয়ে গেছে কতো শত কথা।
ভেবেছি জীবনে পাবো প্রতিটি মুহূর্ত শুধু স্বেদের বিন্দুর নোনা জলে ,
দুপুর পেরিয়ে কাল বিকেলের দরজা দিয়ে যায় পার্কে সন্ধ্যার কবলে।

কৃষ্ণচূড়া মুগ্ধ হয় ,জারুলের নীল ফুলে সোঁদালীর হাওয়া এসে লাগে ,
আমার অনেক কাজ বাঁকি পোড়ে আছে সব ,মিথ্যা আজ সত্যের পরাগে।
শব্দ কোরে ডাকে পাখি ,গান গেয়ে ওঠে রৌদ্র ,মনের উপরে জমে ঘাম ,
টেবিলে বইয়ের পাশে পড়ে আছে সুগন্ধ সৌরভ - ভরা অনাবৃত  খাম। 

                          .......................................

Friday, 19 February 2016

                                            " বিবেকানন্দপঞ্চকম "
                                                 




                               Image result for swami vivekananda
উপর্যুক্ত শিরোনামে স্বামী বিবেকানন্দকে নিবেদিত পঞ্চ শ্লোকের সমাহারের বঙ্গানুবাদ  ।।
...................................................................................................................


১.  অনিত্য বিষয় থেকে নিত্যবস্তু কোরে নির্বাচিত ,
     বিবেকী লীলায় যিনি বিবেক ও বৈরাগ্য প্রভাবে ,
     নিত্যবস্তুতে চিত্ত কেন্দ্র কোরে হন সমাহিত ,
     সেই যে পবিত্র সত্ত্বা ,প্রণাম  জানাই তাঁকে ভক্তি -সদ্ভাবে।

২.  নিমগ্ন চিত্ত যাঁর ,আনন্দলীলায় যাহা বিবেক -সঞ্জাত ,
     আনন্দিত যিনি শুধু বিবেকের মহামূল্য দানে ,
     বিবেক -জ্যোতিতে যিনি রমনীয় রূপে প্রতিভাত ,
     সেই যে বিবেকী সত্ত্বা ,প্রণাম জানাই তাঁকে প্রাণে।

৩. সুন্দর রূপ যাঁর সত্য আর বিজ্ঞান -আশ্রয়ী ইশাধীন ,
     অবকাশহীনভাবে প্রদান করেন যিনি সুখের বৈভব ,
     তিনি তো আনন্দময় ,নিত্যের প্রসাদে মুক্ত নিত্যজ্ঞানে লীন ,
     সেই যে পবিত্র মূর্তি ,প্রণামে জানাই তাঁকে হৃদয়ের স্তব।

৪.  যেমন অরুনোদয় নিজস্ব জ্যোতির রূপে বিদূরিত করে অন্ধকার ,
     যেমন বিষ্ণুর চক্র ,সহজে নির্মাণ করে দুর্বৃত্ত -বিনাশ ,
     নয়নাভিরাম যাঁর রূপ দূর কোরে দেয় ত্রিতাপের ভার ,
     তেমনই মূর্তি যাঁর ,প্রণাম জানিয়ে তাঁকে পূর্ণ করি জীবনের আশ।

৫.  আচার্যপ্রবর যিনি ,জন্ম যাঁর মানব কল্যাণে ,
     পরম পবিত্র যিনি সদানন্দ জগৎ -পালক ,
     দুঃখকে সংহার কোরে ,বিশ্বকে সুখ যিনি দিয়েছেন দানে ,
     যোগীশ্রেষ্ঠ সেই বিবেকানন্দকে তাই প্রণামে জাগ্রত হয় ঐশী -আলোক।
   

Sunday, 7 February 2016

আমাদের বরিষ্ঠ কন্যা  , কৃত্তিকার  , মেয়ে ঐশী। তাকে আমরা আদর কোরে ডাকি " শ্রী " বোলে। জন্ম ২০০৫ সালের
১৫ই  ডিসেম্বর। ২৫শে অগাস্ট ,২০০৬এ  ,দিমাপুর-এ  ,  নিম্নলিখিত ছড়াটি নির্মিত হয়েছিলো বোলে তারিখ বলছে। আজ ৮ই  ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে ছড়াটি হঠাত দৃশ্য হোয়ে উঠলো চোখের সামনে। পড়ে ভালো লাগাতে ভাবলাম হয়তো অন্য পাঠকদেরও ভালো লাগলেও ভালো লাগতে পারে।  সেই মনোগত চিন্তার ফলশ্রুতি ব্লগের পাতায় এই লেখা। লেখাটিকে ভালো লাগলে তো সহ্য করবেনই  , না ভালো লাগলেও সহ্য করবেন।



শ্রী -র জন্যে ছড়া
.........................


ছোট্ট মেয়ে ,নরম সরম
                               নামখানি তার শ্রী  ,
কাঁদায় তাকে যে তার ভাতে
                                    ঢালি গরম ঘি।

ছোট্ট যে তার নরম নরম হাত ,
খাবার সময় সব পড়ে রয়
                                শেষ হয় না পাত।
ছোট্ট জামা ,ছোট্ট জুতো ,
                                   সবই ছোট ছোট ,
পেরিয়ে আকাশ কোলকাতাতে
                         নামলো যে তার ফোটো।
তোলনা ছবি মুভির বুকে ,
                                      নইলে মজা কি ?
ছোট্ট মেয়ে ,বুই -এর মেয়ে ,
                                   নামখানি তার শ্রী।

ছোট্ট মেয়ের যে বাবা , তার
                                 প্রসূন সিনহা নাম ,
আমেরিকার প্রেমে পাগল
                                     ছাড়ল জন্মধাম।
প্রসূন -বুই -এর মেয়ের নামে
                                       নিশান তুলে দি ,
ছোট্ট মেয়ে ,নরম সরম ,
                                     নামখানি তার শ্রী।

ছোট্ট মেয়ে - নাতনি যে সে ,
                                     মিট্টি যে তার মাসি ,
গাল ফোলা ওই গোবলামুখোর
                                     চারপাশে চাপরাসী।
দাদু দিদা মাসি মেসো
                                      সবাই চাকর তার ,
ছোট্ট মেয়ের দেখতে হাঁসি
                                      সত্যি চমত্কার।

ছোট্ট মেয়ে ,ছোট্ট মেয়ে ,
                                     আসবে কোলে কি ?
নামখানি যার একটুখানি ,
                                       নামখানি যার শ্রী।


               ...........................