Monday, 29 June 2015

সুন্দরী আনন্দ এসে চুপিচুপি



সুন্দরী আনন্দ এসে চুপিচুপি দাঁড়িয়েছে আমার এই জানালার পাশে ,                       
ভিন্ন গ্রহের, নাকি তুমি ছিলে এখানে আমার চেনা ও নীল আকাশে ,
দোপাটি ফুলের মত ,শ্রাবণ মেঘের থেকে নেমে -আসা স্খলিত বর্ষার
ও আকুল রূপ তুমি ,আসো চুপিচুপি পায়ে ,এইটুকু বুঝেছি যে সার।

অন্ধকারের কিছু রঙ আছে ,কালোর ভিতরে তুমি ছিলে হয়ে বিন্দু বিন্দু আলো ,
যায় না সহজে দেখা ,খুঁজে দেখলে ভেঙে যায় অনড় আড়ালও।
পর্দার আড়াল ভেঙে যখন সে আসে নেমে অজানা অদেখা এক সহজ বাতাসে ,
ভীষণ সুমিষ্ট এক রোদ্দুরের তীর এসে চুপিচুপি ডেকে নিয়ে  যায় তাকে পাশে।

সহসা চমকে ওঠে ,তাবৎ ফুলের রাজ্য, ভেঙে যায় এত দিন পুষে -রাখা যাবতীয় ভ্রম ,
শুধু এক আলো এসে পোষা -পায়রার মত বসে কার্নিশের পাশে হয়ে ব্যতিক্রম।
ভারতনাট্যম হয়ে আনন্দ তো নেচে ওঠে বাত্সরিক কোনার্ক উত্সবে।
সমুদ্রের নীল ঢেউ বিস্ময়ে পাথর হয়ে ফ্রেমের ভিতরে বদ্ধ হয় অতি ধীরে ও নীরবে।

                               .................................

সুপ্ত অচেতন





পৃথিবী আমার কাছে এসেছে গাছের রূপ ধরে ,
পৃথিবী তো ব্রহ্মপুত্র নদী।
মাটির ধুলোয় মিশে এক হয়ে শুয়ে আছে তাকে কোলে করে ,
সমুদ্র তো আর এক জলধি।

বিশাল বিপুল হয়ে মানুষের দিকে চেয়ে ,নাড়ায় পতাকা ,
জয় পরাজয় নয়  - জীবনের ধারা
চলমানতার এক রূপ ধরে বয়ে যায় ,পায়ে আছে চাকা ,
স্থলের প্রাচীর জুড়ে দিচ্ছে পাহারা।

মানুষের চোখের তারায় আমি দেখি পৃথিবীকে ,
শরীরের শিরায় শিরায় শিহরণ
বয়ে যায় ,আকাশে বিদ্যুত খেলে ,আলো হয়ে যায় দিকে দিকে ,
সজ্ঞা পায় ,যারা ছিলো সুপ্ত অচেতন।

                   ......................

খোলা আকাশের নীচে







খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ালেই বুকের ভেতরে এসে ঢুকে পড়ে
                                                      সুন্দরী আকাশ অনায়াসে ,
নতুন ধানের গন্ধে নেচে ওঠে সুপ্ত শিরা ,গান নাচে আতপ্ত বাতাসে।
বাগানে পাঁচিলে বসে নীরবে অবাক হোয়ে দেখে চেয়ে এইসব
                                                                   ফিঙে শালিখেরা ,
যখন রাস্তার মায়া ব্যক্তিকে ব্যাকুল করে ,তখন মুশকিল হয় ফেরা।

এভাবেই তৈরী হয় জীবনের প্রেক্ষাপটে ,পাউডার সাবানে কাচা
                                                            নির্মল আনন্দ অবিরল।
কতো যে আকাশ আছে -নীল কালো কমলা বাদামী কিম্বা
                                           ইস্পাত -ধূসর -হওয়া বিনিদ্র অতল।
চিন্তাহীন -মেঘে -ঢাকা ,অসজল নির্ভার কিছু মেঘে -ঢাকা
                                                             পারহীন সীমাহীনতাকে।
আমরা তো আকাশ বলি ,তাকে দেখি ,বিস্ময়ে অবাক হোয়ে
                                                          ধরতে চাই দুহাতের ফাঁকে।

কিন্তু তা পারিনা শুধু ,আকাঙ্ক্ষা জ্বালিয়ে রেখে ,প্রদীপ -শিখায়
                                                                    যেন হাহাকারে মরি ,
আলোর পোকার মত ,তুমি কি এসব জানো ,বয়ে -যাওয়া নদী বেয়ে
                                           চলে -যাওয়া এই সব সারি সারি তরী।

                    .............................................


বন্ধু

Monday, 8 June 2015

একদিন একটুখানির জন্য





একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

এখনও আকাশ নীল ,শাদা ও ছেঁড়া মেঘের সঙ্গহীন বিহার ,
বারান্দার টাবে অপরাজিতা ,সেও নীল ,
কি মিল আছে এই ফুলের নীলে আর ওই দূর আকাশের নীলে ,
জানি না ,কেউ কি জানে ,কি এর রহস্য।

একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

এই যে ছোট্ট এক বিন্দু অশ্রু ,একটুখানি হাসি অমলিন ,
মস্তিষ্কের কোন অন্ধকার জগৎ থেকে আসছে ভেসে।
তোমার জন্যে আমার এই যে বিশাল অনুভূতি ,
বেদনায় শক্ত হোয়ে ওঠা চোয়াল ,
সর্বনাশে এই যে সান্ত্বনা বাণী -
কোন উত্সো থেকে অবিরল নেমে আসছে জলধারা ,
আজ পর্যন্ত সঠিক জানা হোলো না পৃথিবীর।
অথচ ছোট্ট একটি জমির মালিকানার জন্য অজস্র রক্তপাত ,
ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই ,স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজন ,
ক্রোধের অবিরল বৃষ্টিপাত ,
আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পথহীন পথে।

একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

             ..............................................

ধ্বস






সারা দিন ,সারা রাত্রিভোর ,
                দুঃখের কঠিন বাহুডোর ,
চেপে বসে মূক চারিপাশে ,
                সুখ শুধু মুখ ঢেকে হাসে।

এ হাসির মানে বোঝা ভার ,
                চারিদিকে নামে অন্ধকার।
এ কেমন কার অভিলাষে ,
                পাহাড়ের গা বেয়ে
                            ধ্বস নেমে আসে। 

                    ..................

Saturday, 6 June 2015

ভালোবাসা





"সতেরো বছর আগেকার লেখা। হঠাত খুঁজে পেলাম
পুরোনো ফাইলের ডাই থেকে। ভালোবাসার তাগিদে
ফেলতে পারলাম না অবহেলার জঞ্জালে। পাঠকের যদি
ভালো নাও লাগে ,মেনে নেবেন ভালোবাসার খাতিরে।"

                ...........................


ভালোবাসা প্রতীক্ষার নাম  -
দুচোখ রাস্তায় রেখে
          ঘড়িতে যখন মধ্যযাম।

যখন ভীষণ ঝড়ে একাকী শিরিষ ,
কাঁপে ভয়ে দিবা অহর্নিশ ,
বুকের ভিতরে ডানা
             মেলে এক মূর্ত হতাশা ,
এরও এক নাম ভালোবাসা।

যখন প্রেমিক তার
প্রেমিকার হাত রাখে হাতে ,
কোনো এক দুর্বিসহ রাতে ,
তখন সময় নাচে নাচ সর্বনাশা ,
এও এক ধরনের ভালোবাসা।

কোলকাতায় ছোট একটি নীড় ,
       আকাশের কাছাকাছি স্থির ,
যার ব্যাখ্যায় মুখে
                   জোগায় না ভাষা ,
প্রকারের ভেদ ,তবু একে
বহু লোকে বলে ভালোবাসা।

বুড়ো আম্বাসাডার এক গাড়ি ,
খুব সুস্থ্য নয় ,তবু
                      চলে তার নাড়ি।
মারুতি সেলোর পাশে ,
বেশি তেলে  দৌড়য় খাসা ,
এরও ডাকনাম ভালোবাসা।

ভালোবাসা প্রতীক্ষার নাম ,
এই সালভাডোর দালি
                       তোমাকে দিলাম।

  ............................