Sunday, 31 July 2016

নৃত্যরতা জলে তুমি মাছ




সারাটা সকাল জুড়ে , জল নিয়ে করে খেলা কোলকাতার গাছ ,
তোমার স্নানের দৃশ্য ,তার মাঝখানে যেন নৃত্যপরা মাছ।
গা বেয়ে পড়ছে জল ,খোলা চুলে কালো হোয়ে আছে সুস্থ  মেঘ ,
দূরের শিরীষ তরু ,চোখের ইঙ্গিতে ডাকে ,ফুলে ফুলে আবেগে আবেগ।

তুমি তো শীতল করো ,তুমি তো নরম করো ,রুক্ষ মাটি ,রুক্ষ অনুভব ,
কতো ধূলো ধুয়ে গেলো ,কতো অন্ধকার কেটে শান্ত হোলো আত্মমগ্ন সব।
শ্যামল শ্যামলতর মাঠ ঘাট ,নদী নালা ,পান্থশালা ,আমাদের মনের গভীর ,
পিচ -ঢালা পথ যায় ,দুঃখের ভেতরে যায় ,সুখের ভেতরে করে ভিড়।

তুমি তো সূর্যমুখী ,কোথাও বা কৃষ্ণচূড়া ,বেল কিম্বা জুঁই ,
পাহাড়ের দিকে আজ জ্যোৎস্না পেরিয়ে গেলে ,রঙে মত্ত বিদেশ বিভুঁই।
তুমিই বিদেশ ,তুমি আমাদের নিজ জন্মভূমি থেকে জাল ফেলে তুলে আনো সুখ ,
তোমাকে দেখেছি আমি ,এ সকালে স্নানরতা , ঢাকা ছিলো তোমার ও মুখ।

তোমার মুখের আলো নৌকো হোয়ে ভেসে গেলো ,আলোকিত কোরে চতুর্দিক ,
সহস্র বছর ধরে ,এমনই ঊজ্জ্বল ছিলো ,অশোক ফুলের মুখ ,এমনই অভীক।
সীতার পায়ের কাছে ,তুমিই তো ছিলে সীতা ,নৃত্যরতা জলে তুমি মাছ ,
আমার শরীর গলে , জলের  সঙ্গে ভাসে ,কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় খেলে বাচ।

                           ................................................

চন্দনের কাঠ






বাতাসে সন্ধ্যার হাওয়া  , আকাশ তো কালো অন্ধকার  ,
তেজপাতা নড়ে ওঠে , ঝেড়ে ফেলে দ্বিপ্রাহরিক ঘাম  , আগুনের ভার।
কাঁঠাল ও আমের ছায়া  , বাড়ায় বন্ধুর হাত অনায়াস প্রেমে ,
বাগানে কৃষ্ণচূড়া সপ্তপর্ণী ,সুবিস্তৃত ,অগ্নিবর্ষী রৌদ্রে ওঠে ঘেমে।

জীবনে পলাশ লাল ,সিগারেট নিয়ে ঘোরে ঘোর ভালোবাসা ,
এসব কিভাবে ব্যাখ্যা করবো জানিনা ,জানি মানিব্যাগে নেই কোনো ভাষা।
উদ্দাম তরঙ্গ ওঠে মনের ভিতরে ,ত্বকে ,ঢেকে রাখা অগ্নির গোলোকে ,
রাত্রিতে তো শেষ নয় ,সকালে আবার শুরু ,দেখা হোলে -বোলো কে।

বলো কে জ্যোস্নাময়ী ,জাহাজঘাটায় দেখা ,ও বিশাল সমুদ্রের চোখে ,
ঢেউয়ের সঙ্গে আজ লড়াই আমার ,তাই রিঙের বাইরে বসে হর্ষ তোলে লোকে।
রেড রোডে বৃষ্টি আজ ,ভেসে যায় ইডেনের মাঠ আর গঙ্গার ঘাট ,
এসপ্ল্যানেড প্রকৃতি হোয়ে ,মহীয়সী গাছ হোয়ে তুলেছে আমার হাতে চন্দনের কাঠ।

                            ......................................................

Thursday, 21 July 2016

রোগ






সময়েরও বাসা আছে ,সময় বেঁধেছে বাসা মনে ,
কড়া -নাড়বার শব্দ ,চিৎকার ,বেলের আওয়াজ  - সে কি শোনে ?
নদীর গতির মতো ,ছক্কা -মারা বল যায় ,বহুদূর সীমানা পেরিয়ে ,
ঘড়ি টিক টিক করে  - শব্দ নেই  - তবু সে শুনেছে মন দিয়ে।

পাতা নড়ে বৃষ্টিপাতে ,ছোটো ছোটো পাখিদের দীপ্ত -কলরব ,
বৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে ,ঊজ্জ্বল কোরে তোলে ,হৈ হৈ কোরে ওঠে সব।
বাড়ে যত মানুষের হার ,ততো কিম্বা তার বেশী ,দামী হয় জমি।
একতলা ভেঙে ওঠে বারোতলা ,সততার শব হয় মিশরীয় ম্যমি।

তোমাকে তো যত্ন করে ,ভালোবাসে ,তাই পূজো প্রতি শনিবারে ,
ঢাক ও মাইক যোগে ,আম কলা লিচু ও পেয়ারা দিতে পারে।
সমস্ত মজাটা দেখে ,দূর থেকে পোজ মেরে ,করে উপভোগ ,
টেরি -কাটা ফাটা -জিনস ,ডাহা বর্তমান দেখে আজকের রোগ।

                           ...................................

Wednesday, 20 July 2016

অনাবৃত খাম







বসন্তবৌরিরা আজও ঘোরে ফেরে বাদাড়ে ও বনে ,
অসিত ছায়ার মতো ,গভীর স্বপ্নের মতো ,যেন আনমনে।
দুধের বাটিতে মাছি ,যেমন লোভের বশে ,বসেছে অনড় ,
চারিদিকে আজ শুধু বসন্তবৌরিরা এসে বেঁধে আছে ঘর।

বাগানে গাছের ফাঁকে ,ঘন অন্ধকারময় ,আলো এসে খেলে লুকোচুরি ,
আলো কি পাখির গতি ,আলো কি শিশুর খেলা ,যত হুড়োহুড়ি।
জামার বুনোটে যতো অন্ধকার বিঁধে আছে ,আনন্দ -ঊজ্জ্বল ভালোবাসা ,
গাছের পাতায় শুধু তার নাম ,তার গন্ধ ,তারই মানতাসা।

সম্ভাবনার গাড়ি রেল ছুঁয়ে জাংশান স্টেশন ছুঁলো ,পরিচিত শব্দমুখরতা ,
তোমার সঙ্গে আজও আমার সমাপ্তিহীন রয়ে গেছে কতো শত কথা।
ভেবেছি জীবনে পাবো প্রতিটি মুহূর্ত শুধু স্বেদের বিন্দুর নোনা জলে ,
দুপুর পেরিয়ে কাল বিকেলের দরজা দিয়ে যায় পার্কে সন্ধ্যার কবলে।

কৃষ্ণচূড়া মুগ্ধ হয় ,জারুলের নীল ফুলে সোঁদালীর হাওয়া এসে লাগে ,
আমার অনেক কাজ বাঁকি পোড়ে আছে সব ,মিথ্যা আজ সত্যের পরাগে।
শব্দ কোরে ডাকে পাখি ,গান গেয়ে ওঠে রৌদ্র ,মনের উপরে জমে ঘাম ,
টেবিলে বইয়ের পাশে পড়ে আছে সুগন্ধ সৌরভ - ভরা অনাবৃত  খাম। 

                          .......................................