Thursday, 1 October 2015

স্তব্ধতার ভিড়ে






এখানে শব্দ নেই ,ভাষা নেই ,
                       বৃক্ষের শরীরে আছে ভাষা।
ভয়ংকর স্তব্ধতাকে ,পাতা ও শাখারা ডাকে ,
ইঙ্গিতে ,অশ্রুত শব্দে জানায় নতুন কোনো আশা। 

দেহের ভঙ্গিতে তার ভেসে ওঠে শব্দরূপ ,
                              ভেসে ওঠে দূরাগত ডাক ,
আমার মনের কাছে উন্মত্ত সমুদ্র যেন , 
এ ধ্বনি আকাশে উড়ে ,করে দেয় আমাকে অবাক। 

ঘাসে শুয়ে থাকা সব মৃত পাতাদের ভিড়ে 
                                  তার পদশব্দ শোনা যায় ,
গাভীর -মমতা নিয়ে ,যেন চাঁটে জিব দিয়ে ,
                               ভালোবাসা লাগে এসে গায়।  

এই সব ভালোবাসা ,এই সব অজানা পিপাসা ,
                                   ঢুকে যায় আমার গভীরে ,
যেখানে চঞ্চল নেই ,যেখানে অতল শুধু ,
                                  মিশে যায় স্তব্ধতার ভিড়ে। 

             .............................................

উত্সব





এখানে গাছের কাছে ,গাছ এসে কাঁধে রাখে হাত ,
গোলাপী রঙের শিশু কোলে নিয়ে কেটে গেলো রাত।
এসেছে রোদ্দুর তার পুরোনো বিকেল নিয়ে আমাদের বাড়ি ,
আইবুড়ো থাকা গেছে বহুদিন , এখন সে ঘোর সংসারী।

এখন সে খোঁজে নিম ,কলমী ,ঢেঁকি ,লাল শাগ ,পুঁই  -
বারান্দায় বসে বলে - সংসারে বড় খাটনি ,এখন একটু শুই।
কিছুক্ষণ থাকে শুয়ে ,তারপর ,ঠান্ডা হোলে ,উঠে পড়ে দ্রুত ,
পেয়ারা গাছের ডালে ,যখন সন্ধ্যার পাখি ডেকে ওঠে , সুর অশ্রুত।

সন্ধ্যা এসে গভীর মাঠের থেকে ডেকে নিয়ে আসে রাত্রিকে ,
তারপরে ,খুব ভোরে চলে যায় ,আকাশটা হোয়ে গেলে ফিকে।
দিগন্তের আসে পাশে যখন আলোর শিশু করে সব খেলা ,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রঙ ,তখনই তো শুরু হয় উত্সব -আমাদের মেলা।

              ............................................................


Thursday, 10 September 2015

আজকে আমি অন্য





কালকে আমি অন্য ছিলাম,আজকে আমি অন্য ,
আকাশ ফেটে বৃষ্টি পড়ছে , সে তো তোমার জন্য।
একটি ছোট পথ পেয়েছি ,সেই পথে যাই হেঁটে ,
কোথায় যেন যাবার ছিলো ,হাওয়ায় সাঁতার কেটে।

এই পথে ফুল ফুটবে, নাকি এ পথ ভরা কাঁটায় ,
যে নদীতে স্রোত ছিলো বেশ ,এখন সেটা ভাঁটায়।
ভুল পথে রোজ ভেলকি দেখায় ,গঙ্গারামের ব্যাটা  ,
সেই ম্যাজিকে কেউ ভোলেনি ,পিঠে পড়েছে ঝ্যাঁটা।

পাল্টে যাচ্ছে চতুর্দিকটা ,বন জঙ্গল রাস্তা ,
কি খাবে আজ ডিনারে ভাই -নুডলস নাকি পাস্তা ?
বাড়ছে বয়েস ,চারদিকে বেশ ,হাতল ধরে ঝুলছি ,
তোমার ভাষা হাওয়ায় ঠেসা ,বেকার খেয়ে ফুলছি।

কালকে আমি অন্য ছিলাম ,আজকে আমি অন্য ,
পাল্টালে মুখ হয় অচেনা ,হয় না অগ্রগণ্য।
এসব দেখেই কাটছে সময় ,তাস পাশা আর কোথা ,
ফেসবুকে মুখ লুকিয়ে রাখি ,আর নেই অন্যথা।

একটু একটু বুঝছি  ,নাকি ,লাটে উঠেছে সেসব ,
অনেক যুগের পরে হঠাত ফোন করলো কেশব।
ভালোই আছে বিদেশ -বিভুঁই ,লিকারে মুখ ধুয়ে ,
বসে বসেও ক্লান্তি আসে ,তাই পড়েছি শুয়ে।

শুয়ে শুয়েও বেশ হাঁটা যায় , মনের পাকা রাস্তায় ,
হাঁটতে পায়ে ফুটছে কাঁটা ,ছাগল নাকি সব খায়।
সব খেয়ে সে ভালোই আছে -  মাংস হয়ে পাতে ,
ভালো -থাকা যে কেমন -থাকা ,যায় না বোঝা তাতে।

মৃত্যু সে তো শুরুর শেষই , এদিক থেকে ওদিক ,
ভাবলে শান্তি ,না ভাবলে নয় ,ভুল বোঝে বেরসিক।
দরজা খুলে রোদ্দুরে যাই , সে তো তোমারই জন্য ,
বললে এসব , হৈ চৈ  রব , আবহাওয়া হয় বন্য।

              ...................................


বিপ্লব





হেমন্তের বাতাসে বিপ্লব উড়ছে লাল ঘুড়ির মত।
লম্বা লেজের ভারে ,আর বাতাসের অসঙ্গ -লিপ্সায় ,
জিহ্বা -লেহনে সে ব্যতিব্যস্ত -তবু উড়ছে ,লাল ঘুড়ি।

বৃষ্টির জল কুকুরের মত চেঁটে নিয়েছে রাস্তার ধূলো ,
হেঁটে যাবার পথ -নিকোনো উঠোনের মত ,রাস্তা তাই
ঝক ঝকে ,তক তকে। আর সারি সারি শুয়ে রয়েছে
অজস্র সবুজ ,আধা -সবুজ ,আর হলুদ -হয়ে -যাওয়া পাতা ,
আর এই আত্মীয় -সমাগমের সাক্ষী হবার জন্য
গুটিসুটি মেরে এসে দাঁড়িয়েছে একটি
ছেঁড়া খোড়া -সূর্যের -সবুজ আলো।

হেমন্তের বাতাসে বিপ্লব উড়ছে লাল ঘুড়ির মত ,
যৌন -মুখর ঘামের পাশে ,রোজকার বাজারের সঙ্গে
আলু পটল আর পুঁটি -মাছের ভিড়ে
বিপ্লবকে বড় দরকার ,শ্রাবণের বৃষ্টির মত ,
পূর্ণিমার জ্যোত্স্নার মত ,বিপ্লবকে সঙ্গে চাই ,
চায়ের খুড়িতে ,সিগারেটের ধোঁয়ায় ,
সূর্যমুখী -ছোঁয়া লাল বাতাসের অস্পষ্টতায়
দেখা -হওয়ার -মত এক সুগন্ধী -ভালোলাগায়।

      .......................................

Thursday, 6 August 2015

মনে সে কি আহ্লাদ






বছর কাটিয়ে নতুন বছরে রেখেছি আমার পা ,
আর একটু বুড়ো হয়েছি কি আমি তাই ?
বিগত গ্রীষ্মে ,গরমে ও ঘামে ,জ্বলে গিয়েছিলো গা ,
মনে হয়েছিলো শীতের ঠান্ডা ঠিক যেন পাগলামি। 

বেশিদিন নয় ,একটু পিছনে ,এমন সময়ও ছিলো ,
জীবনটা ছিলো কাঁচা -বোমফাটা উত্তেজনায় ভরা। 
আজকে যখন হাঁটুর কাছটা ব্যাথা ব্যাথা করছিলো ,
বুঝতে পেরেছি ,অতীতটা ছিলো কি রম্য মনোহরা। 

হামেশা যেতাম লাগিয়ে আতর ,বিবাহের উত্সবে ,
ফুটবল ম্যাচে হতাম ব্যস্ত ,দুপুরে নিমন্ত্রণে। 
এখনও তো যাই ,মরনোত্তর সভার আর্তরবে ,
কাঁচু মাচু মুখে ,মৃত -আত্মার শান্তি কামনা মনে। 

কিছুদিন আগে উদ্দাম ছিলো গেট টুগেদার গুলো ,
জমায়েত্গুলো সবগুলো ছিলো বড় শৃঙ্খলাহীন। 
মনের ভিতরে দাঁত বের কোরে হাঁসত কেবল হুলো ,
বুকের ভিতরে বসন্ত হতো ফুলের রঙে রঙিন। 

এখন তো ব্যাথা ,কোমরে ,কাঁধে  ও পিঠে ,
হাঁফ ধরে যায় চার তলা ফ্লাটে হাঁটতে হাঁটতে সিঁড়ি। 
শুধু মনে হয় বসে থাকি একা  - বিশ্রাম কি যে মিঠে !
দূরে পায়রার ঢলা ঢলিগুলো মনে হয় বিচ্ছিরি। 

বসে আছি একা সব ছেড়ে ছুড়ে ,জল  ও ওষুধ  কাছে ,
দূরে শোনা যায় বাসের শব্দ ,টিভি পর্দার গান ,
চাই না তো আমি বুড়ো হোতে ,তাই বুড়ো হোয়ে যাই পাছে ,
তাই ভেবে মনে , হই কচি কাচা ,কবিতায় দিই প্রাণ। 

কবিতা কি দেবে তোমার আবেশ ,তোমার মুখচ্ছবি ,
কবিতা কি দেবে ফেলে -আসা -রোদে ,বাদাম ভাঙার স্বাদ ?
মনে মনে হাঁটি ,দ্রুত আপ্লুত , লক্ষ লক্ষ কবি ,
আমার বুকের মাঠে দাঁড়িয়েছে ,মনে সে কি   আহ্লাদ।  

                  ...................................

নিজেকে ছাড়িয়ে যতো যাই দূরে





নিজেকে ছাড়িয়ে যতো যাই দূরে কাছে আসো তুমি ,
শিশুর কান্নার শব্দে ,মা যেমন বাজায় ঝুম ঝুমি। 
হাওয়া তো গভীর হোলো ,ভেসে আসে ও নদীর হিম ,
তোমার সীমার রূপে দেখি রূপ আসলে অসীম। 

ছাড়িয়ে ও ভিড় রাস্তা ,যতো হাঁটি রাস্তা হয় খালি ,
নদী বয়ে নিয়ে আসে ,বিভিন্ন প্রাদেশিক বালি। 
মন থেকে ঝরে পড়ে ,ছোট ছোট তুচ্ছতার ফল ,
জঞ্জাল পেরিয়ে রাস্তা ,যেখানে হৃদয় উঁচু ,সেখানে অমল। 

যখনই নিজের কাছে ,নিজের মনের কাছে ,বসেছি জাঁকিয়ে ,
তুমি গেছো দূরে চলে ,ওপাড়ার রাস্তা কিম্বা 
                                            দূরের বনের পথ দিয়ে। 
অবেলার কালো দীঘি,,বড় বড় মাছ -পরিবার খেলে 
                                                      ঘাই মারে জলে ,
আমি তো তলিয়ে যাই ,নিজেই নিজের মধ্যে ,
                                          অন্ধকার মনের অতলে। 

নিজেকে ছাড়িয়ে যতো যাই দূরে ,কাছে আসো তুমি ,
মিথ্যা দিয়ে ঢাকা সত্য ,অধর্মের কালো মেঘ 
                                                    ঢাকে মর্ত্যভূমি। 
সবুজ পাতার রূপে ,তোমার ও রূপ খেলে সীমাহীনতায় ,
আমাকে বহন কোরে তুমিই কি নিয়ে যাবে প্রত্যন্তসীমায় ?

                     .................................... 
















Wednesday, 29 July 2015

এ পৃথিবী সোনা হবে পুড়ে






হত্যার ভিতরে কোনো বীর্য নেই ,বীর্য আছে স্বার্থহীন প্রেমে ,
আনন্দ রয়েছে ঢাকা ,মনের গভীরে সুপ্ত ,
                                           অন্ধকার থেকে এসো নেমে।  
চারিদিকে দেখো চেয়ে ,বিভিন্ন বৃক্ষের পাশে ,
                                           দাতা হোয়ে আছে মালবেরি , 
কালো হোয়ে আছে পেকে ,সুমিষ্ট রসের ভান্ড ,
                                          এসো দ্রুত ,হোয়ে যাবে দেরি।

তুমি তো জানো না প্রিয় ,এ কথা মিলিয়ে নিও ,
                                              আগুন ছড়িয়ে গেছে দ্রুত ,
মাটির গভীরে জন্ম ,উঠে আসে সারি বেঁধে ,
                                                বিনাশের ভিতরে আপ্লুত ,
গুপ্ত হোয়ে আছে জন্ম ,মৃত্যুর ভিতরে আছে
                                       ভালোবাসা জোনাকি -আলোতে ,
গভীর জলের কাছে ,রয়েছে জাহাজ বাঁধা ,
                                           জীবন তো বয়ে যায় স্রোতে।

কতো ফুল ,কতো পাতা ,সুগন্ধে ভরপুর হোয়ে ,
                                                ফুটে ওঠে আমার পৃথিবী ,
তোমার পায়ের কাছে ,লুপ্ত হোয়ে যেতে চায় ,
                                               আমি মন দিতে চাই -নিবি !
বৃষ্টি হবে সারাদিন ,সারা দিনমান ভরে ,
                                               বিদ্যুতের পাখি যাবে উড়ে ,
শূন্যতা তো মেঘে ঢাকা ,নুয়েছে ওকের শাখা ,
                                               এ পৃথিবী সোনা হবে পুড়ে।

              ..................................................
    

Thursday, 23 July 2015

চেয়েছি তোমার চোখখানি






ভোরের আকাশ থেকে রঙ এসে লেগে গেছে আমাদের বোধহীন দেহে। 
সমুদ্রের মত ঢেউ ,ভয়ানক বেগে এসে থাবা গেড়ে বসে ,দেখে চেয়ে ,
অজানা ফুলের মত ,প্রজাপতিদের মত ,এদিক ওদিক নাচে ঘরে ,
তোমার জানলার কাছে ,কাঁচের ভিতর দিয়ে ,মারে উঁকি 
                                                             তাদের নিজের অবসরে। 

তুমি কি দেখেছ তাকে , এই সব ,ভালোবাসাটির কোনো ঝর্ণা আছে নাকি ,
আমার ঘরের কাছে ,পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে নেমে আসা প্রেমে -মত্ত পাখি ,
পাগলের মত নাচে ,মানুষেও প্রেমে নাচে ,ভিতরে ভিতরে তারা মত্ত 
                                                                                    হয়ে যায়। 
ঘাম আসে ,জিবের লালার পাশে লালা এসে জমা হয় অন্ধ পরিখায়। 

এ কেমন পরিখার মাঝে  আমি দ্বীপহীন বসে আছি ,এ কেমন একক প্লাবন ,
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায় ,ভেসে যায় ,এ তো সত্য , এ তো নয় 

                                                                                    অতিরঞ্জন। 
চেতনায় ভোর হয় ,সূর্য ওঠে ,রক্ত কনিকায় তুলে  শিহরণ  ,
                                                          তুমিও আমাকে চাও ,জানি। 
পুরোনো বাড়ির মত , কতোকাল বসে আছি যেন এই বিশাল প্রান্তরে একা ,
                                                                     চেয়েছি তোমার চোখখানি। 

                            .................................................... 

Wednesday, 15 July 2015

আমি যা দেখেছি সবই





আমি যা দেখেছি সবই  , কালের সিন্ধুর পাশে রেখে যেতে হবে ,
আমি যা গড়েছি সবই ধীরে ধীরে যাবে ক্ষয়ে অব্যক্ত নীরবে।
তুমি তো আমার কাছে ক্রাব -আপেলের গাছে বসে -থাকা
                                                               লাল কার্ডিনাল ,
দেরি হয়ে যাবে বলে যে শুধু অপেক্ষা করে ,
                                                 কবে হবে নির্মিত -সকাল।

ভোরের আলোর রূপে , ঘাসের শরীর -জুড়ে শুয়ে থাকা
                                                  এ অজানা নিবিড় জঙ্গল ,
মহানন্দে ওঠে নেচে ,যেন জীবনের মাটি তোমাকে অর্পণ করা
                                                                  মহার্ঘ্য অমল।
রোজকার ওঠা বসা ,ছোট ছোট ডাফোদিল ,ছোট ছোট
                                            ক্লোভারের ফুলে বসা মাছি ,
যেন বা চিত্কার করে বলে ওঠে - ওই দ্যাখো ,মালবেরিটির রূপে
                                            আমি পেকে কালো হয়ে আছি।   

শুধুই তোমাকে খুঁজি ,আকাশের অরণ্যের ভিতরে বাহিরে একা  ,
                                             দূর্ভেদ্য  কালো এক   অন্ধকার ঘরে ,
কিছুই যায় না দেখা ,শুধু মনে -হওয়া থাকে , শুধু থাকে অভিমান
                                                                রাখা থরে থরে।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এ পরিবহন -সেবা ,সবই আছে আমাদের
                                                   জামার গভীর সব কোণে ,
বিষন্ন -খুচরোর মত ,কখনও ঝন ঝন করে , কখনো রবিন হয়ে
                                                               ডেকে ওঠে মনে।

সারারাত ধরে শুধু বৃষ্টিরা অশান্ত হয়ে ঝরে পড়বার খেলা
                                                              খেলে খেলে যায় ,
আমি তো দেখেছি সবই ,চোখের ও ফাঁক দিয়ে ,বয়ে -যাওয়া
                                                                 আনত হাওয়ায়।
তাই শুধু হেঁটে যাই ,থর্ন গেট পার হয়ে , ইস্কুল মাঠের শেষে ,
                                     যেখানে গরম চায়ে উঠে আসে ধোঁয়া ,
অভিমানহীন হয়ে ,পানের পিকের মত , ফেলে দিয়ে সুখ দুঃখ
                                                 তবেই তো যাবে শেষ যাওয়া।  

এইসব কথাগুলি যেন বা নৌকা হয়ে ,যেন বা ফেরির মত ভেসে যায়
                                                                  পোটোম্যাক ধরে ,
আর একটু এগিয়ে যাবো ,চোখের পর্দাখানি সবটুকু জুড়ে থাকবে
                                                   আজকের অলৌকিক ভোরে।
যেখানে বাসনা নেই ,যেখানে নিজের বলে কিছু নেই , শুধু এক
                                                      সৌরভে আনন্দে পথ চলা ,
শুধু শোনা সেই এক ,অসম্ভভ ছন্দ ভরা ,সুর শব্দ যা বলে চলেছে আজো
                                                            যতো কথা যা আছে না -বলা।

                    ...................................................


                                      

Friday, 3 July 2015

হা আকিরা কুরোসাওয়া


















উনিশ শো আটানব্বই সালের এগারোই সেপ্টেম্বর মাসের সংবাদ পত্রে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়ার
প্রয়াণ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই প্রয়াণ সংবাদের প্রেক্ষাপটে নিম্নলিখিত কবিতাটি লিখিত।  অনেকদিন পূর্বের লেখা।
লেখার মধ্যে সংবেদনশীলতাই   সবকিছু ছাপিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পছন্দ অপছন্দ পাঠকের ওপর নির্ভরশীল।




হয়েছে কি শেষ যতো প্রারব্ধ কাজ ,
নীলাকাশ থেকে এ কেমন করে সহসা পড়ল বাজ ?
জাহাজ ছেড়েছে ,শেষ হোয়েছে কি ,আমাদের সব পাওয়া ,
হাত নেড়ে তিনি মিলিয়ে গেলেন
                                           হা ! আকিরা কুরোসাওয়া।

সাত সামুরাই ,রশোমন সহ কত ফিল্ম ,কত ছবি ,
চলচ্চিত্রে এই শতকের তিনি নামকরা কবি।
কবিরা সতত মিশে যান ভিড়ে ,চলে যান তাড়াতাড়ি।
শিক্ষক তিনি ,মহা গুরুজন  - অশেষ যন্ত্রনারই।
ফলন এসেছে তাঁরই হাল দেওয়া জীবনের বাঁজা মাঠে -
তিনি যান ওই যন্ত্র জাহাজে  - কালসিন্ধুর ঘাটে।


ঘন কুয়াশায় ওই দেখা যায় ,বেঁটে খাটো তাঁর দেহ ,
এখনই মিলাবে দৃষ্টি -অতীত  - পড়ে আছে তাঁর স্নেহ ,
সেলুলয়েডের মহা রসায়নে , ক্যামেরার ভাস্কর্য ,
তাঁর ছোঁয়া যেন স্বর্ণের ছোঁয়া ,আবিশ্ব আশ্চর্য।


মনে হয় তবু ,হয়নি বোধহয় আমাদের সব পাওয়া
হাত নেড়ে তিনি চলে যান ধীরে ,
                                           হা ! আকিরা কুরোসাওয়া।

        ...................................


























Monday, 29 June 2015

সুন্দরী আনন্দ এসে চুপিচুপি



সুন্দরী আনন্দ এসে চুপিচুপি দাঁড়িয়েছে আমার এই জানালার পাশে ,                       
ভিন্ন গ্রহের, নাকি তুমি ছিলে এখানে আমার চেনা ও নীল আকাশে ,
দোপাটি ফুলের মত ,শ্রাবণ মেঘের থেকে নেমে -আসা স্খলিত বর্ষার
ও আকুল রূপ তুমি ,আসো চুপিচুপি পায়ে ,এইটুকু বুঝেছি যে সার।

অন্ধকারের কিছু রঙ আছে ,কালোর ভিতরে তুমি ছিলে হয়ে বিন্দু বিন্দু আলো ,
যায় না সহজে দেখা ,খুঁজে দেখলে ভেঙে যায় অনড় আড়ালও।
পর্দার আড়াল ভেঙে যখন সে আসে নেমে অজানা অদেখা এক সহজ বাতাসে ,
ভীষণ সুমিষ্ট এক রোদ্দুরের তীর এসে চুপিচুপি ডেকে নিয়ে  যায় তাকে পাশে।

সহসা চমকে ওঠে ,তাবৎ ফুলের রাজ্য, ভেঙে যায় এত দিন পুষে -রাখা যাবতীয় ভ্রম ,
শুধু এক আলো এসে পোষা -পায়রার মত বসে কার্নিশের পাশে হয়ে ব্যতিক্রম।
ভারতনাট্যম হয়ে আনন্দ তো নেচে ওঠে বাত্সরিক কোনার্ক উত্সবে।
সমুদ্রের নীল ঢেউ বিস্ময়ে পাথর হয়ে ফ্রেমের ভিতরে বদ্ধ হয় অতি ধীরে ও নীরবে।

                               .................................

সুপ্ত অচেতন





পৃথিবী আমার কাছে এসেছে গাছের রূপ ধরে ,
পৃথিবী তো ব্রহ্মপুত্র নদী।
মাটির ধুলোয় মিশে এক হয়ে শুয়ে আছে তাকে কোলে করে ,
সমুদ্র তো আর এক জলধি।

বিশাল বিপুল হয়ে মানুষের দিকে চেয়ে ,নাড়ায় পতাকা ,
জয় পরাজয় নয়  - জীবনের ধারা
চলমানতার এক রূপ ধরে বয়ে যায় ,পায়ে আছে চাকা ,
স্থলের প্রাচীর জুড়ে দিচ্ছে পাহারা।

মানুষের চোখের তারায় আমি দেখি পৃথিবীকে ,
শরীরের শিরায় শিরায় শিহরণ
বয়ে যায় ,আকাশে বিদ্যুত খেলে ,আলো হয়ে যায় দিকে দিকে ,
সজ্ঞা পায় ,যারা ছিলো সুপ্ত অচেতন।

                   ......................

খোলা আকাশের নীচে







খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ালেই বুকের ভেতরে এসে ঢুকে পড়ে
                                                      সুন্দরী আকাশ অনায়াসে ,
নতুন ধানের গন্ধে নেচে ওঠে সুপ্ত শিরা ,গান নাচে আতপ্ত বাতাসে।
বাগানে পাঁচিলে বসে নীরবে অবাক হোয়ে দেখে চেয়ে এইসব
                                                                   ফিঙে শালিখেরা ,
যখন রাস্তার মায়া ব্যক্তিকে ব্যাকুল করে ,তখন মুশকিল হয় ফেরা।

এভাবেই তৈরী হয় জীবনের প্রেক্ষাপটে ,পাউডার সাবানে কাচা
                                                            নির্মল আনন্দ অবিরল।
কতো যে আকাশ আছে -নীল কালো কমলা বাদামী কিম্বা
                                           ইস্পাত -ধূসর -হওয়া বিনিদ্র অতল।
চিন্তাহীন -মেঘে -ঢাকা ,অসজল নির্ভার কিছু মেঘে -ঢাকা
                                                             পারহীন সীমাহীনতাকে।
আমরা তো আকাশ বলি ,তাকে দেখি ,বিস্ময়ে অবাক হোয়ে
                                                          ধরতে চাই দুহাতের ফাঁকে।

কিন্তু তা পারিনা শুধু ,আকাঙ্ক্ষা জ্বালিয়ে রেখে ,প্রদীপ -শিখায়
                                                                    যেন হাহাকারে মরি ,
আলোর পোকার মত ,তুমি কি এসব জানো ,বয়ে -যাওয়া নদী বেয়ে
                                           চলে -যাওয়া এই সব সারি সারি তরী।

                    .............................................


বন্ধু

Monday, 8 June 2015

একদিন একটুখানির জন্য





একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

এখনও আকাশ নীল ,শাদা ও ছেঁড়া মেঘের সঙ্গহীন বিহার ,
বারান্দার টাবে অপরাজিতা ,সেও নীল ,
কি মিল আছে এই ফুলের নীলে আর ওই দূর আকাশের নীলে ,
জানি না ,কেউ কি জানে ,কি এর রহস্য।

একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

এই যে ছোট্ট এক বিন্দু অশ্রু ,একটুখানি হাসি অমলিন ,
মস্তিষ্কের কোন অন্ধকার জগৎ থেকে আসছে ভেসে।
তোমার জন্যে আমার এই যে বিশাল অনুভূতি ,
বেদনায় শক্ত হোয়ে ওঠা চোয়াল ,
সর্বনাশে এই যে সান্ত্বনা বাণী -
কোন উত্সো থেকে অবিরল নেমে আসছে জলধারা ,
আজ পর্যন্ত সঠিক জানা হোলো না পৃথিবীর।
অথচ ছোট্ট একটি জমির মালিকানার জন্য অজস্র রক্তপাত ,
ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই ,স্বজনের বিরুদ্ধে স্বজন ,
ক্রোধের অবিরল বৃষ্টিপাত ,
আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পথহীন পথে।

একদিন একটুখানির জন্য ,আমার সামনে বসো ,
তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে অনেক ,বিভিন্ন বিষয়ে।

             ..............................................

ধ্বস






সারা দিন ,সারা রাত্রিভোর ,
                দুঃখের কঠিন বাহুডোর ,
চেপে বসে মূক চারিপাশে ,
                সুখ শুধু মুখ ঢেকে হাসে।

এ হাসির মানে বোঝা ভার ,
                চারিদিকে নামে অন্ধকার।
এ কেমন কার অভিলাষে ,
                পাহাড়ের গা বেয়ে
                            ধ্বস নেমে আসে। 

                    ..................

Saturday, 6 June 2015

ভালোবাসা





"সতেরো বছর আগেকার লেখা। হঠাত খুঁজে পেলাম
পুরোনো ফাইলের ডাই থেকে। ভালোবাসার তাগিদে
ফেলতে পারলাম না অবহেলার জঞ্জালে। পাঠকের যদি
ভালো নাও লাগে ,মেনে নেবেন ভালোবাসার খাতিরে।"

                ...........................


ভালোবাসা প্রতীক্ষার নাম  -
দুচোখ রাস্তায় রেখে
          ঘড়িতে যখন মধ্যযাম।

যখন ভীষণ ঝড়ে একাকী শিরিষ ,
কাঁপে ভয়ে দিবা অহর্নিশ ,
বুকের ভিতরে ডানা
             মেলে এক মূর্ত হতাশা ,
এরও এক নাম ভালোবাসা।

যখন প্রেমিক তার
প্রেমিকার হাত রাখে হাতে ,
কোনো এক দুর্বিসহ রাতে ,
তখন সময় নাচে নাচ সর্বনাশা ,
এও এক ধরনের ভালোবাসা।

কোলকাতায় ছোট একটি নীড় ,
       আকাশের কাছাকাছি স্থির ,
যার ব্যাখ্যায় মুখে
                   জোগায় না ভাষা ,
প্রকারের ভেদ ,তবু একে
বহু লোকে বলে ভালোবাসা।

বুড়ো আম্বাসাডার এক গাড়ি ,
খুব সুস্থ্য নয় ,তবু
                      চলে তার নাড়ি।
মারুতি সেলোর পাশে ,
বেশি তেলে  দৌড়য় খাসা ,
এরও ডাকনাম ভালোবাসা।

ভালোবাসা প্রতীক্ষার নাম ,
এই সালভাডোর দালি
                       তোমাকে দিলাম।

  ............................     

                

Sunday, 31 May 2015

আকাশ বড়ই কাঁদছে






আকাশ বড়ই কাঁদছে  -
যেখানে যারা দুঃখ কোপায় 
                    আশায় বুক বাঁধছে। 
ফোড়ন দিয়ে কে যেন আজ রাঁধছে। 

চোখের জলের নেই তুলনা  ,
কাঁটায় কাঁটায় উলের বোনা 
                     কে যে কাকে সাধছে  ?
কার কাঁধে মুখ  , আকাশ বড়ই কাঁধছে। 

নদীর জলে নৌকার ভিড়  ,
এগিয়ে যাবার দৌড়ে অধীর ,
                     কে কার জাল ফাঁধছে ?
চোখ ফুলিয়ে আকাশ বড়ই কাঁদছে। 

কে যেন আজ চড়েছে মন -জাহাজ  ,
চুল - ফাঁপানো   মনতাজে আজ কি কাজ ?
                         যুদ্ধের ঝাঁজ বাজছে ,
মন খুলে আজ আকাশ বড়ই কাঁদছে। 

          ...................................

Saturday, 30 May 2015

সব খেলা হোলো শেষ





খেলা নেই  ,তবু কেন খেলার আসরে এসে বসি বারবার  ,
সব খেলা হোলো শেষ  , এবার দুয়ার খোলো , নেমে যাক ভার। 
গুলঞ্চ গাছের ফুলে এ কেমন রূপ এসে বারবার আমাকে ভোলায় ,
মাটির উপরে ছাপ , হেঁটে যায় ইতিহাস  , সব কিছু পিছে ফেলে যায়। 

অজানিত বোধ এসে  , আমার নিমগ্ন কেশে মাছির মতোন থাকে বোসে  ,
এ কেমন অনুভূতি  , আমার দেহের পাশে  , মন ভরে জীবনের রসে। 
পথের উপরে কাল  , পড়েছিল ফুল সব  , পড়েছিল আত্মমগ্ন দেহ ,
চারিদিকে জীবনের শিরাগুলি বহে যায় , ছড়ায় অমর্ত্যজ স্নেহ। 

খেলা শেষ হোলো তবু  , মন কেন ছুটে যেতে চায় বারেবার ,
খেলার আসরে  , সব খেলার পিছনে  খেলা  , খোলে খিল বন্ধ দরজার। 
দুয়ার পেরিয়ে চলো পথে পথে  , দুপাশে গাছের সারি হাসে ,
হাওয়ারা জড়িয়ে ধরে  , ফুলের গন্ধ আসে  , কাছে এসে বড় ভালোবাসে। 

                         .................................................
 

Creation - happiness






The night is washed away by rain ,
In the game of color , the black is mixed
                                   with white's illusive refrain .
The storm arrives rumbling it's way
                                                   into the dark recess ,
While the silence reigns the hollow of life
                               making explicit the voice's face .

Dominates the refrain of the voice in air
                                 piercing the magic of storm .
It's magic indeed , which persuades the soul
                                 to destroy the shadow's form .
It sways the crown like a mad pachyderm ,
Nobody blames you while the immaculate storks'
                               taking to wings meant no harm .

They flip wings to cross the river , the pale of the land .
They are free to obey the self -dictate
                                           wearing no prisoner's band .
They confront the sun and view the landscape of the moon .
They emerge as winners deserving the award - the boon .

The night is washed away by rain ,
The surrounding silence is disturbed
                                             by the downpour's refrain .
The dark -hole is washed by the flash of light
                                                       that deluges the sky ,
Do you conjure up apocalypse
               as a sign of creation-happiness that stands by .

                   ...............................................

সৃষ্টিসুখের বিমুক্ত শ্বাস





এ কেমন রাত্রি এসে বর্ষা ধারায় হারিয়ে গেল ,
এ কেমন রঙের খেলায় শাদা কালোয় গুলিয়ে ফেলো।
শব্দ কোরে এসেছে ঝড় ,গভীর অন্ধকারের ভিতর ,
নীরব শুধু বুকের গুহায় ,হাওয়ায় ওড়ে সুতীব্র স্বর।

এ স্বর ঘোরে ,হাওয়ায় ওড়ে ,মন -মাতানো ঝড়ের মায়া ,
মায়াই বটে ,ধ্বংস করায় মনোমোহিনী নিজের ছায়া।
দোলায় মাথা ,হাত পা ছোঁড়ে ,পাগল -হাওয়া যেমন হাতি ,
তোমায় কি কেউ দোষ দিয়েছে ,আকাশ জুড়ে বকের পাতি ,

ভাসতে ভাসতে পেরোয় নদী ,পেরোয় দেশের শেষ সীমানা ,
তারা স্বাধীন ,নিজের অধীন ,পথে তাদের নেই যে মানা।
শুন্যে তারা সূর্য দেখে ,একই সঙ্গে চাঁদের পাহাড় ,
দাও পরিয়ে গলায় তাদের  , গজমোতির সুন্দরী হার।

এ কেমন রাত্রি এসে বর্ষা ধারায় গুলিয়েছে সব ,
স্তব্ধ চতুর্দিকে শুধুই উপচে-পড়া বৃষ্টির রব।
মাঝে মাঝেই চমকে ওঠে ,আকাশ জোড়া আলোর আভাষ ,
এই ভাবে কি ডাকো প্রলয় ,সৃষ্টি -সুখের বিমুক্ত -শ্বাস।

                .....................................


Translation
.....................




Wednesday, 6 May 2015

জল পড়ে চোখের নিভৃতে





বৃষ্টির গন্ধ মেখে বসে আছে এ পৃথিবী  , আনন্দ দুঃখের জলে ভিজে  ,
পথ চলে গেছে সোজা  , অন্ধকার ভেদ কোরে  , হেঁটে হেঁটে চলে যাই নিজে ,
নিজের স্বপ্ন খানি হাতে করে  , অনুভূতি গুলি সব গুঁজে রেখে পকেটের খাপে  ,
আমার পৃথিবী আজও উদাস নয়ন মেলে , সিঁড়িটির সর্বশেষ ধাপে 

সোজা উঠে যায় ধীরে  , এক পা এক পা করে  , রেলিঙের কাঠে রেখে হাত  ,
যেখানে পাখিরা আছে , ছাদের কার্নিশ আছে , কাটা ঘুড়িটির মত 
                                                                ঝুলে আছে সকাল বা রাত। 
আকাশের নীলে কোনো চাঁদ নেই , চাঁদ গেছে অন্য পৃথিবীতে আলো দিতে ,
স্বপ্নের ভিত নেই  , সামান্য ঝড়ে ভাঙে , জল পড়ে চোখের নিভৃতে। 

                    .............................................................


Tuesday, 5 May 2015

শেষ মধ্যযাম






এ রতে বাতাস ঘোরে ,অন্ধকারে বৃষ্টি পড়ে মাঠে  ,
এখন বিশ্রামে আছে  , দোয়েল চড়াই ফিঙে ,কর্মকান্ড তুলে দিয়ে পাটে। 
অকাল বৃষ্টির সাধ জলে দেবে ধুয়ে এই ময়লা পৃথিবীকে  ,
কে জানে কোথায় যাবে  , ফললাভে  , কার ভাগ্যে ছেঁড়ে কোন শিকে। 

আমি তো ব্যবসায়ী নই  , তবু মুখে অর্থনীতি  , ব্যবসায়ী -কথা  ,
সবাই ব্যবসায়ে মগ্ন  , জানে অলি গলি ঠেক  , জানে ভাষা , বিভিন্ন প্রথা। 
এ রাতে সবাই ব্যস্ত  - কোথায় কি যায় পাওয়া  , কোন শিশিরের কত দাম ,
এ সময়ে কারা ফোটে  , কোন ফুল , চাঁপা না রঙ্গন বেল  - শেষ মধ্যযাম। 

তুমি কি ছড়াবে মায়া  , চোখের ইঙ্গিতে ছায়া  , পেয়ারা গাছের ডালে ফল ,
চারিদিকে নেই কিছু ,সহসা মেঘের দল ছুটে এসে ছড়ালো শীতল কিছু জল। 
এ জলে জীবন আছে  , মাটির গভীরে আছে যেমন পেট্রোল ,আছে ইউরেনিউম ,
আর কিছু নয়  , এই বেঁচে থাকবার লোভ সবুজ পাতায় মোড়া লাল ও হলুদ -রঙা আম। 

                      .........................................................

Monday, 4 May 2015

তুমি সন্ধ্যা , তুমি রাত্রি






তুমি সন্ধ্যা ,তুমি রাত্রি ,আকাশ  - উঠোনে তুমি চাঁদ পূর্ণিমার ,
তুমি শিশু ,তুমি ধাত্রী ,তুমি সেই উত্সরূপ  - আলোখানি যার। 
আমের বাগানে তুমি মধূ হোয়ে পড় ঝরে ,ফুটে ওঠে গুটি ,
পায়ের তলার মাটি ধীরে ধীরে যায় সরে , বিম্বিত হয় যতো ত্রুটি। 

এই ত্রুটিগুলি সব বড় হয় , পাহাড়ের মতো হোয়ে ঢাকে উজ্জ্বলতা ,
কত যে জীবন আছে , ফুল হোয়ে আছে ফুটে , আছে হোয়ে কথা ,
কথার ভিতরে কথা  , প্রজাপতিটির পায়ে শুরু হয় গর্ভ  - সঞ্চার। 
জীবন তো যাবে কেটে ,সময় যেমন কাটে , বাড়ে শুধু ধার। 

যার কাছে হোলো ধার ,তার নামে অঙ্গীকার , তিনি মহাজন ,
তার তো অসংখ্য গদি  , তার তো অসংখ্য নদী  , তিনি সর্ব কোণ।
ক্ষয়ে  - যাওয়া পাঁচিলের ইঁটের -গুঁড়র মতো রূপ তার পড়ে ঝরে ঝরে ,
তুমি  সন্ধ্যা ,তুমি রাত্রি  , তুমি শিশু  , তুমি  ধাত্রী , আমার  ভিতরে। 

                             ................................


অমর প্রতিমা





তবু তো হুল্লোড় হয় ,দরজা ভাঙে ,জানলা খুলে যায়  ,
ঘাসে ঘাসে জেগে থাকে শিহরণ  , এতে তার রয়েছে যে সায়। 
কাঁঠাল গাছের ওই মোটা পাতাটির কাছে এসেছে খবর ,
কালো কালো অন্ধকার কেটে গিয়ে দরজা খোলে ভোর। 

মনের কপালে শুধু টিপ হোয়ে জেগে আছে  , নেই কোনো নদী  ,
জানলা খুলে দেখা যায়  , প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে সীমানা অবধি ,
সেই সুর সেই রঙ ,সেই সব ভালো -লাগা -মুহুর্তের অনবদ্য ছবি ,
সময়ের শব্দ নেই  , তবু যেন আমগাছ শোনে শব্দ  - রক্ত করবী 

চিত্কার কোরে ফোটে ,হুল্লোড় কোরে ওঠে  , জানলা খুলে যায়  ,
ধানের ক্ষেতের পাশে  , নৃত্যপরা হাওয়া এসে ,করবীর আসঙ্গে হারায়। 
নদী বটগাছ মাঠ ,ইস্কুল মাঠের পিছে ,প্রিয় সব আমগাছ গুলি ,
একসঙ্গে ওঠে জেগে  , যেন বা ঝড়ের বেগে  , ফুটে ওঠে বুলি  ,

স্পষ্ট করে বলে তারা ,জীবন তো দিশাহারা  - এ কি সত্য নয় !
চারিদিকে ওঠে ঝড় ,ভুলে যাও আত্মপর , নেই কোনো ক্ষয়। 
প্রেমের বিজয় হয়  , ব্যাট থেকে বল ছোটে ,পার করে সাধ্যের সীমা। 
সমস্ত প্রান্তর জুড়ে  , শুধু জেগে থাকে তার মুখখানি  - অমর প্রতিমা। 

                     ............................................

Saturday, 2 May 2015

আহ্লাদী






একা চাঁদ বসে আছে ব্যাঁকা হোয়ে আকাশের ফ্রেমে  -
ইচ্ছেটি বড়ই তার ,পূজো আসছে ,মর্ত্যে আসে নেমে।
সাতদিন ধরে নাকি কলকাতায় নৃত্য গীতে হবে আরাধনা ,
মা দূর্গা শক্তির মূর্তি ,সেটা একবার দেখে ,এ তার বাসনা।

ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে ,হাওয়ায় কেমন যেন শীত শীত ভাব ,
শিশিরের দল এসে ঘাসের উপরে রাখে জলের কিংখাব।
এবারে কি আবহাওয়ায় অক্টোবারে এসে যাবে শীত  -
এ সব ভাবতে ভাবতে চোখে তার নামে ঘুম ,হয়ে পড়ে চিত।

একা চাঁদ একা একা ,আকাশের জানালায় ভাবে এইসব ,
মর্ত্যের শহরে এই আশ্বিনের কাশফুলে পুজোর উত্সব।
সেই যেন কবে এলো আর্মস্ট্রং নামে এক মার্কিন মহাকাশচারী ,
শুধু একটু ছুঁয়ে দিয়ে ,ফিরে গেলো পৃথিবীতে - শূন্য -বিহারী।

তারপর সব ধূ ধূ  - বড় বড় লোকে বলে বড় বড় কথা ,
চাঁদ তার সবই বোঝে  - খবর ব্যবসার এই সব বাতুলতা।
তারপর থেকে শূন্যে একা একা বসে থাকে ভ্রমনের শেষে।
আর ভাবে কবে যাবে ,পূজো দেখবে আনন্দের বেশে।

চাঁদ বসে আছে একা ,দূরে ওই শূন্যের ঘোর অন্ধকারে ,
জোনাকির মত সব আলোর ফোয়ারা জ্বলে তার চারিধারে।
পূজোর সময় তার নেমে আসা হয় না যে ,সাধ থাকে সাধই  -
শুধু তার প্রতিনিধি হয়ে ঘোরে ,পূজো দেখতে ,চাঁদমুখী যত আহ্লাদী।

                    .........................................





Thursday, 30 April 2015

এ জীবন নদী নালা





এ জীবন নদী নালা ,এ জীবন দারুময় হোক ,
বিস্মিত চোখের ভিড়ে বৃষ্টি হয় ,আনন্দের মধ্যে থাকে শোক। 
বিভিন্ন আলোর কাছে , বিভিন্ন সময়ে গিয়ে জানিয়েছি প্রেম ,
পথ হোয়ে পথের ভেতরে হাঁটি ,গতিতে বিদ্যুত আছে ,কোথায় এলেম ?

বিছিয়ে রয়েছে পথে শুকনো ধূলো বিস্মৃতির ,পরম আদরে 
আমি তাকে ঝাঁট দিয়ে করি পরিষ্কার ওই আলো -ওঠা ভোরে। 
তুমি কি স্বপ্নে থাকো ,বৃষ্টির বিন্দুর মধ্যে হোয়ে থাকো জল ,
মন দাও এনে সাম্যে ,মোমের বাতির মতো 
                                       মন যেন হয় নাকো অযথা চঞ্চল। 

                     .......................................

প্রতিটি মুহূর্তে জন্ম , প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু






তুমি কি স্বপ্নের মতো বসে আছ আমার এই ঘুমে  ,
যখন চেতনা এসে অব চেতনতায় মেশে শূন্যে অনুভূমে 
বিস্মৃতির শেষে ,তুমি কি বাড়াবে হাত ভোরে ,আমি তাকে ছোব ,
স্মৃতিতে তোমার আমি ডুবে যেতে যেতে হই সুস্বাদু দ্রব। 

পাতার ভেতরে জল ,সঘন সবুজ রঙে ভিড় কোরে আছে ক্লোরোফিল ,
এখনও পাহাড় হোয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মন ,আজও সৃষ্টিশীল। 
কোথায় মাটির ঘুমে পথ কেটে অন্ধকারে আলো দেখে কেঁচো ,
প্রতিটি মুহূর্তে জন্ম ,প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু  - নভনীল হোয়ে তুমি বেঁচো। 

                     ..........................................

মুক্ত করো দ্বার





এ এক নতুন ভোর , দরজা খোলা  , এ কোনো নতুন সূর্য নাকি ,
বাড়িয়ে দিয়েছে হাত  , ও  করমর্দন কোরে যাবো নাকি সকলি একাকী ?
নাকি পড়ে থাকবো পথে  , ভোরের ফুলের মত সুগন্ধ বিলিয়ে  ,
তারপর যাবো চলে  , সর্বশেষ কথা বলে  , এই শেষ গর্বটুকু নিয়ে ?

এ তো কোনো গর্ব নয়  , এ তো পথ  , পথেরই তো শ্রম ,
এই -ই সর্বশেষ সত্য  , যা কিছু রয়েছে বাকি ,সব ভ্রান্ত ,সব কিছু ভ্রম। 
এ এক নতুন আলো , গায়ে মেখে নিয়ে তাকে ,আবার নতুন পথ চলা ,
অনেক না বলা কথা জমে আছে , পাথরের মত ,তাই শুরু হোক সব কথা বলা। 

আমাকে আহ্বান করে নিয়ে যাবে কোথায় নতুন দেশে ও কোমল ভোরের বাতাস ,
ভোরের পাখিরা এসে  ,ফুলের মতোন হেসে  , দিয়ে গেলো নতুন সুবাস। 
তুমি তো দাঁড়িয়ে আছ  , মুখের হাসিটি নিয়ে , আলোটির মত হোয়ে সম্মুখে আমার ,
চলো ,হাত ধরো সখা  , চলো সে গোপন পথে  , মুক্ত করো দ্বার  .

                         .....................................................

Sunday, 26 April 2015

আমার এ পৃথিবীর






এখনও গানের মত ,প্রজাপতিটির মত ,অনুভূতি এসে বসে বাগানের কোণে ,
কোথায় বাগান আছে  ,জানে শুধু প্রজাপতি  , জানে সে নরম মনে মনে ,
যখন সে উড়ে যায় ,একটি বাগান থেকে অন্য এক অনবদ্য ফুলের বাগানে ,
পাতাটির ভালোবাসা ,গাছের গন্ধ তাকে ,বুকের ভিতরে টেনে আনে। 

কত শত নিদ্রাহীন রাত কেটে ,মনের ভিতরে হেঁটে ,হোয়ে গেছে ভোর ,
ভোরের সুগন্ধ এসে ,পাখির কাকলি এসে ,দিয়েছে জড়িয়ে গায়ে গরম চাদর। 
আরামের ওম হোয়ে ,কতো না সকালবেলা ,বসেছে সে সকালের চায়ে ,
ধূমায়িত বন্দনায় এমন তরল গন্ধে তোমার স্বাদের হাত দিয়েছে বাড়ায়ে। 

আমার এ পৃথিবীর সমস্ত রন্ধ্র কোণ ,ধীরে ধীরে হোয়ে যায় আলো দিয়ে মাখা ,
দূরে আকাশের গায় নীরব আলোর শব্দে ,দেখি ওড়ে তোমার পতাকা। 
বিছানা বালিশ খাট ,বাগানের ঘাস মাঠ ,পাঁচিলের অণু পরমাণু ,
তোমার ছবিতে ভরা ,সব কিছু মিনে -করা ,ধীরে ধীরে মাটি ছোয় জাণু। 

                            .......................................... 

Saturday, 25 April 2015

বর্ষার মতন আজ স্মৃতিগুলি





বর্ষার মতন আজ স্মৃতিগুলি ঝরে পড়ছে ,রাস্তায় রাস্তায় মাঠে ঘাটে ,
তোমার জানালার কাছে থেমে আছে রৌদ্রগুলি ,আমার সকাল সন্ধ্যা কাটে 
হেঁটে হেঁটে পার হোয়ে সহস্র সহস্র নদী ,সমতল ভূমি আর বৃক্ষের সারি ,
দরজা খুলে দেখি বৃত্তে সরলরেখারা চলে ,সে অনন্ত দেশে দিতে পাড়ি। 

তুমি তো ঝরনার মত ,তুমি তো মেঘের মত ,দিতে পারো না চাইতে জল ,
কিম্বা দুধের মত শাদা এ জীবনখানি ,শাদা মেঘ নীলাকাশে ,
                                                        ঝরে পড়ে অহরহ অমৃত -তরল।
ডানা মেলে উড়ে যায় পাখিগুলি ,দূরে   ওই , যেখানে সীমার কাছে 
                                                                 আলো এসে দেখিয়েছে মুখ। 
আমারও তো আছে মন ,সেখানে অনেকক্ষণ বসে থাকি 
                                        যদি পাওয়া যায় দেখা 
                                                        আনারস -হলুদের মতোন উত্সুক 

কোনো ছবি ,কোনো এক পুরানো পাথরখন্ড ,
                                     যেখানে অতীত আছে দৃষ্টি মেলে গোপনীয়তায়।
সে সব আমাকে দাও ,হাত তো বাড়াও সখা ,
                                                   ওই দেখো ,সারি বেঁধে অনুভূতি যায়। 

                               .....................................  

আমি রুদ্ধশ্বাস





সমস্ত বিনিদ্র - রাত্রি এপাশ ওপাশ করি ,চিন্তা হোয়ে আছ জেগে প্রাণে  ,
বোতলে জলের মতো শীতল নিবিড় হোয়ে ভেসে তুমি এসেছো উজানে।
গাঙের ইলিশ হোয়ে মাছের বাজারে তুমি উত্তপ্ত কোরে রাখো হাওয়া  ,
ধনীর গোলাম হোয়ে বাঁধা পড়ে আছ তাই , তোমাকে আমার কাছে পাওয়া

হবে না কখনও কিম্বা কোনোদিন , ভাবি আমি নদীও কি জলের অধীন ?
নিদ্রিত হবার আগে সমস্ত মনপ্রাণ জুড়ে চিন্তা নাচে রাত্রি দিন ,
হাওয়ার উত্তাপে আসে কতো মায়া  , রঙিন পোষাকে আসে চোখের বিলাপে ,
হাতের ইঙ্গিতে ডাকে , আমি রুদ্ধশ্বাস হোয়ে বসে থাকি ,সমস্ত শরীর খানি কাঁপে।

                                 ......................................

Sunday, 19 April 2015

পৃথিবীটা রান্নাঘর





পৃথিবীটা রান্নাঘর , বেড়ালের আনাগোনা চলে ,
সন্ধ্যা যখন গিয়ে সারাটা দুনিয়া ঘুরে
                  সবাইকে সুন্দরী রাত্রির কথা বলে।
চাঁদ পড়ে যায় ঢলে ,ওপারের স্কায়স্ক্রাপারের মোটা কাঁধের উপরে।
রসুনের গন্ধ এলে ,মাংস কষার গন্ধ বৃষ্টির মত পড়ে ঝরে।

মুরগীরা এলোমেলো ,আড়ামোড়া ভেঙে ওঠে দোয়েলের ডাকে ,
সূর্যটা  উঠে এলো ,যখন জানলা খুলে আলো এসে ঢোকে ঝাঁকে  ঝাঁকে।
স্বপ্ন দেখার দিন হলো শেষ ,এখন শুধুই কাজ পরিষ্কার করা ,
পায়রার ঝাঁক ওড়ে ,চোখ ঢাকে তারা যারা ধরাটাকে ভেবেছিলো সরা।

পৃথিবীটা রান্নাঘর  - বাঘের গলায় শুনি বেড়ালের ডাক।
বাগান তো ফুলে ভরা ,ফুলের ও রূপ দেখে আমি তো অবাক।
চিরসখা বলে ডেকে ফাঁকা আওয়াজের জোরে যাবে তা কি পাওয়া ?
হৃদয় তো কালো হোয়ে অন্ধকার হোয়ে আছে
                                                          যেন পোড়া দৃষ্টিহীন তাওয়া।

                       ..........................................

দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক





দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক ,
আসে হাওয়া ,আসে আলো ,পরিচিত মুখ। 
যাবো ভাবলেই যায় যাওয়া ,
হঠাত কুড়িয়ে পাওয়া এক চিলতে রোদ্দুরের সুখ। 
দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক। 

আকাশে ওডায় ঘুড়ি  - ছেলেটা তো কাঁচা। 
জানেনা সঠিক কোরে  - কারে কয় বাঁচা। 
কতদূর যাওয়া যায় , অন্ধকারে পানের বরোজে ,
কখন কে খোলে চোখ ,কখনই বা বোঁজে ,
দেখেনি কে রান্নাঘর ,কে যে ভালো কুক ?
দরজাটা ভেঙে গেছে , ভাঙাই  থাকুক। 

ঝরে যায় শিউলিগুলো ,জুলজুলে দেখে হুলো ,
স্বপ্ন দেখে মাদা ,
চারিদিকে এ কেমন চটচটে কাদা। 
স্বপ্ন দেখতে  হয়  ভয় ,কাঁপতে থাকে বুক ,
দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক। 

ওই দেখো ভেসে যাচ্ছে নদী দিয়ে জল ,
চারিদিকে কাঁপছে পা ,বুকটা টলোমল। 
রোদ্দুর তো চায় না কেউ ,
ডেকে আনে ঘোরালো অসুখ ,
হাত পেতে চায় টাকা ,গাড়ল ,উজবুক। 
দরজাটা ভেঙে গেছে ভাঙাই থাকুক। 

        ...............................

Saturday, 11 April 2015

ভুলে যেও হারানোর শোক





এ যেন পাখির মত ঘর ভেঙে চলে যাওয়া  , অন্য কোনো গৃহে সঙ্গোপনে ,
এ যেন অনন্ত তৃষ্ণা  , স্বপ্ন দেখা গভীর ঘুমের মধ্যে অবচেতনার কোণে কোণে। 
আমার এ অণু প্রাণ ,এ তো হতে চায় গান  , ছন্দের আকাশে ,
কোথায় কখন কবে ,পুচ্ছধারী পাখি হবে ,এ বাসনা পুঞ্জ মেঘের মত ভাসে। 


কেটে গেছে অন্ধকার , অগ্নি পরিশুদ্ধতার এ এক পবিত্র পরিধান ,
আমার শরীর জুড়ে ,এ অণুপ্রাণের সুরে ,এ কেমন আলোর সন্ধান। 
এ কথা কি জানো না কি ,আমার ভিতরে পাখি ,খুঁজে ফেরে হারানো পালক ,
খুব ভোরে যাই আসি ,আলো অন্ধকারে ভাসি ,ভুলে যেও হারানোর শোক। 


                        .................................................. 

আমার অনুজ ভাতৃবধু ,ভগিনীসম ,পিকুর অকস্মাৎ প্র্য়ানত্তর স্মরণে :- যেমন ছিলাম চিরদিন

অন্ধকার মেঘের পিছনে থাকে আলো , থাকে রোদের উজ্জ্বল ভালোবাসা  ,
ঝড় থেমে গেলে আজও উত্তাল সমুদ্র থেকে উঠে আসে প্রবিশুদ্ধ ভাষা।
অনন্ত শান্তির বায়ু ঝাউবন ভেদ করে উড়ে আসে কাছে অবশেষে  ,
আমি চাই আসি ফিরে  , সুস্থির স্বপ্নের মত পাখি হোয়ে তোমার ও মন ভালোবেসে।

পাখির মনের মত  , স্বাধীনতা চাই আমি , চাই আমি জীবনের সুশীতল ব্রহ্মপুত্র নদী ,
আকাশে ভাসাবো ডানা  , ভেদ করে যা অজানা , যাবো উড়ে অনন্ত অবধি  ।
একি শান্তি দেখি আমি  , চারিদিকে সব স্থির  , শুধু আলো অন্ধকারহীন  ,
তোমার মনের ওই খোলা জানালায় আছি , পাখির ও রূপ ধরে ,যেমন ছিলাম চিরদিন।

                                 ......................................................


Saturday, 21 March 2015

দীপাদির স্মরণে : তোমাকে ছুঁয়েছে মৃত্যু





তোমাকে ছুঁয়েছে মৃত্যু  , আগুনের শিখা  , তাই  তুমি তো অমর ,
নদীর ওপারে তুমি হেঁটে হেঁটে চলে যাও ,অন্ধকার কেটে গিয়ে ভোর
চাদরের ওম ছেড়ে মারে উঁকি  , জড়ায় তোমাকে হাওয়া আদরালিঙ্গনে।
তোমাকে ছুঁয়েছে মৃত্যু  , আগুনের শিখা , তুমি নতুন বিজনে

একা একা মহাকাশে ,বিভিন্ন প্রকার শক্তি এসে হবে বান্ধব তোমার ,
তুমি মুক্তি চাও বলে ,পথ খুলে যায় সামনে কেটে অন্ধকার।
যেমন ক্ষুদ্র বিন্দু মিশে যায় বৃহৎ বিশাল সব বিন্দু সমাহারে।
সেই সমাহার পাবে অনন্ত শুন্যতা জুড়ে ,কাকে ছেড়ে কাকে নেবে পাড়ে ?

ভেসে যেতে যেতে পথে পাবে সব অন্ধকারে  - সৃষ্টিময় আলো ,
অনন্ত নদীর পাশে বসে বসে ,অমর্ত্য ছায়াকে দেখে হৃদয় জুড়ালো ?
তুমি তো বিন্দু- সম  ,অথচ হৃদয় আছে ,শুধু নেই দুঃখ বেদনার বাহুডোর ,
তোমাকে ছুঁয়েছে মৃত্যু ,আগুনের শিখা ,তাই তুমি তো অমর।

                          ...............................





Wednesday, 4 March 2015

আমি তার ,একমাত্র তার






অচেনা বিলোল গন্ধে চেয়ে দেখি , নিকটের মাঠখানি ভরে আছে ফুলে ,
এ কেমন ফুল হয়ে দাঁড়ালে আমার সামনে ,সদ্য -স্নান -শেষ -হওয়া চুলে। 
অসম্ভব নোংরা রাস্তা ,পচা গন্ধ ,নর্দমার থেকে তোলা পিচ -রঙা কাদা ,
অন্ধকারে ছেয়ে থাকা চারিদিক হয়ে যায় ম্যাগ্নলিয়ার মতো অমলিন শাদা। 

তুমি তো চন্দন হও , জঙ্গলের রাজা হয়ে বসে থাকো বয়োবৃদ্ধ শাল ,
তুমি তো রঙেরও রাজা - কমলা ,বেগুনী ,নীল ,হলুদ ,সবুজ আর লাল। 
আকাশের নীল ছিঁড়ে ছুটে চলে যায় ওই পাখির  - শিকারী -হওয়া বাজ ,
গভীর সিন্ধুর বুকে দুলে দুলে ভেসে যায় , শঙ্খচিল  -অনুসৃত হৃদয়ের বিদগ্ধ -জাহাজ। 

যে ঘ্রাণ উঠেছে আজ রাস্তা ঘাটে অন্ধ হয়ে বসে -থাকা বন্দরের জলে ,
ও বাড়ির বারান্দায় রঙিন  - শাড়ির মত ঝুলে থাকো তুমি এক রূপ ঝলমলে। 
রাত্রি গভীর হয় ,রাত্রি গভীর হলে জীবন্ত হয়ে ওঠে একা হয়ে শুয়ে থাকা দূরের পাহাড়। 
আমার সমস্ত সত্বা , অস্থি ,রোম ,বেঁচে -থাকা চিতকার করে বলে আমি তার ,একমাত্র তার।     

Monday, 26 January 2015

তোমাকে দেখব বলে






তোমাকে দেখব বলে ,বারান্দার উপকূলে ,এখনও তো গিয়ে বসে থাকি ,
বনাঞ্চলের পথে ,অজানা ফুলের সাথে হয়ে গেছি মধুপেয়ী পাখি।
মাথা তো বরফে ঢাকা ,শরীর মমতা মাখা ,আজও তো বিস্ময় বারোমাস ,
তোমাকে দেখব বলে ,পাহাড়ের পদতলে ,আমার এই ফুটন্ত উচ্বাস।

তুমি কি জেনেছ এই ,আমার মনের কথা ,পড়ে এ আকুল এস এম এস ,
মনের শুন্যতা তুমি ,পূর্ণ করে দাও ভূমি ,ফুলে ভরে গেছে সারাদেশ।
নির্জনে নির্জনে ভরা তোমাতে পূর্ণ ধরা ,পরিধানে তোমারই আবেশ ,
উড়েছে বসন্তের হাওয়া ,সদানন্দে হোক যাওয়া ,উড়ুক হাওয়ায় শুভ্র কেশ।

আমাকে কি দেবে দেখা ,কেঁপেছে মনের পাখা , শেষ হলে বেড়ানোর দিন ,
পুষেছি বড়ই আশা ,দেবে কি এ ভালোবাসা ,যা বোঝো তা করো সমীচিন।
এ প্রকৃতি ডাকে আয় ,তোমাকে কি ভোলা যায় , আতা গাছে বোসে তোতাপাখি ,
তোমাকে দেখব বলে ,বারান্দার উপকূলে ,এখনও তো গিয়ে বসে থাকি।

                       ..................................