Sunday, 20 November 2016

পূর্ণতা





তুমি আছো , তাই এতো আলো মেখে এসেছে সকাল ,
এতো গন্ধ , এতো ছন্দ , অশোক বকুল নিম বট পিয়াশাল।
বুকের ভেতরে রাখা এতটা বরফ কবে গলে হবে জল ,
বারান্দায় এসো পাখি , নদী হোয়ে যাবে নাকি , প্রমত্ত তরল ?

আমার এ অনুভূতি , ভরায় তোমার শ্রুতি , হেঁটে যেতে চাই ,
তোমার সংসর্গে যাবো , যথা ইচ্ছা তথা খাবো , অরণ্য তরাই।
কত যে হরিণ - মন বাঘে খেলো অচেতন , দেখেছে ঝর্ণারা ,
এই দূর অবকাশে , কত ছবি  স্মৃতি ভাসে , কত পথহারা।

সকলের হয়ে আছো , তাই তুমি চাল বাছো , সেদ্দ চালে ভাত ,
কে জানে কোথায় পাবো , কেন তুমি এতো ভাবো , নিঃসঙ্গ প্রভাত।
চলো যাই ইছামতি , নেই কোনো দাঁড়ি যতি ,শুধু বয়ে হাওয়া ,
এ যেন কি নেমন্তন্ন , খুঁজেছি তো তন্নতন্ন ,  যাবে সে কি পাওয়া ?

তুমি ঘোরো গেয়ে গান , বুকে এতো অভিমান , ঝরে পড়ে সুধা ,
ভিক্ষা চাও জনে জনে , তোমার কি পড়ে মনে , এ যেন কি ক্ষুধা।
শিরা দিয়ে যায় হেঁটে , কখনও সাঁতার কেটে  , ফোটে ঊজ্জ্বলতা ,
চলো গিয়ে বসি মাঠে , সময় যদি না কাটে , জমে আছে কথা।

এতো শব্দ , এতো বর্ণ , এতো পুষ্প , এতো পর্ণ , সবই তো তোমার ,
বাগান তো আছে ভরে , ঝরা পাতাগুলি পোড়ে , আগাছার ভার।
ঘুরে ঘুরে ওঠে ধোঁয়া , মনে পড়ে বীজ রোঁয়া , লকলকে ধান ,
চারিদিক ভরে তাই , কি যে চাই , কি হারাই , পূর্ণ হয় প্রাণ।

                 -------------------------------------


জ্বল - জোনাকি






কেউ জানেনা কোথায় যাবে ব্যস্ত এ বাস  ,
বাড়িই যাবে , নয়তো কোনো সুদূর প্রবাস।
আশ্যাওড়ায় গ্রীষ্মের এই দুপুর গড়ায়  ,
মোটর গাড়ির চাকায় সময় হুস করে যায়।

সবকিছুতেই লোক দেখানো স্বভাবটি তার ,
আজ কেন হায় নেই দেখা তার , রুদ্ধ দুয়ার ?
কাশ ফুটেছে লুরে কেভের নীল পাহাড়ে ,
ময়ূরভঞ্জি শাড়ির রঙটি নদীর পাড়ে।

চমক সবই প্রজাপতির ব্যস্ত ডানায় ,
জীবনযাপন লটকিয়ে যায় কাদায় পানায়।
হৃদকমলে মৌমাছিটি বসছে না যে ,
কোন সে সুরে ব্যস্ত সে আজ , কিসের কাজে ?

লোক পাহাড়ে যায় হাইকে তারই খোঁজে ,
একটু দেরি হলেই পদ্ম চোখটি বোঁজে।
ও বাস তুমি আকাশ পারে উড়বে নাকি ?
অন্ধকারকে মায়ায় ভরায় জ্বল - জোনাকি।

          --------------------------

Thursday, 10 November 2016

মাটি





বৃষ্টির জল এ তো নয় , এ তো প্রেম , ধুয়ে যায় মাটি ,
এ তো ধুয়ে দেয় সব , গাছের পাতার ধূলো , জনক্লান্ত এ বসতবাটি।
চোখের জলের রেখা , নদীর রেখার মতো , বয়ে যায় , রেখে যায় ছাপ ,
মেহগিনিটির মতো , শিরীষ গাছের মতো , পরিশ্রুত করেছে আলাপ।

এ যেন সমুদ্র ভাঙে , ভাঙে সৃষ্টির জল , জন্ম নেয় সময়ের শিশু ,
চেতনায় লেগে থাকে , রঙচটা দেওয়ালের গায়ে যেন যীশু।
আবছা তবু যায় বোঝা , ফুটে ওঠে অবয়ব , ধূসর জানলাখানি খোলা ,
আমার মনের ছাদে সারি সারি মত্ত পাখা , কোন পাখি দিয়ে যায় দোলা।

এ কেমন আগমণ , এ কোন নিষেধ ভাঙা রাজপথে গাড়ি যায় চলে ,
তবু কেন ল্যাজঝোলা ফিঙে এসে কেবলের তারে বসে এ দোলায় দোলে।
এ দোলে কি মিশে আছে মাদলের দোল যেন অরণ্যের গভীর সমাজে ?
ধীরে ধীরে  ফোটে রেখা , এ সব যায় না শেখা , হৃদয়ে তা বাজে।

কি এমন শব্দ ফোটে , বহু নারী এসে জোটে , যূথবদ্ধ নাচে ,
এ কি হরিণের দেশ , এ যে সুস্থ মোহাবেশ , টোপ খায় মাছে ,
কোন টোপ কোন মাছে গেল খেয়ে , জলে ভিজে , কোন দৃশ্য খাঁটি ,
বৃষ্টির জল পেয়ে  , শুকনো জমি পায় মজা , প্রণত তরল হয় মাটি।

                   ------------------------------------------




Wednesday, 9 November 2016

ধরণী




ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো বুকের ভেতরে ,
রক্তের গভীরে ঘামে , ধরণী তো পাখা মেলে ওড়ে।
স্বপ্নের ভেতরে শূন্যে , আকাশের নীলিমা - বাগানে।
ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো শব্দে - মোড়া গানে।

দীর্ঘ গাছ দাঁড়িয়েছে সারি বেঁধে রাস্তার দুধারে মাথা উঁচু ,
জীবন বিহ্বল   হয়ে হেঁটে যায় , আলো ভেবে , ও কালোর পিছু।
কৃষ্ণচূড়ার ফুল , সংগ্রাম মনে করে , ঝরে পড়ে মাঠে ঘাসে ঘাসে ,
ভেবেছে সে রক্তিমতা , একমাত্র পরিত্রাতা , গভীর আশ্বাসে।

ধূলি ওড়ে , ধূলি ওড়ে , ধরণীর ধমনীতে নদীর উচ্চ্বাস ,
শুধু তো প্লাবনে নয় , বাঁধা ঘাট ডুবে যায় যেন বারোমাস।
ভ্রান্তি ও ভুল অভিলাষে যেন আনে ডেকে শোকের আঘাত ,
জল ফোটে অবিরত , চাল ফোটে , বাড়া হয় ভাত।

ধরণী ধূলিতে নয় , ধরণী তো পাখা মেলে ওড়ে ,
ভেতরের অবকাশে , রক্তের গভীরে যেন শব্দের অক্ষরে।
ধ্বংসপ্রায় এ পৃথিবী , বীজের প্রসব হয়,  ধরণীর  ভিতে ,
কে কাকে ডেকেছে আজ , হাতের ইঙ্গিত দিয়ে ,বুকে টেনে নিতে।

             -----------------------------------------


Tuesday, 8 November 2016

আরা - একটি সুন্দরী পুতুলের নাম





ছোট ছোট নাক মুখ , ছোট ছোট পা ,
যে চা'বি , দেখতে পাবি ,  আয় ,দেখে যা। 

মুম্বায়ে থাকে যে সে , সাগরের কাছে  ,
বাড়ির সামনে পার্ক , টিয়া  বসে গাছে। 

বান্দ্রার কাছাকাছি মাহিমের পাড়া ,
অনিকা যদিও নাম , ডাক নাম আরা। 

দশমাসও হয় নি কো , যায়  ইশকুলে ,
হাসি মুখে আসে যায় , মা বাবাকে ভুলে। 

রেশমের মতো চুল ,পড়েছে যে কাটা ,
মাথা নেড়া  , নেই চুল  ,  শুধু সন্নাটা। 

সারেগামা গাইছে সে  , নাচ করে বসে ,
আঙুলকে বাসে ভালো , মুখে পুরে চোষে। 

ছোট ছোট জামা প্যান্ট , ছোট ছোট মোজা ,
পুতুল দেখতে চাও  - এসো  , ছেড়ে খোঁজা। 

কান্না টান্না থামে , বেড়ানোর নামে ,
এগলি সেগলি ঘোরো , যেকোনো সে ধামে। 

রুটি খায় , খায় ডাল , ইডলি বা দুধ ,
চাপাচাপি হোলে ফাটে , কান্না বারুদ। 

দিনগত ইতিহাস  , ভুলে যাবে সবই ,
মনের ক্যামেরা জুড়ে শুধু তারই ছবি। 

ছোট ছোট নাক মুখ , বড় হবে কালে ,
হবে স্মৃতি এ সময় , মেঘেদের জালে। 

             -------------------