Wednesday, 3 July 2019

বাংলা ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ২০১৯







এ ভাষায় গা ভাসায় যারা ,
মনের এ মূলে দেয় নাড়া।
বলে খোল  দোর  গৃহবাসী ,
আয় চলে এই রঙে ভাসি।
এ ভাষায় বলে যারা কথা ,
ভাঙে সব স্তব্ধ নীরবতা।

      .................

THE NEGRO SPEAKS OF RIVER



LANGSON HUGHES


I've known rivers :
I've known rivers ancient as the world
                                        and older than

The flow of human blood in human veins .

My soul has grown deep like the rivers .

I bathed in the Euphrates when dawn were young.
I built my hut near the Congo and it lulled me to sleep .
I looked upon the Nile and raised the pyramids above it .

I heard the singing of the Mississippi when Abe Lincoln
    went down to New Orleans and  I've seen it's muddy
    blossom  turn golden in the sunset .

I've known  rivers
Ancient dusky rivers

My soul has grown deep like the river .


Translation  in Bengali  on 3.7.2019 in Mumbai
............................................................................

কৃষ্ণকায় বলে নদীর কথা
......................................

আমি তো নদীকে চিনি ----
আমি তো নদীকে চিনি পুরাতন পৃথিবীর মতো ,
আমি তো নদীকে চিনি পুরাতন মানুষের রক্তের চেয়ে।

আমার জীবনাত্মা গভীর হোয়েছে ওই নদীদের মতো।

আমি তো সেরেছি স্নান ইউফ্রেটিসের বুকে শেষ কোরে কেলি।
যখন প্রভাত ছিলো নতুন যুবার মতো তেজী ,
আমি তো বেঁধেছি বাসা কঙ্গো নদীর  তীরে  , ঘুমিয়েছি মধুর বাতাসে।
আমি তো দেখেছি নীল নদীর গভীর দৃষ্টি , বানিয়েছি পিরামিড তাতে।
আমি তো শুনেছি গান মিসিসিপি নদীটির যখন ওই এব লিঙ্কন
নিউ অর্লিন্সে এসে খুলে দিয়েছিলো তার বুকভরা সোনা।
দেখেছি তো তার বুক সূর্যাস্তের মতো লাল।

আমি তো নদীকে চিনি
ধূসর প্রাচীন নদী

আমার জীবনাত্মা গভীর হয়েছে ওই নদীদের মতো।






Friday, 6 April 2018

নিমগাছ

বুকের ভিতর মৃত নিমগাছ খানি  ,
স্বার্থের বিষে মরে সে গিয়েছে জানি। 
জীবনের পথে কিছু কিছু ভালোলাগা  ,
চিরদিন শুধু বুকে দিয়ে যায় দাগা। 

কচি ফুলসাজ পরে কচি কচি পাতা ,
নিমগাছ যেন ছিল আমাদের মাতা। 
কত যে শালিখ চড়ুই দোয়েল পাখি ,
খেতো ফুল পাতা আমরা কি খোঁজ রাখি ?

রাখি না তো খোঁজ নিজের নিজেকে ছাড়া ,
নিজে নিজে বাঁচি পৃথিবীতে দিশেহারা। 
বুঝি সব মৃত যেন চেনা নিমগাছ ,
জীবন্ত যদি কেন তবে মৃতসাজ ?

শ্মশানে পুড়ছে মৃত নিমগাছ খানি ,
দাউ দাউ জ্বলে চিতা ,শাড়ি জামদানি। 
এলে সে নৌকা ছেড়ে যাবে পরিচিত ,
বুকের ভিতরে নিমগাছ খানি মৃত। 
..............................................

Thursday, 5 April 2018

জানলার ফ্রেমে চোখ রেখে ...................................

জানলার ফ্রেমে রেখে চোখ
হাতের চাপ দিয়ে লোহার গ্রিলে 
দেখছি রাস্তা দিয়ে ভাসানে যাচ্ছে লোক 
হাজার হাজার ,লক্ষ লক্ষ , কোটি কোটি। 
চারতলার ওপর থেকে 
জানলার ফ্রেমে রেখে চোখ 
আমি দেখছি।

গঙ্গার জল ভেসে চলেছে বঙ্গোপসাগরে ,
মিষ্টি জল থেকে নোনা জলে। 
ক্ষুদ্রায়তন থেকে অনন্তের বৃহদায়তনে। 
আকাশে ঘুরতে ঘুরতে শকুন যেমন 
চোখ রাখে লাশে ,
চোখের সামনে কাতারে কাতারে 
মানুষ চলেছে ভাসানে , বিসর্জনে। 
তুলশিপত্র , জবাফুল ভেসে যাচ্ছে জলে। 

ভাসান নাকি নতুন জন্ম 
ভাসান নাকি উত্থান !
ক্রুশবিদ্ধ হবার পরে পূনর্জাগরণ ?
রাশি রাশি ফুল ও বেলপাতা নিয়ে 
লম্বা লাইন ছেলে বুড়ো জোয়ানের 
গলি থেকে রাজপথের কুয়াশায় 
নিজেকে আহুতি দিতে 
কাতারে কাতারে চলেছে ভাসানে 
বাজনার সঙ্গে নাচতে নাচতে আর 
আমি দেখছি 
জানলার ফ্রেমে রেখে চোখ 
হাতের চাপ রেখে লোহার গ্রিলে। 

  ...............................

Wednesday, 5 July 2017

কান্না থামার গান




একটুখানি মজায় থাকা 
                      একটুখানি ছন্দ  ,
একটুখানি সবুজ হাওয়া 
                      একটু ফুলের গন্ধ। 

একটি দুটি ফুলকো রুটি 
                      কিম্বা একটু ভাত ,
এর বাইরে আর কি কি চাস ,
                       জ্যোৎস্নাভরা  রাত ?

এই চাওয়া তোর হচ্ছে না কি 
                      একটু সীমা ছাড়া ,
বসন্ত বায় দিচ্ছে হাওয়ায় ,
                      শুনছি কড়া নাড়া। 

দৌড়ে যাচ্ছি , বন্ধ সদর , 
                      হাট কোরে দি খুলে ,
শরীর  ও মন , বাগান সদন ,
                       যাক ঢেকে যাক ফুলে। 

ফুল কুড়িয়ে , শব্দ মেখে 
                       করবো এমন রান্না  ,
খেলেই পাবে জোর গায়ে সব ,
                       থেমেই যাবে কান্না !

           ........................

                      

প্রতি রোমে পলাশের লাল





কত নব কেমিক্যালে , কত রঙ , নতুনের রূপ নিয়ে সামনে দাঁড়ায় ,
গৃহের ছাতের পাশে পলাশের ফুলগুলি নিজেকে মার্জিত করে নব সভ্যতায়। 
কত নব ভৌত জ্ঞান , ছুঁড়ে ফেলে দেয় দূরে পুরাতন পোষাকের মায়া ,
নতুন রঙের  সাজে , কব্জিতে বেলফুল , হেঁটে যায় অলি গলি অলীক বেহায়া। 

তোমাকে উদ্দেশ্য কোরে আমার এই লেখা জোকা , নতুন মডেল ,
তুমি কি শুনেছো কিছু , জলভরা এ বাতাসে , ওগো মাদমোইজেল !
নাকি সব শব্দ গুলি বাক্য হোয়ে উড়ে যায় পশ্চিমের ঘাটে ,
তোমার এ অবহেলা,  ভালোবাসা নিয়ে খেলা , দুদিকেই কাটে। 

তবুওতো কত মাছি , সজিনার ফুলে এসে বসে সারাদিন ,
যদি কিছু পায় মধু , ভরা মাঠ  , নয় ধুধু , সময় নবীন। 
পদ্মের পাতায় এসে , আমার বুকের ভাষা , বসে ছদ্মবেশে ,
তোমাকে জানাতে চাই , প্রতি রোমে পলাশের লাল ওঠে হেঁসে। 

                    .......................................

Thursday, 15 June 2017

ভালোবাসার গান




দেহ আমার বাসাবাড়ি , এই বাড়িতেই থাকি ,
যেমন খাঁচায় বন্দী থাকে বনের টিয়াপাখি। 
এইটি আমার জগৎ , আমার পাড়া , আমার সমাজ ,
নেই তো আমার গির্জে যাওয়া , মন্দির নেই , নামাজ। 

আমিই তো সেই ঈশ্বর যে চালায় জগৎটাকে ,
প্রণাম করি তাঁকে আমায় খাওয়ায় যে সেই মাকে। 
ফসল ফলায় , বাজার করে , রান্নাঘরে ঢুকে 
সবার জন্যে রাঁধে , আমায় খাওয়ায় মনের সুখে। 

দেহ আমার ভাড়ার বাড়ি , মাস গেলে দিই ভাড়া ,
ঘোষ বোস আর মুখার্জি পাল - সবাই আমার পাড়ার। 
সকাল বেলায় আপিস করি , রাত্তিরে যাই ফিরি ,
সময় যে যায় , বয়স গড়ায় , চড়তে চড়তে সিঁড়ি। 

কোথাও বলে গুড নেবারহুড , কোথাও লোকালিটি ,
ট্রেন চলে যায় রেলের ওপর , মারতে মারতে সিটি। 
কেউ নেবে যায় স্টেশন এলে , কেউ যাবে গাঁ ফেলে ,
দূরের পাহাড় বড়োই টানে , মনের ডানা মেলে। 

পাড়ায় কোনো ঝগড়া নেই কো কিম্বা কথা বন্ধ ,
সবার চোখেই দৃষ্টি আছে , যে বোকা সে অন্ধ। 
ভালোবাসার রেশম সূতোয় বাঁধা সবার প্রাণ ,
এক নৌকোয় বেড়াই , করি ভালোবাসার গান। 

১৫.৬.২০১৭ ফ্লিন্ট উড প্লাজা , হার্নডন , ভার্জিনিয়া ,  USA .