Sunday, 23 February 2014

লোভ





লোভ এসে খেয়ে গেলো জীবনের শাশ্বত মাধুরী ,
পিপড়েরা যেমন খায় ,ইঁদুরে যেমন করে চুরি ।
অনন্ত পথের পাশে ফুল আছে কাঁটা দিয়ে ঢাকা ,
একটু উন্মনা ভুল ,আসে ঝড় ,ঘুরে যায় চাকা ।

কামরাঙ্গাটির গাছে ,পাকা কামরাঙ্গা হয়ে ঝুলে আছ তুমি ,
মাটি নিয়ে ফাটাফাটি ,শহরের আশে পাশে নেই কোনো শান্ত জলাভূমি ।
হাঁসপাতালের খাটে শুয়ে আছে হতভম্ব অজানা প্রকৃতি ,
তুমি আছ ,তাই আছি ,মাথার ভেতরে নিয়ে অবিকল্প স্মৃতি ।

বসে আছি নিয়ে লোভ ,জিবের ভেতরে মাখি ,যেন আইসক্রিম ,
স্বপ্নের ভেতরে লোভ ,প্রতিটি মূহুর্তে আছি ,লোভের ভেতরে হোয়ে হিম ।
লোভ এসে চেঁটে চেঁটে ,যায় হেঁটে  ,হাত দুটো দোলাতে দোলাতে ,
আমি তো বিস্মিত হাবা ,কবিতার ডাল দিয়ে ভাত মাখি পাতে ।

দুঃখ তোমার বৃষ্টির জল






তোমার দুঃখে আমি কাঁদি আর 
                                   আমার দুঃখে তুমিও ,
রাত -ভোর যদি বৃষ্টিতে ভাসে 
                                   তাহলে একটু ঘুমিও ।

বাতাসে যদিবা শীত থাকে বাকি 
                                   খুচরোর মতো পকেটে ,
কুড়ি -পাওয়ারের সি এফ এল কিনে
                                   লাগিও ঘরের সকেটে ।

দুঃখ তোমার বৃষ্টির জল
                                  ঘাসে পড়ে থাকা বিন্দু ,
দিগন্ত থেকে ছুটে আসে ডাক ,
                                  ডাক পাঠিয়েছে সিন্ধু ।

সাগরের ডাকে কি যে কথা থাকে
                                 বুঝতে মানুষ হয়রান ,
দুঃখ -মাধুরী -মাখানো থালাটি
                          হাত থেকে পড়ে খান -খান ।

তবুওতো বলি ,পাখির কাকলি
                               ভালোবাসা হোয়ে উচ্ছল ,
ও দুঃখ তুই ,একে একে দুই ,
                               ফেলে রাগ তুই ঘর চল । 

Saturday, 22 February 2014

খুব সাধারণ






চাই না হতে কবি ,আমি চাই না হতে নেতা ,
চাই না হতে ধর্মগুরু ,ভবিষ্যতের ক্রেতা ।
বর্তমানের খুব সাধারণ মানুষ আমি তাই ,
যেমন আছি ,সেই রকমই হোয়ে থাকতে চাই ।

পাহাড় দেখি ,নদিও দেখি ,নোংরা -জমা ডোবা ,
আকাশ ভরা সূর্য তারার দেখি অমল শোভা ।
মনের মধ্যে জমাই সোনা ,ঝিলিক -মারা হীরে ,
জলের স্রোতে বইছে সময় ,বইছে বাতাস ধীরে ।

আমার কাছে মাছিও দামী ,যেমন দামী তরু ,
ভালোবাসায় ছায় এ হৃদয় ,নয় মোটা নয় সরু ।
আলোর মধ্যে যেমন সুখী ,অন্ধকারেও তেমন ,
সুখ খুঁজি না ,আপনি আসে ,প্রিয় দোয়েল যেমন ।

মন্দ ভালোর দ্বন্দ ছাড়াও আছে অনেক কিছু ,
জায়গা উঁচু যেমন আছে ,জায়গা আছে নিচু ।
শূন্যে ওড়ে চিল ও শকুন ,শূন্যে ওড়ে ঘুড়ি ,
সময় যেমন যাচ্ছে মানুষ হচ্ছে বুড়ো বুড়ি।

লোভ তো অনেক ছড়িয়ে আছে ,লোভের নামই আঠা ,
জলেও কুমীর ,স্থলেও কুমীর ,টেনে ধরছে পা -টা ।
কবিতা লিখি ,ছন্দে খেলি ,চাই না হোতে কবি ,
খুব সাধারণ ,তাই-ই হোতে চাই ,বিলিয়ে দিয়ে সবই ।

আকাশের চোখ












অন্ধকার আকাশের চোখ আজ ক্যাটারাক্ট -এ ভরা ,
তারারা নীরব হোয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি ত্বরা ?
ঘোলাটে ছায়ার মতো মোটা এক চাদরের নিচে
চোখ মিটিমিটি করে ,জানি ওই ঘুমটুম মিছে ।

পাইনের পাতা কাঁপে ,শব্দ তার বাতাসের কাঁধে ,
আলোর ও বীজগুলো চতুর্দিকে গিয়ে বাসা বাঁধে ।
যখন সূর্যের ঢেউ অন্ধকার সমুদ্রের তীরে ,
ঝাঁপিয়ে পড়বে একা ,আলো ফুটে উঠবে তিমিরে ।

গাছের পাতার পাশে আলো গিয়ে অন্ধকার খোঁজে ,
একবার চোখ খুলে দেখে নিয়ে গিরগিটিগুলো চোখ বোঁজে ।
মাটির উপরে হাঁটে বিষদগ্ধ মানবিক -মন ,
হাঁসপাতালের খাটে শুয়ে আছে ,অবস্থা যখন -তখন ।

আজ সারাদিন শুধু জল পড়ে আকাশে পাতালে ,
শুধু নেই বরফের গুঁড় ,ভাবি ,কত কি দেখবো কালে কালে ।
বিস্মিত বিকেল থেকে পার্কে গিয়ে বসে থাকে সন্ধ্যার -পাখিরা ,
আজ সবকিছু ভিজে ,ঠান্ডা হোয়ে জেগে আছে শিরা ।


Sunday, 16 February 2014

কবিতা -বাসনা





একদা রক্তের স্রোতে ছিলো কতো উচ্চাবচ ঢেউ ,
বিষন্নতা ছিলো কোণে ,ইঁদুরের মতো যেন কেউ ,
লুক্কায়িত অথবা উন্মুক্ত কোনো সিক্ত কুয়াশায় 
শীতের রাতের মতো হিম -হাওয়া মুক্ত হোয়ে যায় ।

তবু শব্দ হয় রেলে ,কেউ যেন যায় পর্যটনে ,
নখগুলো ঘষে মেজে ,রঙ -মেখে যায় মনে মনে ।
কোথায় বেড়াতে চায় , আঘাটায়  ,অশিক্ষিত মন 
বাঁশির শব্দের মতো ওঠে বেজে  - মরণ বাঁচন 

আছে কার হাতে আর কদলী -বৃক্ষের মতো প্রেমে ,
বরফের মতো জমে সব কিছু গিয়েছে কি থেমে ?
সব গোপনতা আছে পোষাকের আস্তরণে ঢাকা ,
হাত নেড়ে উড়ে যায় পাখির মতন  মেলে ব্যস্ত পাখা ।

শেষ কিছু অনুভব ,যেন মুক্ত পৃথিবীর চাঁদ 
বিকিরণ করে আলো ,শব্দ নিয়ে দেখে তার স্বাদ ।
ভাষা নিয়ে , বর্ণ নিয়ে ,পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা ,
রাত্রিদিন চলে সভা ,মনে ফোটে কবিতা -বাসনা ।

Translation Of Rabindranath's Song : সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে ।





Honoured is my birth to have been born in this land .
Honoured is my birth ,O mother ,
                                    to have loved you so grand .
I do not know if you have wealth
                                                 worthy of a queen ,
I only know , I'm cooled 
                                  by your shade's caring hand .
I know not about any flower
                   the fragrance of which 
                                        gets me so overwhelmed .
I know not about any sky 
                   where the moon gets up
                                           with a smile so pleasant.
At birth your light soothes my eyes
                                            on their first ever sight .  

অন্ধকার চায় জোনাকিরা





এখনও রাতের কাছে আলো জ্বেলে
                                 অন্ধকার চায় জোনাকিরা ,
জাগিয়ে রাখতে গীত অপ্রার্থিত ছেঁড়ে কন্ঠশিরা ।
মেঘের বাহন হোয়ে বাতাসের বিক্ষুব্ধ প্রতিরোধ ,
বর্তমানের বুকে আগ্নেয়গিরির লাভা ,জমে আছে ক্রোধ ।

বাতাসে ধূপের গন্ধ ,বনানীতে ঘুঙুরের বোল ,
রঙে রমনীয় হলো ,পথকে রঙিন করে তোল ।
কলার পাতায় ভাত ,কতোদিন পরে এ সাক্ষাত ,
এখন দিনের ফাঁকে কোথায় লুকিয়ে থাকে রাত ।

অশ্বত্থের পাতাগুলি সমস্ত সময় শুধু অক্সিজেনময় ,
আকাশে পতাকা তুলে বলে জয় ,জীবনের জয় ।
এখনও রাতের কাছে আলো জ্বেলে অন্ধকার চায় জোনাকিরা ,
মন -নিকেতনে আজও অবিশ্রাম চলে অশ্ব ক্রীড়া ।

বসন্ত





বুকের নীল -ছাপে ফুলের ফুটে ওঠার কথা এই বসন্তে ,
তাই প্রস্তুত হচ্ছে মাগনলিয়া মন প্রাণ জড়ো করে ।
বড়ো সাদা দৃষ্টি -বিমোহিনী ফুলের মৃদু গন্ধে
                                               একটা হালকা মাদকতা ।
আর যে মেয়েটি কবিতা লেখে তার বুকে হালকা কুয়াশা ,
ভিজে ভিজে উঠছে পাতাগুলো গাছের ।

দিকে দিকে প্রস্তুত হচ্ছে আম জাম লিচুর গাছ গুলি ,
ডালে ডালে নেচে উঠবে লাল কালো সবুজের ফুলঝুরি ।
রবীদ্রনাথ ফুটে উঠবেন দূর -দিগন্তে ফুলের আগুনে ।
তাই প্রস্তুত হচ্ছে মাগনোলিয়া ,
তাই প্রস্তুত হচ্ছে দসেরী ,
তাই প্রস্তুত হচ্ছে মজফ্ফরপুরি ।
যে মেয়েটি কবিতা লেখে
                       সে ফুল হয়ে ফুটে উঠবে ,
ম্যাগ্নলিযার ফুল হয়ে ,ডালে ডালে ,
                       মৃদু গন্ধে একটা হালকা মাদকতা ছড়িয়ে ।

বড়ো হয়ে উঠছে চাঁদ ,ধীরে ধীরে ,
প্রস্তুত হচ্ছে ,সামনে পূর্ণ হয়ে ওঠার যুদ্ধ ।
সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে মহাসমরের বীজ ।
লড়াই করার সত্য কথন ।
বুকের নীল -ছাপে লেখা আছে ফুটে ওঠবার কথা ,
প্রতিটি আমের চরিত্র ,লিচুর মিষ্টতা ,
আর ম্যাগ্নলিয়ার সাদা বড় ফুলের মৃদু গন্ধে
                       মাথায় বসন্ত -ঢুকিয়ে -দেওয়া হালকা মাদকতা ।    

     

পরিত্রান





পরিত্রান পেতে হবে আজ ,
তাই দেহে এই রণসাজ ।
রাস্তা জুড়ে ছড়ানো কুয়াশা।
আলো এলে তবেই তো ভাষা ।

জঙ্গলে জঙ্গলে ফোটে ফুল ,
শাদা ও রঙিন। যার গন্ধে সমাকুল
সমস্ত আবহাওয়া ,বুনো পাতা ।
পৃথিবীতে একমাত্র তুমি পরিত্রাতা ।

ঢাল নেই ,তরোয়াল ছাড়া ,
আমার মতন কিছু মত্ত পথহারা ,
দাঁড়িয়ে রয়েছে স্থির দেহে রণসাজ ,
পরিত্রান পেতে হবে আজ ।

শান্তি কি অরণ্যে খুঁজে পাবে ,
শান্তি কি বনের পশু ,মেরে তবে খাবে ?
আকাশে তারায় সে তো হিম ,
সন্ধ্যা হলে তাকে দেখে রাম ও রহিম ।

মেঘের দঙ্গল এসে আজ ,
আমাকে পরালো রণসাজ ।
অধরা পথের ছবিটিকে ,
মনের কাগজে দিল লিখে ।

পরিত্রান আছে মনে মনে ,
বসে আছে কর্ম -সিংহাসনে ।
শান্তি আসে পরিত্রান এলে ।
সন্ধ্যার সামান্য আগে বিমূর্ত -বিকেলে ।

জীবন পতাকা





চোখের উপরে হাত রেখে দেখতে চেষ্টা করি
                                             দৃষ্টি প্রসারিত করে ,
যদি দেখা যায় কোনো আলো , দূরে কিম্বা কাছের রাস্তায় ।
কিম্বা পশ্চাতের খোলা মাঠে ,আঙুরের বিস্তৃত বাগানে ,
চোখের উপরে রেখে হাত , দেখি ,
রাজপথে মানুষের ঢল জীবনকে বয়ে আনে ।
রোদ্দুরের হলুদ চেতনা দেখি জীবন্ত করেছে ওই বারান্দার কোণ ।
অধিকার বোধ  ছুঁড়ে ফেলে
                               সবকিছু মনে হয় বড়ই আপন ।

ভঙ্গীতে চেনা যায় , কেঁচো না সাপের ছানা , চলে এঁকে বেঁকে ।
মাথার উপরে চুল পেঁপের মতন ওঠে পেকে ।
উদ্ধত মুখের মত শীত এসে ঢোকে উদ্যানে ,
                         ফেলে দেয় সবকটি পাতা বেঁচে -থাকা ।
তুলে নিয়ে যায় অগোচরে
                         ভূমি জুড়ে পড়ে থাকা জীবন -পতাকা ।               

Translation Of Rabindranath's Song : নিবিড় ঘন আঁধারে জ্বলিছে ধ্রুবতারা। ......



Resplendent in the deep darkness
                                     is the steady north star .
O my mind , don't lose trail in the wild welter .
Don't , for heaven's sake , quit efforts
                                               by losing heart.
Prepare for life's success
                   busting the prison of illusion apart.
Keep strength in life , keep alive the hope ,
In this dandy world keep the love alive to cope .
Keep the life going in smile ,
                                 while going remains tough .
Always fill the heart up with his blessing's wonder.
                                             


Saturday, 15 February 2014

Translation Of Rabindranath's Song : তব প্রেম সুধা রসে মেতেছি .......



I wallow in your blessings of love,
                       drowned in my mind , drowned.
Not knowing about others,
I enjoy reveling in your grace exquisite
                       drowned in my mind , drowned .

Saturday, 8 February 2014

চলমান জীবন





আমার আমিকে নিয়ে কোথায় রেখেছি ভালবাসা ,
নারকোল পাতার নিচে রৌদ্র এসে ছায়ায় বসেছে ।
এ কোন বৃষ্টির জল ,হোলেও অঞ্জলি -বদ্ধ ,মেটেনা পিপাসা ,
পথ হেঁটে চলে যায় ,ভেঙে দিয়ে ঘর বাড়ি ,ধন রত্ন বেচে ।

নদির স্রোতের মতো মনের এ অনুভব তরঙ্গিত হয় ,
আলোকিত হয় রৌদ্রে ,অচেনা -লোকের মতো অন্ধকার আসে ।
খটাখট -শব্দে নাড়ে কড়া ,খাটে শুয়ে থাকে অপূর্ব -বিস্ময় ।
ফিরে দিয়ে যায় তাকে  - হৃত -প্রেম ফিরে ভালোবাসে ।

নিমের পাতার মতো বাতাসের স্তব্ধতা নিয়ে হয় আলোচনা ,
নতুন শাখারা  এসে বারবার হাত নাড়ে ব্যক্ত -প্রতিবাদে ।
ছাতের উষ্ণতা নিয়ে গবেষণা করা আজ ছায়ার বাসনা ,
নোংরা -মনের ফাঁদে অসহায় সারমেয় শিশুটি যে কাঁদে ।

আমার এ আমি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সকলে ,
ব্রম্হপুত্রের জলে ভরলুর বিষ মিশে হয়েছে দূষিত ।
সকালের আনন্দের উত্সো থেকে জল পড়ে মনে ,
বালতি-ভরা ভালোবাসা ,সুখ নিয়ে এ জীবন প্রীত ।



অনন্ত বনানী





শীতের পাখির মতো  উড়ে উড়ে  প্রান্তরে প্রাকারে
বটের ছায়ার নিচে বসে আছে সুন্দরী মেয়েদের দল ।
আকাশের তারা যেন ছড়ানো ছিটনো সারে সারে ,
বিস্ময়ে হতবাক হোয়ে যাই দেখে এত পুষ্পিত -কমল ।

কমলার পুজো আজ ,তাই এসে গায়ে লাগে বসন্তের হাওয়া ,
নতুন পাতারা এসে কলকাকলিতে ভরে যুদ্ধক্ষেত্রটিরে ।
এ সমর অস্ত্রে নয় ,খালি হাতে যেতে যেতে শুধু তাকে পাওয়া ।
এ পাওয়া তো পলাশের ,শিমুলের রঙে ভরা নৃত্যের গভীরে ।

এ কোন গানের সুর ,এ কোন ব্যক্তির শ্রমে  বাজে ,
শীতের পাখিরা এসে বারবার ভুল করে দেয় সূত্রখানি ।
পাহাড়ের ঘোরাপথে পুরোনো জীবন আসে নতুনের সাজে ,
গলায় জয়ের মালা ,প্রস্ফুটিত হয় ফুলে অনন্ত বনানী । 

    

অবস্থা গম্ভীর





বহু ছবি আসে চোখের সামনে
                     সব ছবি আমি চাইনা ।
ডান দিকে চাই ,বাঁ দিকে তাকাই
                     যে ছবিটা চাই ,পাই না ।

পেঁপে গাছে দেখি পা ঝুলিয়ে বসে
                            ভয়ানক মৌমাছি ,
বন্দরে গিয়ে দেখেছি জাহাজ
                            বেঁধে রাখবার কাছি ।

গঙ্গার ঘাটে ,সবই ঘোলাটে ,
                            ভোরবেলা কুয়াশায় ,
ম্লান হলো হাসি ,পাঁউরুটি বাসি
                            কুকুরে কামড়ে খায় ।

কবিতার খাতা ,কি লিখিস যা তা ,
                            শিংটি নাড়িয়ে মোষে ,
এলো ধেয়ে ছুটে ,রঙ বিদঘুটে ,
                            ইঁদুরে বেড়াল পোষে ।

বহু ছবি আসে ,সবই ফ্যাকাসে ,
                         আসে না সঠিক ছবিটা ,
কি জানি কি হলো ,কে যে টপকালো ,
                          ভুল হলো বুঝি লবিটা ।

রাজনীতিবিদ ,ভয়ানক জিদ ,
                              মাটিটি কামড়ে স্থির ,
লোভটা পাওয়ার ,অর্থে শাওয়ার ,
                                     অবস্থা গম্ভীর ।             

কাব্য লেখার খাতা




পালিয়ে কোথায় লুকোবো কোনখানে ,
চারপাশে তো গরম হোলো বালি ।
জ্যা -মুক্তিতে বিঁধলে কাকে বাণে ,
আর চেয়োনা ,পকেট আমার খালি ।

কবির পোষাক ভিজলো তো বৃষ্টিতে ,
ছাপিয়ে নদি ডুবলো পায়ের পাতা ।
তাকিয়ে দেখি হঠাত আচম্বিতে ,
উড়ছে আমার কাব্য -লেখার খাতা ।

ছোট্ট ডানা ,ছোট্ট শরীর তার ,
বসলো গিয়ে সামনে বাড়ির ছাতে ।
সঙ্গীতে তার ভাসলো এ সংসার ,
আবিশ্ব মন নৃত্যে সবাই মাতে ।

কবির বুক





কবির বুকে বৃষ্টি -ভরা মেঘ ,
যে মেয়েটি কবিতা লেখে তারও ।
উপচে পড়ে ভালোবাসার বেগ ,
যায় ছাপিয়ে সীমানা আত্মারও ।

লেখার বর্ণে নির্দ্বিধ অমৃত ,
ছিটকে পড়ে ঝর্ণা যেমন ঝরে ।
অক্ষর সব হাসছে দেখো স্মিত ,
মাছের মতো প্রতীক খেলা করে ।

সূর্য ডোবে ছুঁয়ে ঝালুকবাড়ি ,
যায় ছুটে পথ সোজা এয়ারপোর্টএ ।
সন্ধ্যা নাচে নাচছে যেন নারী ,
মধূর খোঁজে গলির অলি জোটে ।

এসব সবই পদ্য লেখার ছলে ,
ফেনিয়ে তোলা কাপড় -কাচা সাবান ।
ময়লা যাবে কাচলে বাহুবলে ,
গান পুরাতন আবার তাকে কে গান ?

নাকের নথে দুলিয়ে প্রেমের তোড়া ,
কে যায় আসে ফটফোটিয়ে চটি ,
এমনিতেই তো আমার কপাল পোড়া ,
আসছে সময় চালিয়ে ভট ভোটি ।     

Sunday, 2 February 2014

Translation Of Rabindranath's song : আজি বুঝি আইল প্রিয়তম। ..........




My love , as though , has turned up today ,
All tried to move towards his feet
                          with dire eagerness in display.
After lapse of so many days 
                     the mind reinvents itself in melody.
Delight in totality emerges in soul carefree .
By calling everybody a brother ,
The world is overwhelmed 
                         by love's pleasantly blinding ray.

তমোনাশে




শব্দের জাদু এসে খুলে দেয় রহস্যের চাবি ,
রহস্যে হারিয়ে যাবো ,যাবি তুই আমার সঙ্গে যাবি ?
দিশাহারা রেলগাড়ি দৌড়ুতে দৌড়ুতে যায় বাড়ি ।
দেখে শুনে মনে হয় বুদ্ধি আছে ,নয় তো আনাড়ি ।

কাজুবাদামের জারে ঢুকে বসে আছে এক পোকা ,
আষাড়-এ গল্প নয় ,স্বপ্ন এসে ভেঙেছে ঝরোকা ।
আলো এসে বাধাহীন ঢুকে পড়ে অনাবিল ঘরে ,
জীবনের ঘ্রাণে ভাসে যুদ্ধক্ষেত্র আজি এ সমরে ।

পেঁয়াজকলির গন্ধে উতলা এ ধরিত্রীর ঘর ,
আমার মাথার কাছে বসে আছে সময়ের জ্বর ।
দেহে তাই আগ্নেয়গিরির মত উষ্ণ অভিলাষ ,
জোরে জোরে পড়ে শ্বাস ,পাবো দেখা আমার বিশ্বাস ।

গ্রীষ্মে শীতের হিম ,শরতে কি বসন্ত এসেছে ?
বারবার মৃত্যু নয় ,একবার মরার জন্যে
                                              বেঁচে থাকা যায় ।
তবু কেন কাক ওড়ে ,অন্ধকার রাত্রির আকাশে ,
হাঁটু গেড়ে বসতে চাই ,তোমার সামনে ,তমোনাশে ।  

গ্লাদিয়েতর





ছিন্ন করে মাতৃক্রোড় থেকে
                            সারমেয়দের একটি শিশু
সামনের বাড়ির ওই গৃহস্থ মহিলা যে কেন এনেছেন ,
আর ,কেনই বা তাকে এনে এ গভীর হাড়কাঁপা শীতে
রেখেছেন ন্যাড়া ছাদে মাতৃস্নেহ হীন ,জিবের কোমল -ছোঁয়া হীন ,
এখনও তা আমার বোধগম্যতার থেকে দূরে ।
কেন যে মানুষ
অযত্ন -লালিত আর পরিবারহীন এই পথে -থাকা সারমেয়গুলি
তুলে এনে বাড়িতে রাখেন - সে কি পশু প্রেম ?
সে কি পাওয়া সস্তার রাতের -প্রহরী  , না কি
শক্তির অযথা গর্ব প্রদর্শন দূর্বলের প্রতি ?
ছিন্ন করে মাতৃ ক্রোড় থেকে
                            সারমেয়দের একটি শিশু ,
দাস হয়ে ,অত্যাচার সয়ে ,প্রলম্বিত করে ইতিহাস  -
সভ্যতার ব্রেকফাস্ট থেকে যে ঘটনা আজও ঘটে
                                                                তাকে মূর্তি দিয়ে ,
পিচবোর্ড -বন্দী হয়ে যুদ্ধ করে মকর -সংক্রান্তির হিম ,ন্যাড়া ছাদে ,
সেই শিশু যে সাহসী ,যে গ্লাদিয়েতর ।

কাক আসে ,শালিখ চড়ুই সব খবরের শষ্য খুঁটে খায় ।
কবুতর দেখে যায় রোজ প্রাতে ,গতর খাটিয়ে ,
সারমেয়দের শিশু বেঁচে আছে কিনা ,
ফেলে - দেওয়া -ভাত খেয়ে ছিন্ন -ভিন্ন খবরের কাগজে ।
তবু এ তো হয় না সংবাদ ,শিরোনাম দূরে থাক ,
টেল -পিস্ হয়ে কোনো এক মাঝের পাতায় ,তাও নয় ।
অজানাই থেকে যায় এই সব বাঁচার লড়াই এই
গ্লাদিয়েতর সারমেয়দের ,এই বীর শিশুটির ,
যে এখন এ সকালে রোদ্দুরের সঙ্গে করে খেলা ,
মশা ও মাছির সঙ্গে কোরে খুনসুঁটি ,
              জয় হোক তোর ,
                                  হে গ্লাদিয়েতর !           
   
  

স্বপ্ন -চিল





স্বপ্নের কাদার মধ্যে গুঁজে মুখ
                  কাকে তুমি পেতে চাও কাছে ?
দুরন্ত -বালির মধ্যে পা ডুবিয়ে
                                সে কি আর আছে ?
টী -শার্টের কালো অন্ধকারে
                           আমি দেখি সে লুকিয়ে ,
স্কাইস্ক্রেপারের  ভিড়ে শিকারী বাজের মত
                                 সে গেছে হারিয়ে ।
কার ঘুড়ি কে উড়াল
                        নীল্ এই বিশাল আকাশে ,
বড় দ্রুত চলে যায় অমনিবাস
                      স্বপ্নগুলো চিল হয়ে ভাসে ।       

জঞ্জাল




জঞ্জালগুলো জমতে জমতে গড়ে উঠছে পাহাড় ,
মনের ভিতর ,কেউ জানেনা এই জমা পাপ কাহার ।
শুধুই ওড়ে প্রজাপতি ,পাখির ডানায় বাতাস
কাটতে কাটতে এগোয় যেন হর্ন -বাজানো বাস ।
বাইরেটা খুব সাজিয়ে রাখছি ,দেখাচ্ছি খুব বাহার ,
জঞ্জালগুলো ফুলতে ফুলতে হচ্ছে মোটা পাহাড় ।

আনছি কিনে রামধনু -রঙ ,সুদৃশ্য কন্টেনার ,
সবকিছুই তো ব্যবসাপাতি ,সবই বেচা কেনার ।
রাতের শশী ,পেনের মসি ,বাজারে গিয়ে কিনি ,
যাই না প্রতিবাদের পথে ,বেটার -হাফকে চিনি ।
পার্কে মশা ,নূনের শসা ,যে বসে বেঞ্চ তাহার ,
জঞ্জালগুলো বাড়তে বাড়তে ফুলে হচ্ছে পাহাড় ।

তোমার মনের প্রেম -পরিধি মাপতে পারি না যে ,
মনে কোরো না ,লেট করেছি  ,আটকে ছিলাম কাজে ।
রাস্তা জুড়ে আজও মিছিল ,সবাই প্রতিবাদী ,
বামপন্থী নেতা সবাই -মদ্দা থেকে মাদী ।
সবার ঘরের দরজা বন্ধ ,বাতাস চলে না যে ,
ভেতরটা খুব কালো হলেও ফর্সা দেখায় সাজে ।

ভরলু একটি মিষ্টি নদী ,জঞ্জালে দম বন্ধ ,
দৃষ্টি তাহার প্লাস্টিকে আর নোংরামিতে অন্ধ ।
কি যে দেখাই ,কাকে দেখাই ,সবাই সবার আহার ,
জঞ্জাল সব জমতে জমতে বড়ো হচ্ছে পাহাড় ।