Wednesday, 29 July 2015

এ পৃথিবী সোনা হবে পুড়ে






হত্যার ভিতরে কোনো বীর্য নেই ,বীর্য আছে স্বার্থহীন প্রেমে ,
আনন্দ রয়েছে ঢাকা ,মনের গভীরে সুপ্ত ,
                                           অন্ধকার থেকে এসো নেমে।  
চারিদিকে দেখো চেয়ে ,বিভিন্ন বৃক্ষের পাশে ,
                                           দাতা হোয়ে আছে মালবেরি , 
কালো হোয়ে আছে পেকে ,সুমিষ্ট রসের ভান্ড ,
                                          এসো দ্রুত ,হোয়ে যাবে দেরি।

তুমি তো জানো না প্রিয় ,এ কথা মিলিয়ে নিও ,
                                              আগুন ছড়িয়ে গেছে দ্রুত ,
মাটির গভীরে জন্ম ,উঠে আসে সারি বেঁধে ,
                                                বিনাশের ভিতরে আপ্লুত ,
গুপ্ত হোয়ে আছে জন্ম ,মৃত্যুর ভিতরে আছে
                                       ভালোবাসা জোনাকি -আলোতে ,
গভীর জলের কাছে ,রয়েছে জাহাজ বাঁধা ,
                                           জীবন তো বয়ে যায় স্রোতে।

কতো ফুল ,কতো পাতা ,সুগন্ধে ভরপুর হোয়ে ,
                                                ফুটে ওঠে আমার পৃথিবী ,
তোমার পায়ের কাছে ,লুপ্ত হোয়ে যেতে চায় ,
                                               আমি মন দিতে চাই -নিবি !
বৃষ্টি হবে সারাদিন ,সারা দিনমান ভরে ,
                                               বিদ্যুতের পাখি যাবে উড়ে ,
শূন্যতা তো মেঘে ঢাকা ,নুয়েছে ওকের শাখা ,
                                               এ পৃথিবী সোনা হবে পুড়ে।

              ..................................................
    

Thursday, 23 July 2015

চেয়েছি তোমার চোখখানি






ভোরের আকাশ থেকে রঙ এসে লেগে গেছে আমাদের বোধহীন দেহে। 
সমুদ্রের মত ঢেউ ,ভয়ানক বেগে এসে থাবা গেড়ে বসে ,দেখে চেয়ে ,
অজানা ফুলের মত ,প্রজাপতিদের মত ,এদিক ওদিক নাচে ঘরে ,
তোমার জানলার কাছে ,কাঁচের ভিতর দিয়ে ,মারে উঁকি 
                                                             তাদের নিজের অবসরে। 

তুমি কি দেখেছ তাকে , এই সব ,ভালোবাসাটির কোনো ঝর্ণা আছে নাকি ,
আমার ঘরের কাছে ,পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে নেমে আসা প্রেমে -মত্ত পাখি ,
পাগলের মত নাচে ,মানুষেও প্রেমে নাচে ,ভিতরে ভিতরে তারা মত্ত 
                                                                                    হয়ে যায়। 
ঘাম আসে ,জিবের লালার পাশে লালা এসে জমা হয় অন্ধ পরিখায়। 

এ কেমন পরিখার মাঝে  আমি দ্বীপহীন বসে আছি ,এ কেমন একক প্লাবন ,
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায় ,ভেসে যায় ,এ তো সত্য , এ তো নয় 

                                                                                    অতিরঞ্জন। 
চেতনায় ভোর হয় ,সূর্য ওঠে ,রক্ত কনিকায় তুলে  শিহরণ  ,
                                                          তুমিও আমাকে চাও ,জানি। 
পুরোনো বাড়ির মত , কতোকাল বসে আছি যেন এই বিশাল প্রান্তরে একা ,
                                                                     চেয়েছি তোমার চোখখানি। 

                            .................................................... 

Wednesday, 15 July 2015

আমি যা দেখেছি সবই





আমি যা দেখেছি সবই  , কালের সিন্ধুর পাশে রেখে যেতে হবে ,
আমি যা গড়েছি সবই ধীরে ধীরে যাবে ক্ষয়ে অব্যক্ত নীরবে।
তুমি তো আমার কাছে ক্রাব -আপেলের গাছে বসে -থাকা
                                                               লাল কার্ডিনাল ,
দেরি হয়ে যাবে বলে যে শুধু অপেক্ষা করে ,
                                                 কবে হবে নির্মিত -সকাল।

ভোরের আলোর রূপে , ঘাসের শরীর -জুড়ে শুয়ে থাকা
                                                  এ অজানা নিবিড় জঙ্গল ,
মহানন্দে ওঠে নেচে ,যেন জীবনের মাটি তোমাকে অর্পণ করা
                                                                  মহার্ঘ্য অমল।
রোজকার ওঠা বসা ,ছোট ছোট ডাফোদিল ,ছোট ছোট
                                            ক্লোভারের ফুলে বসা মাছি ,
যেন বা চিত্কার করে বলে ওঠে - ওই দ্যাখো ,মালবেরিটির রূপে
                                            আমি পেকে কালো হয়ে আছি।   

শুধুই তোমাকে খুঁজি ,আকাশের অরণ্যের ভিতরে বাহিরে একা  ,
                                             দূর্ভেদ্য  কালো এক   অন্ধকার ঘরে ,
কিছুই যায় না দেখা ,শুধু মনে -হওয়া থাকে , শুধু থাকে অভিমান
                                                                রাখা থরে থরে।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এ পরিবহন -সেবা ,সবই আছে আমাদের
                                                   জামার গভীর সব কোণে ,
বিষন্ন -খুচরোর মত ,কখনও ঝন ঝন করে , কখনো রবিন হয়ে
                                                               ডেকে ওঠে মনে।

সারারাত ধরে শুধু বৃষ্টিরা অশান্ত হয়ে ঝরে পড়বার খেলা
                                                              খেলে খেলে যায় ,
আমি তো দেখেছি সবই ,চোখের ও ফাঁক দিয়ে ,বয়ে -যাওয়া
                                                                 আনত হাওয়ায়।
তাই শুধু হেঁটে যাই ,থর্ন গেট পার হয়ে , ইস্কুল মাঠের শেষে ,
                                     যেখানে গরম চায়ে উঠে আসে ধোঁয়া ,
অভিমানহীন হয়ে ,পানের পিকের মত , ফেলে দিয়ে সুখ দুঃখ
                                                 তবেই তো যাবে শেষ যাওয়া।  

এইসব কথাগুলি যেন বা নৌকা হয়ে ,যেন বা ফেরির মত ভেসে যায়
                                                                  পোটোম্যাক ধরে ,
আর একটু এগিয়ে যাবো ,চোখের পর্দাখানি সবটুকু জুড়ে থাকবে
                                                   আজকের অলৌকিক ভোরে।
যেখানে বাসনা নেই ,যেখানে নিজের বলে কিছু নেই , শুধু এক
                                                      সৌরভে আনন্দে পথ চলা ,
শুধু শোনা সেই এক ,অসম্ভভ ছন্দ ভরা ,সুর শব্দ যা বলে চলেছে আজো
                                                            যতো কথা যা আছে না -বলা।

                    ...................................................


                                      

Friday, 3 July 2015

হা আকিরা কুরোসাওয়া


















উনিশ শো আটানব্বই সালের এগারোই সেপ্টেম্বর মাসের সংবাদ পত্রে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়ার
প্রয়াণ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই প্রয়াণ সংবাদের প্রেক্ষাপটে নিম্নলিখিত কবিতাটি লিখিত।  অনেকদিন পূর্বের লেখা।
লেখার মধ্যে সংবেদনশীলতাই   সবকিছু ছাপিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পছন্দ অপছন্দ পাঠকের ওপর নির্ভরশীল।




হয়েছে কি শেষ যতো প্রারব্ধ কাজ ,
নীলাকাশ থেকে এ কেমন করে সহসা পড়ল বাজ ?
জাহাজ ছেড়েছে ,শেষ হোয়েছে কি ,আমাদের সব পাওয়া ,
হাত নেড়ে তিনি মিলিয়ে গেলেন
                                           হা ! আকিরা কুরোসাওয়া।

সাত সামুরাই ,রশোমন সহ কত ফিল্ম ,কত ছবি ,
চলচ্চিত্রে এই শতকের তিনি নামকরা কবি।
কবিরা সতত মিশে যান ভিড়ে ,চলে যান তাড়াতাড়ি।
শিক্ষক তিনি ,মহা গুরুজন  - অশেষ যন্ত্রনারই।
ফলন এসেছে তাঁরই হাল দেওয়া জীবনের বাঁজা মাঠে -
তিনি যান ওই যন্ত্র জাহাজে  - কালসিন্ধুর ঘাটে।


ঘন কুয়াশায় ওই দেখা যায় ,বেঁটে খাটো তাঁর দেহ ,
এখনই মিলাবে দৃষ্টি -অতীত  - পড়ে আছে তাঁর স্নেহ ,
সেলুলয়েডের মহা রসায়নে , ক্যামেরার ভাস্কর্য ,
তাঁর ছোঁয়া যেন স্বর্ণের ছোঁয়া ,আবিশ্ব আশ্চর্য।


মনে হয় তবু ,হয়নি বোধহয় আমাদের সব পাওয়া
হাত নেড়ে তিনি চলে যান ধীরে ,
                                           হা ! আকিরা কুরোসাওয়া।

        ...................................