Saturday, 27 December 2014

জাগরণ






স্বপ্নেরও ছাত আছে ,
                 সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে হাঁসিমুখ নারী ,
দুপুরের রোদ এসে
                 যখন তা ওঠে হেঁসে -মেলে দেয় শাড়ি।

সেগুন যখন রোদে দগ্ধ হোয়ে
                জড়িয়ে ধরতে চায় বাতাসের দেহ  -
আমি তা দেখেছি ,শুধু এ ঘটনা
                           চোখ খুলে দেখে না তো কেহ।

সেগুন ,আমি ও নারী  -
           থাকে না তো কেউই এই নিদ্রা ভেঙে গেলে ,
যেমন থাকে না কিছু
          যখন সময় এসে সব কিছু দেয় ঠেলে ফেলে

গভীর সাগর জলে ,
           যখন অনন্ত শুধু জন্ম দেয় গভীর জীবন ,
চারিদিকে অন্তহীন ,অতল এ অন্ধকারে
                                  গড়ে নিয়ে সব জাগরণ।



Friday, 26 December 2014

চেনা পৃথিবীটা





চেনা পৃথিবীটা পালটে যাচ্ছে দ্রুত ,
যে সুরে বাজতো সে তো আজ অশ্রুত।
ভেঙে যায় গৃহ ,পুরানো সে বৃক্ষটি ,
হাঁটতে লাগছে ,ছেঁড়া ব্যবহৃত চটি।

বন্ধুর মন ভেঙে আরও বন্ধুর ,
কচি -হাতে আজ গলায় -চালানো ক্ষুর।
সূর্যটি ঢাকা ,কার্বন -ভরা মেঘে ,
তবু তো পৃথিবী ছুটছে তেমনই বেগে।

ক্ষয় -রোগ এসে ধরেছে যে তার বুক ,
শান্তির ঘরে বসে আছে উজবুক।
অদম্য -কাশি আনে শোনিতের স্রোত ,
ঢেউ-এর দোলায় দোলে অর্ণব -পোত্।

স্বর্গ তো নয় ,পাতালের গহ্বরে
টেনে নিয়ে যায় ,সূর্য -না -ওঠা ভোরে।
লেগে যায় কাদা শরীরে গভীরে দেহে ,
চেনা লোক এসে ডেকে বলে তুমি কে হে ?

চেনা তো যায় না চেনা এই পৃথিবীকে ,
সবুজ পাতারা শবাধারে দিকে দিকে।
বহে যায় নদী -জলে প্লাস্টিক -চেনা ,
এ অধোপতন সাধুজন মানবে না।

        ..................... 

Saturday, 20 December 2014

হে ঈশ্বর










পাকিস্তানের পেশওয়ার-এ আর্মি পাবলিক স্কুলে , তালিবান নামক অমানুষদের মস্তিস্ক -বিকৃতি জনিত 
তান্ডবে একশ বত্রিশ জন শিশু ও আট জন শিক্ষক অশিক্ষক কর্মচারীর প্রয়াণে নিবেদিত :- 


রূপকথার বই থেকে " রাক্ষস  "শব্দটি হঠাত জীবন্ত হয়ে উঠলো আর
বোধশক্তিহীন হয়ে হাতের ধারালো নখরে ছিন্ন ভিন্ন করে দিল সারি সারি
লাল ফুটন্ত গোলাপ ,তীব্র প্রতিশোধ স্পৃহায়। আর অসহায়
শান্তিপ্রিয় মানুষের মনের বারান্দায় জ্বলে উঠলো দুঃখের বাতিদান। আলো হয়ে উঠলো
বারান্দার মেঝে ও বাগানের মাটি আর স্তব্ধবাক হয়ে রইলো মানুষের বোধশক্তি।
মানুষ বোধহয় আর মানুষ নেই  - হয়ে উঠেছে রূপকথার নিষ্ঠুর রাক্ষস সত্যি সত্যি।
কোনো দ্বিধা নেই। দুমড়ে মুচড়ে একটি অবোধ -কান্নার -ঢেউ বুকের গভীর থেকে
উঠে মুক্তি খুঁজছে ,ঝাপটাচ্ছে ডানা  - মানুষকে মানুষ করো ,হে ঈশ্বর।
                   

রাম ও রহিম






দেখিনি তো ওপাড়ায় কোনোদিন তোমার মুখের মতো মুখ ,
মনের ভেতরে এক নীলাকাশ ডানা মেলে  ,হতভম্ভ যেন সর্বভুক।
আমি দেখি ,এখনও জাগ্রত আছে আলোর সমুদ্র জুড়ে আমার খোরাকি ,
পেরিয়ে ছেষট্টি নদী ,কিছুই করিনি আমি ,কত যে রয়েছে পড়ে বাকি।

পড়ে আছে  কত ইট ,বালি ও পাথর আর সিমেন্ট-এ ভরা বস্তা গুলি ,
কিছু কাক কালো ডানা ,বসে বসে দেখে সব ,আমি চুষি সরস অঙ্গুলি।
আমি তো দেখিনি কিছু ,ওই মহাকাশে যত পড়ে আছে আলোকের ডিম -
যা ফুটে পায়রা হবে ,শাদা আলোকের মত -একই শরীর জুড়ে রাম ও রহিম।

                          ........................................


Saturday, 6 December 2014

ধানসিঁড়ি





এই সেই ধানসিঁড়ি নদী  -
যার বুকে আবেগের বিশাল জলধি।
ভালোবেসে যাকে সেই আর্তনাদী -কবি ,
আবার জন্মাতে চান , পূর্ণতার ছবি

চান তিনি পৃথিবীতে , এই বাংলায় ,
ডিমাপুর থেকে এই নদী ভেসে যায় ,
পেরিয়ে পাহাড় পথ সুপ্ত মরুভূমি  -
ধানসিঁড়ি হয়ে এই আমার হৃদয়ে আছ তুমি।

কেনো তুমি ধানসিঁড়ি  , কেনো নও যমুনা -বিলাসী ,
বেনারস -ছোঁয়া গঙ্গা -আমি তো তোমাকে ভালোবাসি।
ছোট হোয়ে আছ তুমি এই উষ্ণ তপ্ত ডিমাপুর-এ ,
তোমার চোখের ছোঁয়া ,আমার বুকের রোদ্দুরে।

খেলা করে যেমন জলের মাছ ,বনাঞ্চলে পাতা ,
তুমি এসে দাঁড়ালে আমার পাশে বিশ্ববিধাতা।
তুমি-ই আলোক তুমি মোমবাতি ,তুমি ধানসিঁড়ি ,
তোমার পায়ের কাছে চাঁদের নিভৃত প্রেম নিয়ে শুধু ফিরি।

                 .................................