Sunday, 29 June 2014

তোমাকে মানায় রেড উড






তোমার জিবের নিচে চুইংগামের মতো
                                           রাখা আছে ক্রোধ ,
বসন -তুবড়ির মত তার উত্সরণ ,হায় ,কে যে করে রোধ ।
মেঘের বিস্ময় এসে থমকে আছে
                                         তিনশো -ফিট গাছের ডগায় ,
এ শুধু তোমায় মানায় রেড উড ,তোমাকে মানায় শুধু
                                                           আকাশের গায়  ।


তোমার চরণ চিহ্ন ঢুকে গেছে ,সহস্র -বছর ধরে ,
                                                   পৃথিবীর হৃদয়ের দিকে ।
এখনও ধরেনি কোনো অস্তীয়পরসিস ডাক্তারি নিরীখে ।
তোমার কঠিন কান্ড সাঁওতালি শরীরের মতো এই
                                                 বৃদ্ধ বয়সেও কতো দৃঢ় !
আমাদের ছেড়ে তুমি যেও না কো ,যদি যাও
                                                 যেতে যেতে একবার ফিরো ।

                    ...................................

বন্দী





আমি বন্দী হোয়ে আছি
                 খাঁচায় যেমন থাকে শ্বেত ইঁদুরেরা ,
নিজের মনের হাতে ,মনের নদীর হাতে ,
                            ম্যাগ্নলিয়ার কাছে ফেরা
হয়তো হবে না আর ,আমার মাথার কাছে মেঘ
ঘোরা ফেরা করে খুব ,বৃষ্টি হবে ,
                            বৃষ্টি হয়ে ,বিন্দু বিন্দু হয়ে
                                           ঝরবে আবেগ ,
অনুভূতি প্রেম আর পাগলা -ঝোরার মতো নিয়ে ভালোবাসা
আমি বন্দী হোয়ে আছি যেমন শব্দের জালে ভাষা ।

পবিতোরা জঙ্গলের কাছে যাবো ,
শাল আর সেগুনের নিবিড় সংসর্গে ভাত খাবো ।
নিশান উড়িয়ে কিছু চিল যায় সুদূর দক্ষিণে
                                              বসন্তের বাতাসের কাছে ,
শীত চলে গেলে যেন পদধূলি দেন তিনি ঠিক পথ চিনে ।
বাসের রাস্তায় বাস ঠিক যায় চলে ,
বিরহ ও ক্রোধ নিয়ে ,সুখ ও দুঃখের শিশু কোলে ।
এখন শীতের সন্ধ্যা ,দেরি হোলে নেমে আসে রাত ,
অন্ধকারে আমি বন্দী ,নিজেই নিজের হাতে -
                                                         হায় ,কি বরাত !

                    ...................................                           

Friday, 27 June 2014

ব্রম্ভান্ড দোলে




বুকের মধ্যে খুঁজছি তারে অন্ধকারে ,
পূর্ণ -চাঁদের ফ্লাড-লাইটের এ বিস্তারে ।
কোথায় তুমি লুকিয়ে বসে লজ্জা -রাঙা ,
আমার চোখের সামনে খোলো ভূবনডাঙা ।

বুকের মধ্যে একফালি নয় অনন্ত চাঁদ ,
পূর্ণচাঁদের মায়ায় আমায় কে বাঁধবি বাঁধ ।
বুকের মধ্যে খুঁজছি তারে অখন্ডতায় -
ভাবতে ভাবতে রাত্রি কেটে ভোর হোয়ে যায় ।

ভোরবেলার ওই জবাকুসুম তুলবো বোলে ,
দিগন্তে যাই ,পাঁচিল ডিঙ্গোই কি কৌশলে ।
মেঘ এসে ওই চন্দ্রিমাকে পকেটে রাখে ,
আর কতো মা ঘোরাবি আমায় কুম্ভীপাকে ।

কলুর বলদ ঘুরছি চোখে ঠুলির চাবি ,
চল সেজে তুই এবার আমার সঙ্গে যাবি ।
সঙের ভেতর পদ্ম ফুলের পাঁপড়ি খোলে ,
পাঁপড়ি খোলার সেই ঘায়ে ব্রম্ভান্ড দোলে ।

                  ................
   
  

চালচিত্র




ছাতের উপরে পড়ে রয়েছে রোদ্দুর
           শীতের দুপুরে চুল -শুকোতে -আসা বউ ঝি-দের মতো ।
ভ্রমন -পিপাসু হাঁসের দলে নাম লেখাতে চায় ছা -পোষা শালিখ ,তাই
ডানা ছড়িয়ে ছড়িয়ে পরীক্ষা করছে ডানার জোর ।
বুড়ো বয়েসে ভীমরতি ধরেছে রাস্তার কোণের থুর থুরে বাড়িটার ,
দাঁত বাঁধানো হোয়েছে নতুন ,রঙ -চড়ানো হোয়েছে পাতলা -হওয়া চুলে ।
পাশের বাড়ির জাঁহাবাজ গিন্নি দেখছে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে -
ভাবখানা এই -"মিনসের নোলা যায় না মলে " ।

ছাতের উপরে লেপতোষক-এ মাখামাখি করে রোদ ।
আজানের শব্দ পেলে মা ঠাকরেন আসেন তাদের নামাতে ।
সেই সময় দুটি ভালো মন্দ কথা কন সামনের বাড়ির কমলার সঙ্গে ।
কলাগাছের পাতা দোলে উত্তরের হিমেল বাতাসে ।
বাপ -চড়ুই-এর সময় হয় খবর নেবার জুনিয়ার চড়াই -ছানাদের ।
লাঞ্চে পোকার ঝাল -চড়চড়ি খেয়ে সটান লম্বা দেবে তারা ।
ওপর থেকে শ্যেন -দৃষ্টি হেনে ঘুরে বেড়ায় চিল  -
ছো  মেরে উঠিয়ে নিতে চায় সুখ দুঃখ দুটিকেই গাছের মগডালে ।

চারিদিকে একবার -পরা -সূতির -জামার মতো নরম আলস্য ।
বয়স্ক বেলগাছটার শরীর ছেয়ে আছে বেলের কচি কাচায় ।
তারপর আসবে এক হাওয়া সময়ের হাত -ঘোরানো স্পিন -এ ,
আর নড়বড়ে তিনকাঠি কোথায় ছিটকে যাবে কে জানে ।

                   .................................   

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে





আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে
বড় বড় উদ্ধত লেলিহান শিখায় -
সেখানে হচ্ছে জন্ম ,হচ্ছে মৃত্যু ।
একটি বিশালাকায় ঘাসজমির মালিকানাহীন বিস্তারে ,
আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে দাউ দাউ ।

প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যে অণু পরমাণুর মতো
দৌড়ে যাচ্ছে জীবন আর শবাসনে শুয়ে রয়েছে মৃত্যু ।
যে নদী নাচতে নাচতে চলেছে এঁকে বেঁকে
পেরিয়ে গিয়ে বহু নগর বন্দর মাঠ ঘাট অবহেলা ,
তার লয় সমুদ্রের অন্তহীন অতল গভীরে ।
সেই জলই মেঘের মাথায় পর্বত -শিখরে পুঞ্জ পুঞ্জ
হিমশীতল বরফ যার কাঠিন্য গলে গলে আবার ঝর্ণা নদী হোয়ে
নিজের মনে চলে যাচ্ছে পেরিয়ে মাঠ ঘাট বন বনান্তর ।

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে আগুন জ্বলছে
বড় বড় উদ্ধত লেলিহান শিখায় ।
আমার বেঁচে থাকা সজনে ডাঁটা হোয়ে ঝুলে রয়েছে শূন্যে ,
ঝরে পড়ছে শিউলি ফুল হয়ে পথের ব্যস্ততায় ।
আমার বেঁচে থাকা সিঙ্গাড়ার -গন্ধে টাল মাতাল পৃথিবী ।
আমার বেঁচে থাকা আগুন জল বরফ ,
কান্না দুঃখ অশ্রু বর্ষার এক কোমর জল ।
আমার বেঁচে থাকা বইমেলার হারিয়ে পাওয়া বই ।

আমার বেঁচে থাকার মধ্যে হৈ হৈ করে জ্বলছে আগুন । 

Sunday, 22 June 2014

স্বর্ণময়ী ধান






তোমার কলম থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসেছে স্বর্ণময়ী ধান -
যে ধান উড়ছিল সোনালী রোদ্দুরে ,শীতল বাতাসে ,
কবুতরের অহিংস -ঠোঁটে ,বাতাস উঠেছে ভালোবাসার সুগন্ধ বুকে নিয়ে ।
মাটিতে ছড়িয়ে রয়েছে হীরে মুক্তো পান্না চুনী -
শুধু তুলে নাও সঠিক শ্রমে ,পারিজাত দুঃখে সুখে ভালবাসায় ।

অন্ধকারের মধ্যে নূপুরের ধ্বনি ,বনাঞ্চলের প্রতিটি গাছের ফাঁকে ফাঁকে ,
পাতার বলিরেখায় ,নূপুরের উচ্চাঙ্গ নিক্কণ -
আমি উড়ছি বিমানের মতো মেঘের রাজ্যে ডানা ভাসিয়ে ।
আমার রক্তের মধ্যে নাচছে নূপুর ,রক্তপরীক্ষায় হয়তো বা
ধরা পড়ে যাবে মিষ্টতার আধিক্যের স্থলে নৃত্যাধিক্য -
উন্মাদনার অপর নাম জীবন মেতে ওঠা ,নেচে ওঠা ।

তোমার কুন্কের মধ্যে একমুঠো ধান -স্বর্ণময়ী -যার ভিতরে
খোসায় -ঢাকা গোপন বেঁচে থাকার গান ,যে ধানের দানা ফোটার মধ্যে
শব্দ জাগরিত হয় নূপুরের ,ভাতফোটার ,
নৃত্যের সঙ্গে মিশ্রিত -খাম্বাজে মিলিত হয় সুগন্ধী ধূম্র ও স্বাদ -
যা দেবে স্খলিত -মাংসপেশীতে ধনুকের জ্যা -এর শক্তি ,
আর আমি দেখতে পাবো চারিদিকে ফুটে উঠছে
অপরাজিত ম্যাগনোলিয়া -যা এখনও পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রেম ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার






হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ,
জুতোর কাঁকর উপেক্ষা করতে পারি আমি ।
ভীষণ ঝড় উঠেছে ফুল গাছের কোমল ছায়ায় ,
আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে থাকে
পিয়াঁজ রসূনের চিত্কার ,মাংসের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ,
শিউলি ফুল সাধারণ মানুষের মত লুটিয়ে থাকে ভূমিতে ,
আমার বুট -জুতোর নিচে পিষে যেতে   তার আমরণ -সাধ ,
পাহাড়ে উঠতেই যা কষ্ট ,নেমে যেতে কোনো কষ্ট নেই ।
তা সে রোদ্দুরেই হোক বা ঘন বর্ষায় -
নেমে যেতে যেতে দেখা হয় শিয়াল কুকুরের সঙ্গে ,
ভ্রাম্যমান হায়নার সঙ্গে ,উড়ন্ত কাকের সঙ্গে ।

হাঁটতে হাঁটতে যাবার কোনো কষ্ট নেই বিশেষ ।

Saturday, 21 June 2014

লাল আলো





লাল আলোতে আটকে আছে গাড়ি ,
কোন দিকে যায় রাস্তা নাকি পথ ।
লাল হলুদে রঙ মেশানো বাড়ির ,
ছোট্ট পুকুর ,লাফায় ফড়িং ,
                      জ্যান্ত ভবিষ্যত ।

পায়ের নিচে সংগত হয় ,এক পা দু পা গুনি ,
পাতায় ফুলে ,গানের সিজন আসছে তাই তো শুনি ।
হুস বললেই মার্কিনী দেশ ,ফুস -মন্তর ব্রাজিল ,
ঢিল ছুঁড়লেই মায়ায় আকুল ,শান্ত দেখায় ঝিল ।

লাল আলো আর  সবুজ আলোর ম্যাজিক বোঝা ভার ,
মাঝখানে যে হলুদটা তার জীবনটা ছারখার ।
নানান রঙের গৃহ -প্রবেশ ,রঙ -ছড়ানো রোদে ,
নুব্জ -দেহে হৃদয় -হরণ ,ধার করে ঋণ শোধে ।

আটকে -পড়া গাড়ির ভাগ্য লাল -আলোতে লেখা ,
নদীর ছোট ঢেউ -এর গানে ,এই তো আমার শেখা ।
ছড়িয়ে -ডানা ওই দেখা যায় রঙ -লাগা হাতছানি ,
নদীর মত জীবন এগোয় ,এই তো আমি জানি ।

                     .....................

Sunday, 15 June 2014

অনেক কাদামাখা স্মৃতির পা





অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
রাজপথের বিশাল হোর্ডিং থেকে ঝরে পড়ছে চোখের জল শিউলি ফুলের মত ।
এ শিউলি তো আমার চেনা ।পাশের বাড়ির পাঁচিলের গা ঘেঁষে
সারাটা শরত্কাল শুধু ফুল ঝরাতে ঝরাতে কাটিয়ে দিলো সময় ।
আমি বলতে শুনেছি অনেক সময় ,অনেক অসতর্ক মুহূর্তে  ,
অনেক হতাশার কথা ,ক্রন্দনের কথা ওকে
সামনের বাড়ির ছাদ -টপকানো নারকোল গাছের উড়নচন্ডি পাতাকে ।
এই রকম অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।
আর বাড়ির দেয়ালগুলো ভিজে ভিজে হয়ে উঠছে সমসাময়িক দুঃখের ঘামে ।

বাড়ির ছাদ থেকে ঝুলছে স্কুল -পালানো মেয়ের ঝুলন্ত -বিনুনীর মত
লম্বা লম্বা আলোর ছিপছিপে ঝালর ।আমি তাকিয়ে থাকি অবাক চোখে ।
রাত দেখি ,রাস্তার রাত , দুঃখের রাত ,আনন্দের রাত ,বিস্ময়ের রাত ।
সময় সময় মানুষ সব দুঃখ ,সব অশ্রুপতন ভুলে ,নিশ্চিন্ত মনে
উড়িয়ে বেড়ায় রঙ -বেরঙের ফানুস ,পায়রা ওড়ানোর মত করে ।
পাহাড়ের গা বেয়ে অনেক ভ্রমর নেমে এসেছিলো কাল ।সময়ের সঙ্গে
তাদের বন্ধুত্ব ,বলা যায় ,গলায় গলায় ভাব আর মাঝে মাঝেই
একটি সুন্দরী দোয়েল লম্বা বাঁশের সবচেয়ে উঁচু বিন্দুতে বসে শোনায়
আশ্চর্য্য সব গান ,আমি স্তম্ভিত বসে থাকি আর দেখি
অনেক কাদা -মাখা স্মৃতির পা ভাঙতে ভাঙতে যাচ্ছে সময় ।

                       .................................





মনের মধ্যে বর্ষা





কারো বাড়ির আলো সবুজ ,কারো বাড়ির নীল ,
আঙুল থেকে দৌড়ে গুলি ,পেরিয়ে গেলো পিল ।

পরশুই ভূত -চতুর্দশী ,তারপরই অমাবস্যা ,
পূবদিকে দেখ ফুটছে আলো ,বাইরে হচ্ছে ফস্সা ।

কে জানে পথ কোনদিকে যায় ,কোন নদী যায় সাগর ,
কলির কেষ্ট কেউ সাজে বা ,কেউ বা সাজে নাগর ।

আকাশ -ভরা অন্ধকারে ,তার আলোকই  ভরসা ,
অকারণেই বর্ষা নাবল ,মনের মধ্যে বর্ষা ।

                     .......................




তোমাকে আয়না






তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
তোমার মধ্যে দেখতে চাই নিজেকে ।
চুল আঁচড়াতে চাই তোমার সুচতুর চোখের আলোয় ,
তোমার দাঁতের চামড়ায় একাকার হয়ে আছে বিশ্বভূবন ।
ধূলিস্যাত হোয়ে যাচ্ছে বড় বড় বলদর্পী গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলি ।
তোমার আয়নার মধ্যে দেখতে পাই এইসব ছবি ,
এই সব অপরিপক্ক সর্বনাশ ,
যাদের ভয়ঙ্কর নখগুলি আটকে আছে মাথার চুলে ।
চুল ছিড়তে গিয়ে সব ব্যবস্থার এই অবস্থা ।
লোভী শিয়ালের নীলের গামলায় পড়ে নীল হয়ে যাবার গল্প -
এইসব শুনতে শুনতে প্রহরগুলি দৌড়োতে দৌড়োতে পেরিয়ে গেলো
হতাস বসন্তের হাহাকারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা রেলস্টেশন ।

তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
তোমার মধ্যে দেখতে চাই দোয়েল ,কাদাখোঁচা ,শঙ্খচিল ,
এমন কি বউ -কথা -কও-ও ,যার উপরে তার শ্বাশুড়ি
উপুড় করে দিয়েছিলো হলুদ -রঙা ডালের হাঁড়ি আর সে
ফুরুত করে উড়ে গিয়ে বসেছিলো পাখি হয়ে নিমগাছের ডালে ।
তারপর দক্ষিণ বাতাসে সেই যে গেলো উড়ে
আর এলো না ফিরে আর তারপর দক্ষিনের বাতাস
প্রতিবার ফিরে এসেছে হাহাকারের শব্দ নিয়ে ।
তোমাকে আয়না ভেবেছি বলেই
হড় হড় কোরে বলে ফেললাম এতোগুলো অপ্রিয় কথা ।

                  ..............................   




একশোছাব্বিশটি হাড়ের বেড়াজালে






তুমি কি জানতে ,আলোর তলায় বসলেই আলোকিত হয় না হৃদয় ,
কৃত্রিম -পাখার নিচে বসে ,শুকিয়ে নেওয়া যায় গায়ের ঘাম ,
ত্বকের উপর বসে থাকা পাথর -ভাঙা জলপ্রপাতগুলি ,অথচ সুস্বাদু এই বাতাসে
শুকোয় না প্রাণের উপর মাছির -মতো -উদাসীন বসে থাকা স্বেদবিন্দু ।

অন্ধকার -হৃদয় আলোকিত করার জন্যে ,পাথর কেটে
ঘর বানাতে হয় শীতল ,যেখানে পদ্মের -পাতা -ঝরানো বাতাস
কোথা থেকে এসে যেন জুড়িয়ে দেয় শরীরের ক্লান্ত সর্বস্ব ।

তোমার চারপাশে সবই আলো কোথাও নেই সেই অন্ধকার ।
দেবতার মন্দির ঝাঁপিয়ে পড়ছে পরাক্রান্ত -বাঘের মতন লালসায় ।
হরিণের উপর ।সুন্দরবনের ক্ষয়ে -যাওয়া অরণ্যে ।ঘুরে বেড়াচ্ছে
চারা -পোনা হোয়ে ত্রিবেণীর -বাড়ির পেছনের ডাক -উইড -মাখানো -জলাধারে ।
তুমি কি জানতে ,আলোর নিচে বসলেই আলোকিত হয় না হৃদয় ,বিজ্ঞাপিত -সাবানে
স্নান করলেও মনের দুর্গন্ধ ঘুরে বেড়ায় একশ -ছাব্বিশটি -হাড়ের বেড়াজালে ।

                             ........................................    

দেওয়ালির রাত






বাজি ফুটছে ,ফুটছে ক্র্যাকার ,
                                     জলপ্রপাত আলোর ,
আকাশ জুড়ে ঝর্ণা যেন
                                     দেখাচ্ছে জমকালো ।

তেশরা -জুলাই ,ওয়াশিংটন -এ ,
                                    স্বাধীনতার রাতে ,
আতসবাজির আজব -খেলা
                                    যেমনটি দেয় পাতে ।

বাজি ফুটছে ,তেমন ভাবেই -
                                   ফোয়ারা -ফোটে আলোর ,
আলোয় চতুর্দিক ভেসে যায়
                                   হাওয়ায় আলোর ঝালর ।

বসে রয়েছি ব্যালকনিতে
                                   সময় এখন মাঝরাত ,
সময় -টময় থমকে গেছে ,
                                   চারদিকে তার সাক্ষাত ।

             ................................ 

সেই ছেলেটি






এপার থেকে ওপার করছে
                                 হাত ভর্তি বালি ,
এ ফুটপাতে তুলছে আর ওই
                                 ও ফুটপাতে খালি ।

ছেলেটি বোকা ,যাচ্ছে আসছে
                                 দেখছে না তো গাড়ি ,
এপার থেকে ওপারে গিয়েই
                                 ফিরবে তাড়াতাড়ি ।

অনেক্ষণই চলছিলো এই
                                 এপার ওপার করা ,
জল টল টল গঙ্গায় ওই
                                ভাসছে পিতল -ঘড়া ।

গ্রীষ্ম -কালের দুপুর বেলা
                               ভাতঘুমে সব কাতর ,
মা দিদিদের কাপড় রোদে ,
                               আগর -তেলেই আতর ।

জলযোগের ভ্যান -গাড়িটা
                                দুধের ক্যানে ভরা ,
আসছে ভীষণ স্পীড চড়িয়ে
                              ধরাকে ভেবে সরা ।

সেই ছেলেটি দেখলো না তা
                               আসার পথে এধার ,
মাঝ রাস্তায় ধাক্কা খেলো
                              দুধ গড়ালো দেদার ।

ভাগ্যে ব্রেকটা লেগেছিলো
                              ড্রাইভারদার হাতে ,
তাই ছেলেটি গেলো বেঁচে
                              পারলোনা টপকাতে ।

অনেক হোলো হৈ চৈ আর
                              জমলো অনেক ভিড় ,
সেই ছেলেটির মার চোখে জল
                               ঝরছিলো অস্থির ।

মার কাছে সে আদর তো নয়
                               খেলো ভীষণ মার ,
দুঃখ দেবার শাস্তি অনেক ,
                                এর নামই সংসার ।

এমনই অনেক স্মৃতির কথা
                                 হটাত পড়ে মনে ,
চলছে সবই তার শাসনে ,
                                চাঁদ ভাসে আনমনে ।

            ............................. 


Sunday, 8 June 2014

Rabindranath's Song In Translation : কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া










Ceasing to focus on self , I've thought to myself so many times,
To dedicate myself at your feet sublime.
I shall hold your feet to articulate -
Secretly my friend - I love you , at any rate .
I thought to myself ,you're so high in heaven as god,
How on earth should I express to you
                                                   the word of love my Lord !
I thought in my mind to keep myself away,
I shall  , for the rest of my life ,to you , pray alone
                                                                in a secluded way..
Nobody will ever know about the deep love ,for you , I have,
Nobody will ever view the amount of tears I shed for you to rue.
When you come today to ask simply me -
How on earth could I express how much love I bear for you in glee.

মৃত্যু






প্রতিটি জন্মের পরে মৃত্যু এসে ডেকে নিয়ে যায় ,
প্রতিটি মুহূর্ত শুধু জন্ম হয় ,নতুন জন্মের ইশারায় ।
কালো মেঘে বৃষ্টি নয় ,জন্ম হয় নবতর দিন ,
প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু জন্মের রঙ মেখে হয়েছে রঙিন ।



Saturday, 7 June 2014

আমাকে অনন্ত করো






আমাকে অনন্ত করো বৃষ্টিহীন এই অন্ধকারে ।
কাকের মতন কালো কর্কশ নিরন্ন বিধ্বস্ত সারে সারে 
দাঁড়িয়ে রয়েছে স্থির ,ভাই বন্ধু আত্মীয় -স্বজন খাজুরাহ ,
সুন্দরের পূজা বন্ধ ,আনন্দের বলিদান বাড়ায় প্রদাহ । 

ওই যে চাঁদের আলো






ওই যে চাঁদের আলো তোমার ওই মুখ ভালোবেসে ,
আকাশের পাড়া ছেড়ে ,তোমারি এ জানালায় দাঁড়িয়েছে এসে ।
পিছে ফেলে সমস্ত সংসার আলোছায়া ,
এড়িয়ে এ সমাজের বৃহত্তর আইসক্রিম মায়া ,
লোকাল ট্রেনের ভিড়ে ময়দা -মাখা হোতে হোতে এসে ,
ট্রেনের টিটির মতো গেট -জুড়ে দাঁড়িয়েছে দেঁতো -হাঁসি হেঁসে ।





Wednesday, 4 June 2014

জ্বলছে দেখো না -দেখা এক মণি






তপ্ত দুটি পায়ের পাতায় লুটিয়ে পড়ে সমুদ্রের ওই জল ,
পদ্ম -ফোটা কুসুম যেন রাস্তা -জোড়া বরফই সম্বল ।
হাতের ওপর ঘর -ভাঙা ঝড়  ,ও ঘর থেকে ডাকছে ননদিরা ,
বন কেটে লোক বসত করে ,গীর্জা -ঘরে ভজন করে মীরা ।
হলুদ রঙের তপ্ত -বালু ,সুগোল আলু ,উঠছে ধোঁয়া দূরে ,
উড়ছে ধূলো ,হাঁটছে নুলো ,তার বরাভয় দাপায় অশ্বক্ষুরে ।
তোমায় যদি বহতা -নদী ইংগিতে কয় সশ্রস্ত রোদ্দুরে ,
তার বারতা ,নিজস্বতা ,আসছে ধেয়ে ঝড়ের গলার সুরে ।
আমি তো তাই ,বগল বাজাই ,জাগিয়ে তুলি না শোনা এক ধ্বনি ,
মার্চ করে যায় ,শেখানো দায় ,জ্বলছে দেখো না -দেখা এক মণি  ।


Monday, 2 June 2014

তোমার ও মুখ





তোমার ও মুখ আমি সহজে কি ভুলে যেতে পারি ,
রক্তে ঝাউএর দোলা ,পাইন দাঁড়িয়ে আছে
                             রাস্তার দুধারে সারি সারি ।
ডিজিটাল জ্যোতি যেন ,ও মুখ কি করে আমি
                                        ভুলে যেতে পারি ?
অবিরত চাপে পড়ে রাস্তার নকশা গেছি ভুলে ।
তবুও চোখের সামনে তোমার ও মুখ ওঠে দুলে ।
যেন চান্দ্র -ডান্স করে পপ -কিঙ মাইকেল জ্যাকসন ।
দুলে দুলে দূরে যায় আগত মূহুর্ত দিন ক্ষণ ।
ভুলে যাবো বললে হোলো ,রসাতলে যাবে না সংসার ?
যেই বলা সেই কাজ ,আলো নিবে ধরা অন্ধকার ।