Thursday, 30 April 2015

এ জীবন নদী নালা





এ জীবন নদী নালা ,এ জীবন দারুময় হোক ,
বিস্মিত চোখের ভিড়ে বৃষ্টি হয় ,আনন্দের মধ্যে থাকে শোক। 
বিভিন্ন আলোর কাছে , বিভিন্ন সময়ে গিয়ে জানিয়েছি প্রেম ,
পথ হোয়ে পথের ভেতরে হাঁটি ,গতিতে বিদ্যুত আছে ,কোথায় এলেম ?

বিছিয়ে রয়েছে পথে শুকনো ধূলো বিস্মৃতির ,পরম আদরে 
আমি তাকে ঝাঁট দিয়ে করি পরিষ্কার ওই আলো -ওঠা ভোরে। 
তুমি কি স্বপ্নে থাকো ,বৃষ্টির বিন্দুর মধ্যে হোয়ে থাকো জল ,
মন দাও এনে সাম্যে ,মোমের বাতির মতো 
                                       মন যেন হয় নাকো অযথা চঞ্চল। 

                     .......................................

প্রতিটি মুহূর্তে জন্ম , প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু






তুমি কি স্বপ্নের মতো বসে আছ আমার এই ঘুমে  ,
যখন চেতনা এসে অব চেতনতায় মেশে শূন্যে অনুভূমে 
বিস্মৃতির শেষে ,তুমি কি বাড়াবে হাত ভোরে ,আমি তাকে ছোব ,
স্মৃতিতে তোমার আমি ডুবে যেতে যেতে হই সুস্বাদু দ্রব। 

পাতার ভেতরে জল ,সঘন সবুজ রঙে ভিড় কোরে আছে ক্লোরোফিল ,
এখনও পাহাড় হোয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মন ,আজও সৃষ্টিশীল। 
কোথায় মাটির ঘুমে পথ কেটে অন্ধকারে আলো দেখে কেঁচো ,
প্রতিটি মুহূর্তে জন্ম ,প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু  - নভনীল হোয়ে তুমি বেঁচো। 

                     ..........................................

মুক্ত করো দ্বার





এ এক নতুন ভোর , দরজা খোলা  , এ কোনো নতুন সূর্য নাকি ,
বাড়িয়ে দিয়েছে হাত  , ও  করমর্দন কোরে যাবো নাকি সকলি একাকী ?
নাকি পড়ে থাকবো পথে  , ভোরের ফুলের মত সুগন্ধ বিলিয়ে  ,
তারপর যাবো চলে  , সর্বশেষ কথা বলে  , এই শেষ গর্বটুকু নিয়ে ?

এ তো কোনো গর্ব নয়  , এ তো পথ  , পথেরই তো শ্রম ,
এই -ই সর্বশেষ সত্য  , যা কিছু রয়েছে বাকি ,সব ভ্রান্ত ,সব কিছু ভ্রম। 
এ এক নতুন আলো , গায়ে মেখে নিয়ে তাকে ,আবার নতুন পথ চলা ,
অনেক না বলা কথা জমে আছে , পাথরের মত ,তাই শুরু হোক সব কথা বলা। 

আমাকে আহ্বান করে নিয়ে যাবে কোথায় নতুন দেশে ও কোমল ভোরের বাতাস ,
ভোরের পাখিরা এসে  ,ফুলের মতোন হেসে  , দিয়ে গেলো নতুন সুবাস। 
তুমি তো দাঁড়িয়ে আছ  , মুখের হাসিটি নিয়ে , আলোটির মত হোয়ে সম্মুখে আমার ,
চলো ,হাত ধরো সখা  , চলো সে গোপন পথে  , মুক্ত করো দ্বার  .

                         .....................................................

Sunday, 26 April 2015

আমার এ পৃথিবীর






এখনও গানের মত ,প্রজাপতিটির মত ,অনুভূতি এসে বসে বাগানের কোণে ,
কোথায় বাগান আছে  ,জানে শুধু প্রজাপতি  , জানে সে নরম মনে মনে ,
যখন সে উড়ে যায় ,একটি বাগান থেকে অন্য এক অনবদ্য ফুলের বাগানে ,
পাতাটির ভালোবাসা ,গাছের গন্ধ তাকে ,বুকের ভিতরে টেনে আনে। 

কত শত নিদ্রাহীন রাত কেটে ,মনের ভিতরে হেঁটে ,হোয়ে গেছে ভোর ,
ভোরের সুগন্ধ এসে ,পাখির কাকলি এসে ,দিয়েছে জড়িয়ে গায়ে গরম চাদর। 
আরামের ওম হোয়ে ,কতো না সকালবেলা ,বসেছে সে সকালের চায়ে ,
ধূমায়িত বন্দনায় এমন তরল গন্ধে তোমার স্বাদের হাত দিয়েছে বাড়ায়ে। 

আমার এ পৃথিবীর সমস্ত রন্ধ্র কোণ ,ধীরে ধীরে হোয়ে যায় আলো দিয়ে মাখা ,
দূরে আকাশের গায় নীরব আলোর শব্দে ,দেখি ওড়ে তোমার পতাকা। 
বিছানা বালিশ খাট ,বাগানের ঘাস মাঠ ,পাঁচিলের অণু পরমাণু ,
তোমার ছবিতে ভরা ,সব কিছু মিনে -করা ,ধীরে ধীরে মাটি ছোয় জাণু। 

                            .......................................... 

Saturday, 25 April 2015

বর্ষার মতন আজ স্মৃতিগুলি





বর্ষার মতন আজ স্মৃতিগুলি ঝরে পড়ছে ,রাস্তায় রাস্তায় মাঠে ঘাটে ,
তোমার জানালার কাছে থেমে আছে রৌদ্রগুলি ,আমার সকাল সন্ধ্যা কাটে 
হেঁটে হেঁটে পার হোয়ে সহস্র সহস্র নদী ,সমতল ভূমি আর বৃক্ষের সারি ,
দরজা খুলে দেখি বৃত্তে সরলরেখারা চলে ,সে অনন্ত দেশে দিতে পাড়ি। 

তুমি তো ঝরনার মত ,তুমি তো মেঘের মত ,দিতে পারো না চাইতে জল ,
কিম্বা দুধের মত শাদা এ জীবনখানি ,শাদা মেঘ নীলাকাশে ,
                                                        ঝরে পড়ে অহরহ অমৃত -তরল।
ডানা মেলে উড়ে যায় পাখিগুলি ,দূরে   ওই , যেখানে সীমার কাছে 
                                                                 আলো এসে দেখিয়েছে মুখ। 
আমারও তো আছে মন ,সেখানে অনেকক্ষণ বসে থাকি 
                                        যদি পাওয়া যায় দেখা 
                                                        আনারস -হলুদের মতোন উত্সুক 

কোনো ছবি ,কোনো এক পুরানো পাথরখন্ড ,
                                     যেখানে অতীত আছে দৃষ্টি মেলে গোপনীয়তায়।
সে সব আমাকে দাও ,হাত তো বাড়াও সখা ,
                                                   ওই দেখো ,সারি বেঁধে অনুভূতি যায়। 

                               .....................................  

আমি রুদ্ধশ্বাস





সমস্ত বিনিদ্র - রাত্রি এপাশ ওপাশ করি ,চিন্তা হোয়ে আছ জেগে প্রাণে  ,
বোতলে জলের মতো শীতল নিবিড় হোয়ে ভেসে তুমি এসেছো উজানে।
গাঙের ইলিশ হোয়ে মাছের বাজারে তুমি উত্তপ্ত কোরে রাখো হাওয়া  ,
ধনীর গোলাম হোয়ে বাঁধা পড়ে আছ তাই , তোমাকে আমার কাছে পাওয়া

হবে না কখনও কিম্বা কোনোদিন , ভাবি আমি নদীও কি জলের অধীন ?
নিদ্রিত হবার আগে সমস্ত মনপ্রাণ জুড়ে চিন্তা নাচে রাত্রি দিন ,
হাওয়ার উত্তাপে আসে কতো মায়া  , রঙিন পোষাকে আসে চোখের বিলাপে ,
হাতের ইঙ্গিতে ডাকে , আমি রুদ্ধশ্বাস হোয়ে বসে থাকি ,সমস্ত শরীর খানি কাঁপে।

                                 ......................................

Sunday, 19 April 2015

পৃথিবীটা রান্নাঘর





পৃথিবীটা রান্নাঘর , বেড়ালের আনাগোনা চলে ,
সন্ধ্যা যখন গিয়ে সারাটা দুনিয়া ঘুরে
                  সবাইকে সুন্দরী রাত্রির কথা বলে।
চাঁদ পড়ে যায় ঢলে ,ওপারের স্কায়স্ক্রাপারের মোটা কাঁধের উপরে।
রসুনের গন্ধ এলে ,মাংস কষার গন্ধ বৃষ্টির মত পড়ে ঝরে।

মুরগীরা এলোমেলো ,আড়ামোড়া ভেঙে ওঠে দোয়েলের ডাকে ,
সূর্যটা  উঠে এলো ,যখন জানলা খুলে আলো এসে ঢোকে ঝাঁকে  ঝাঁকে।
স্বপ্ন দেখার দিন হলো শেষ ,এখন শুধুই কাজ পরিষ্কার করা ,
পায়রার ঝাঁক ওড়ে ,চোখ ঢাকে তারা যারা ধরাটাকে ভেবেছিলো সরা।

পৃথিবীটা রান্নাঘর  - বাঘের গলায় শুনি বেড়ালের ডাক।
বাগান তো ফুলে ভরা ,ফুলের ও রূপ দেখে আমি তো অবাক।
চিরসখা বলে ডেকে ফাঁকা আওয়াজের জোরে যাবে তা কি পাওয়া ?
হৃদয় তো কালো হোয়ে অন্ধকার হোয়ে আছে
                                                          যেন পোড়া দৃষ্টিহীন তাওয়া।

                       ..........................................

দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক





দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক ,
আসে হাওয়া ,আসে আলো ,পরিচিত মুখ। 
যাবো ভাবলেই যায় যাওয়া ,
হঠাত কুড়িয়ে পাওয়া এক চিলতে রোদ্দুরের সুখ। 
দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক। 

আকাশে ওডায় ঘুড়ি  - ছেলেটা তো কাঁচা। 
জানেনা সঠিক কোরে  - কারে কয় বাঁচা। 
কতদূর যাওয়া যায় , অন্ধকারে পানের বরোজে ,
কখন কে খোলে চোখ ,কখনই বা বোঁজে ,
দেখেনি কে রান্নাঘর ,কে যে ভালো কুক ?
দরজাটা ভেঙে গেছে , ভাঙাই  থাকুক। 

ঝরে যায় শিউলিগুলো ,জুলজুলে দেখে হুলো ,
স্বপ্ন দেখে মাদা ,
চারিদিকে এ কেমন চটচটে কাদা। 
স্বপ্ন দেখতে  হয়  ভয় ,কাঁপতে থাকে বুক ,
দরজাটা ভেঙে গেছে ,ভাঙাই থাকুক। 

ওই দেখো ভেসে যাচ্ছে নদী দিয়ে জল ,
চারিদিকে কাঁপছে পা ,বুকটা টলোমল। 
রোদ্দুর তো চায় না কেউ ,
ডেকে আনে ঘোরালো অসুখ ,
হাত পেতে চায় টাকা ,গাড়ল ,উজবুক। 
দরজাটা ভেঙে গেছে ভাঙাই থাকুক। 

        ...............................

Saturday, 11 April 2015

ভুলে যেও হারানোর শোক





এ যেন পাখির মত ঘর ভেঙে চলে যাওয়া  , অন্য কোনো গৃহে সঙ্গোপনে ,
এ যেন অনন্ত তৃষ্ণা  , স্বপ্ন দেখা গভীর ঘুমের মধ্যে অবচেতনার কোণে কোণে। 
আমার এ অণু প্রাণ ,এ তো হতে চায় গান  , ছন্দের আকাশে ,
কোথায় কখন কবে ,পুচ্ছধারী পাখি হবে ,এ বাসনা পুঞ্জ মেঘের মত ভাসে। 


কেটে গেছে অন্ধকার , অগ্নি পরিশুদ্ধতার এ এক পবিত্র পরিধান ,
আমার শরীর জুড়ে ,এ অণুপ্রাণের সুরে ,এ কেমন আলোর সন্ধান। 
এ কথা কি জানো না কি ,আমার ভিতরে পাখি ,খুঁজে ফেরে হারানো পালক ,
খুব ভোরে যাই আসি ,আলো অন্ধকারে ভাসি ,ভুলে যেও হারানোর শোক। 


                        .................................................. 

আমার অনুজ ভাতৃবধু ,ভগিনীসম ,পিকুর অকস্মাৎ প্র্য়ানত্তর স্মরণে :- যেমন ছিলাম চিরদিন

অন্ধকার মেঘের পিছনে থাকে আলো , থাকে রোদের উজ্জ্বল ভালোবাসা  ,
ঝড় থেমে গেলে আজও উত্তাল সমুদ্র থেকে উঠে আসে প্রবিশুদ্ধ ভাষা।
অনন্ত শান্তির বায়ু ঝাউবন ভেদ করে উড়ে আসে কাছে অবশেষে  ,
আমি চাই আসি ফিরে  , সুস্থির স্বপ্নের মত পাখি হোয়ে তোমার ও মন ভালোবেসে।

পাখির মনের মত  , স্বাধীনতা চাই আমি , চাই আমি জীবনের সুশীতল ব্রহ্মপুত্র নদী ,
আকাশে ভাসাবো ডানা  , ভেদ করে যা অজানা , যাবো উড়ে অনন্ত অবধি  ।
একি শান্তি দেখি আমি  , চারিদিকে সব স্থির  , শুধু আলো অন্ধকারহীন  ,
তোমার মনের ওই খোলা জানালায় আছি , পাখির ও রূপ ধরে ,যেমন ছিলাম চিরদিন।

                                 ......................................................