অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
রাজপথের বিশাল হোর্ডিং থেকে ঝরে পড়ছে চোখের জল শিউলি ফুলের মত ।
এ শিউলি তো আমার চেনা ।পাশের বাড়ির পাঁচিলের গা ঘেঁষে
সারাটা শরত্কাল শুধু ফুল ঝরাতে ঝরাতে কাটিয়ে দিলো সময় ।
আমি বলতে শুনেছি অনেক সময় ,অনেক অসতর্ক মুহূর্তে ,
অনেক হতাশার কথা ,ক্রন্দনের কথা ওকে
সামনের বাড়ির ছাদ -টপকানো নারকোল গাছের উড়নচন্ডি পাতাকে ।
এই রকম অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
আর বাড়ির দেয়ালগুলো ভিজে ভিজে হয়ে উঠছে সমসাময়িক দুঃখের ঘামে ।
বাড়ির ছাদ থেকে ঝুলছে স্কুল -পালানো মেয়ের ঝুলন্ত -বিনুনীর মত
লম্বা লম্বা আলোর ছিপছিপে ঝালর ।আমি তাকিয়ে থাকি অবাক চোখে ।
রাত দেখি ,রাস্তার রাত , দুঃখের রাত ,আনন্দের রাত ,বিস্ময়ের রাত ।
সময় সময় মানুষ সব দুঃখ ,সব অশ্রুপতন ভুলে ,নিশ্চিন্ত মনে
উড়িয়ে বেড়ায় রঙ -বেরঙের ফানুস ,পায়রা ওড়ানোর মত করে ।
পাহাড়ের গা বেয়ে অনেক ভ্রমর নেমে এসেছিলো কাল ।সময়ের সঙ্গে
তাদের বন্ধুত্ব ,বলা যায় ,গলায় গলায় ভাব আর মাঝে মাঝেই
একটি সুন্দরী দোয়েল লম্বা বাঁশের সবচেয়ে উঁচু বিন্দুতে বসে শোনায়
আশ্চর্য্য সব গান ,আমি স্তম্ভিত বসে থাকি আর দেখি
অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
.................................