বারান্দায় পেতে রাখা আরামকেদারার উপর
পা গুটিয়ে বোসে আছে সকালের রৌদ্র কণাগুলি ।
আমগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখছে
টিয়া পাখির ব্যস্ত ঠোঁট ।
ফুটেছে আমের বোল ,গুটি আসতে আছে কিছু দেরি ।
শীত চলে গিয়েছে গ্রীষ্মের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়ে ।
সেই আসা যাওয়ার মাঝখানে ,এতটুকু সময়ের জন্য
বাসন্তিক নাচ ওয়ালি দেখিয়ে যাচ্ছে নাচ ,
রঙিন ঘাগরায় মুড়ে ।
বারান্দায় পেতে রাখা আরাম কেদারায় বসতেই
আমার কোলের উপর লাফিয়ে উঠে পড়ল রোদ ।
অথচ ,শরীরের উপর দিয়ে খেলে গেলো
এক শীতল শিহরণ \
পাশে রাখা ছোট্ট টিপয়টার উপর
চায়ের মাগ -রাখা ট্রেটা রাখতে রাখতে
কাচা -কাপড়ের সুগন্ধ ছড়িয়ে পাশের চেয়ারে
বসলো আমার স্ত্রী ,
আর ফুরুত কোরে উড়ে এসে জুড়ে বসলো
দুটি সুন্দরী চড়ুই
বিস্কুটের লোভে ,গাছের ডালের কাঠ বিড়ালি
ভয় পায় আসতে ,
কিন্তু চোখের আনাগোনা দেখে বোঝা যায়
মনে ভীষণ টান ।
পাশের বিয়ে -বাড়ি থেকে বেজে ওঠেন বিসমিল্লা খাঁ
সানাই -এর সুরে ।
ফুটফুটে মেয়েটির আজ বিয়ে ,দরজার কলাগাছ আর
মাটির ঘট দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতীক্ষা করে
নতুন জীবনের প্রারম্ভিক শুভ মুহুর্তের ,আর
রৌদ্র গিয়ে ওঠে আমগাছের ডালে ।